আজ বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১২ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মহিলা কর্মকর্তাদের জন্য চালু হচ্ছে ড্রেসকোড – প্রশাসনে উইমেন নেটওয়ার্কের জরিপ শেষ পর্যায়ে

Published on 27 January 2018 | 4: 41 am

সিভিল সার্ভিসে কর্মরত মহিলা কর্মকর্তাদের জন্য শিগগির ড্রেসকোড হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে মতামত নিতে একটি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) উইমেন নেটওয়ার্ক। এটি মহিলা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি সংগঠন। যার সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, এনডিসি।

সূত্র জানায়, এ বিষয়ে নির্ধারিত একটি ছকে প্রয়োজনীয় মতামত নিতে সম্প্রতি প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠি দিয়েছেন বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের উপদেষ্টা সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের সচিব বেগম আকতারী মমতাজ। চিঠি পাওয়ার পর সিভিল সার্ভিসের সদস্যরা তাদের মতামত দেয়া শুরু করেছেন। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মতামত নিয়ে জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এরপর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে সমন্বিত প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের উপদেষ্টা সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের সচিব বেগম আকতারী মমতাজ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, বেশ কিছুদিন আগে তিনিই প্রস্তাবটি তাদের সংগঠনের সভায় উপস্থাপন করেছিলেন। এরপর সেটি গৃহীত হয়। পরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাবস্থায় ড্রেসকোড চালু করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে ডিও লেটার দেন। মাঠ প্রশাসনেও চিঠি দেয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। সবার কাছ থেকে অনেক সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি, সরকার বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার মতামত বিবেচনায় নিয়ে বিসিএস মহিলা কর্মকর্তাদের জন্য শিগগির ড্রেসকোড ঘোষণা করবে।

এদিকে প্রশাসনে কর্মরত বেশিরভাগ কর্মকর্তা প্রস্তাবটিকে খুবই সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কেউ কেউ যুগান্তরকে জানিয়েছেন, এটি আরও অনেক আগে হওয়া উচিত ছিল। একজন অতিরিক্ত সচিব প্রতিবেদককে বলেন, ‘যখন সচিবালয়ে লিফটে উঠি তখন আমার ও দর্শনার্থীর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। এমনকি পরিচিতি জানার সুযোগ না থাকায় সাধারণ কর্মচারীও আমাকে তার মতো একজন ভাবতে থাকলে ওই সময় কিছু বলার থাকে না। এ রকম বিব্রতকর অবস্থা সব স্থানে কমবেশি হচ্ছে। কিন্তু যদি ড্রেসকোড থাকত তাহলে এমন সংকট তৈরি হতো না।’

জরিপ সংশ্লিষ্ট ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশের জনগণ ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি অগ্রসর চিন্তা-চেতনাকে ধারণ ও লালন করে আসছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সব সামাজিক আন্দোলনে নারী-পুরুষ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের জনগণ ধর্মনিরপেক্ষতা, পরমতসহিঞ্চুতা ও সহমর্মিতার মূল্যবোধে লালিত। দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নারী-পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারও বদ্ধপরিকর। এ ছাড়া ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিভিল সার্ভিসে পুরুষ কর্মকর্তাদের জন্য আনুষ্ঠানিক ও দাফতরিক ড্রেসকোড নির্ধারিত আছে। পরবর্তী সময়ে মহিলা কর্মকর্তারা সিভিল সার্ভিসে যোগদান করলেও তাদের ড্রেসকোডের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি। অথচ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে তাদের (মহিলা কর্মকর্তা) সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ অবস্থায় মহিলা কর্মকর্তাদের জন্য ড্রেসকোড না থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিধেয় পোশাক সম্পর্কে তারা দ্বিধান্বিত থাকেন। এ কারণে ইদানীং তাদের পোশাকে বিভিন্ন ধারা লক্ষ করা যায়। সরকারি দফতরে মহিলা কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট ড্রেসকোড না থাকায় ব্যক্তিগত রুচি অনুসারে তারা পোশাক পরিধান করে থাকেন। এতে করে অনেক সময় কর্মকর্তাদের ব্যক্তিত্ব, পরিচিতি ও পেশাদারিত্ব যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাহিনীতে এবং পুলিশ সার্ভিসে বেশ কিছু মহিলা কর্মকর্তা যোগদান করেছেন। তারা বাহিনীর ও সার্ভিসের নির্ধারিত পোশাক পরিধান করছেন। এর ফলে তাদের সমস্যা হচ্ছে না।

ড্রেসকোডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে মহিলা কর্মকর্তাদের ব্যক্তিত্ব, পরিচিতি ও পেশাদারিত্ব যাতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় সে জন্য সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক এবং দৈনন্দিন দাফতরিক পোশাক থাকা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্য ও চিন্তা সমীচীন কিনা সে বিষয়ে অভিমত যাচাইয়ের জন্য বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জরিপের জন্য একটি নির্ধারিত ফরম দেয়া আছে। সেখানে নাম-পরিচয় উল্লেখ করে ২১টি প্রশ্নের বিষয়ে মতামত দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ড্রেসকোর্ড হিসেবে সিনিয়র, মধ্যম ও জুনিয়র পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য তিনটি ধাপে মতামত নেয়া হচ্ছে। শুধু মহিলা কর্মকর্তা নন, পুরুষ কর্মকর্তাদেরও মতামত দিচ্ছেন। সচিবালয় ছাড়া মাঠ প্রশাসন থেকেও মতামত আসছে।


Advertisement

আরও পড়ুন