আজ বৃহঃপতিবার, ১৬ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



স্মৃতিটুকু বড্ড কাঁদায়

Published on 04 February 2018 | 4: 12 am

:: নাহার সামস ::

সন্দ্বীপের ভয়াবহ নদীভাঙ্গনের নির্মমতার শিকার
আমার এই আমিকে খুঁজে পেতে
যুগের পর যুগ ছুটে চলেছি পিছনের পানে।।
আট বছর বয়সের হারানো স্মৃতিতে সামান্য কিছু সঞ্চয়। বাকীটা কজন মানুষের উপর ভরসা করে এগিয়ে যাওয়া।
অবশেষে বড় ভাইয়ের সহায়তায় সন্ধান পেলাম হারিয়ে যাওয়া খালার।
খালুর নামও মনে নেই।
রিটায়ার্ড ফুড ইনস্পেক্টর মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় ছুটে গিয়েছিলাম।
না আমার লিলি খালা মোমের পুতুলের মত সুন্দর।
এ তো সে নয়।
বললাম।
খালার নাম আর তার দু মেয়ের নাম জানি।
অতিশয় বৃদ্ধ ভদ্রলোক এবং তার স্ত্রী সন্ধান দিলেন তাদের বড় ভাই মজিবুল হক সাহেবের স্ত্রী আমার লিলি খালাম্মার।
টেলিফোনে কথা হলো।
নদী ভেঙ্গে যাবার পর হাতিয়ায় চলে গেছেন খালু।
আর ছোটনানা বাড়ি করেছেন চন্দ্রঘোনায়।
বেশি বিরক্ত করেছি বড়ভাই Anwarul Kabir Salim কে।
ওনার দাদুর ঘরে অনেক উঁচু খাটটায় উঠতে পারিনি।
এত ছোট ছিলাম।
অনেক যত্নে আমাকে নিয়ে গেছেন শিকড়ের কাছে।
শৈশবের সুবাসিত স্মৃতিটুকু পুঁজি করে হারানো আপনজন খুঁজে পাওয়া এতো সহজ কিছু নয়।
পরান আপা, ইরান আপা ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ ভাইঝি Jasmin Haque কে।
বাবার ফোন নং দিয়েছ তাই।
মামাতো ভাই শহীদ ভাইয়ের কাছে অনেক তথ্য পেয়েছি।
নানাবাড়ীর নাম ওয়ালীবাড়ি। বাটাজোড়া থেকেও দুরে।
ওনি গিয়েছেন ছোটবেলায়।
সময়ে অসময়ে অযথা বিরক্ত করেছি অনেককেই।
যাদের বিরক্ত করেছি ক্ষমা করবেন।
বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ বড়ভাই,
শহীদ ভাই
এবং জেসমিনের কাছে।
সময় হারিয়েছে সব আপনজন।
তবু সেই স্মৃতিটুকু বড্ড কাঁদায়।
মুখোমুখি দুবোন মাটির দাওয়ায়।
একজন টুকটুকে গোলাপী হাত বাড়িয়ে দেয়া আমার সুন্দরী লিলিখালা।
অন্যজন হলুদপরীর মত আমার মা।
ছোটবোন লিলির হাতে কাঁচের লাল নীল চুড়ি পরাতে পরাতে হেসে লুটিয়ে পড়ছেন।
পাশে আনির মা খালা বসে বসে তাদের কাণ্ড দেখে হাসছেন খুব।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন