আজ বৃহঃপতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল

Published on 25 January 2018 | 3: 23 am

দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে আজ বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ তফসিল ঘোষণা করবে। জাতীয় সংসদে বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা।

বৈঠক শেষে তিনি বলেন, আগামী ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইন অনুযায়ী তারা স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নির্বাচনের জন্য কমিশন সংসদ সচিবালয় এবং সংসদকে কী ধরনের সহযোগিতা করতে পারেন তা নির্ধারিত আছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তারা এসেছিলেন।

পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের খসড়া তফসিল নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তারা কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন। নির্বাচন আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্পিকার জানান, ইসির চাহিদা অনুযায়ী সংসদ ভোটার তালিকা সরবরাহ করেছে। ওই তালিকায় ভোটার হিসেবে ৩৪৮ জন এমপির তালিকা দেয়া হয়েছে। দু’জন এমপির মৃত্যুর কারণে তালিকায় নেই। বৈঠকে সিইসি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের সচিব ও দুই কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রাজধানীতে বুধবার অপর এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে পারে। তবে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবেন নির্বাচন কমিশন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. আবদুল হামিদ। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৩ এপ্রিল। ফলে সংবিধান অনুযায়ী, ভোট হতে হবে ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।

স্পিকার জানান, ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের সপ্তম ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী কর্মকর্তা নির্ধারিত দিন, সময় ও স্থানে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করবেন। প্রার্থী একজন হলে এবং পরীক্ষায় তার মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে ইসি।

সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় একবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

আইন অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা ভোটের আয়োজন করবেন। নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে নিজের সই দিয়ে তা জমা দেবেন সংসদ সদস্যরা। ভোটের দিন গ্যালারিসহ সংসদ কক্ষে প্রার্থী, ভোটার, ভোট নেয়ায় সহায়তাকারী কর্মকর্তা ছাড়া সবার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত থাকবে। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্তকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্পিকারের বৈঠক : এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। মঙ্গলবার রাতে সংসদ সচিবালয়ের স্পিকারের অফিসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় হয় বলে জানা গেছে। যদিও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দাবি করেছেন, এ ইস্যুতে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।

সংসদ অধিবেশন চলার মধ্যেই রাত ৯টার দিকে স্পিকারের দফতরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দিনের অধিবেশন শেষে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াও স্পিকারের কক্ষে ঢোকেন। বৈঠক শেষে সাড়ে ১০টার সময় বেরিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, সংসদের আগামী বাজেট, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সংসদ টেলিভিশনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাদের। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি জানান, বৈঠকটি গণভবনে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার অফিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত সংসদ সচিবালয়ের সার্বিক বিষয় নিয়ে বৈঠকটি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন- আইনমন্ত্রী : জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ ও সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ১৩৮তম প্রশিক্ষণ কোর্সে উদ্বোধন শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মাঝখানের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা মেন্ডেটরি। সেক্ষেত্রে ২৩ ফেব্রুয়ারির আগেই নির্বাচন হতে হবে। আমার বিশ্বাস নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল।’ বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কোর্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মাদ জহিরুল হক।

১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে কিনা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সে রকমই শুনেছিলাম। এখন বলছি এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। আমি আশা করি আমার কাছে যতটুকু তথ্য আছে নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে তাদের পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার ব্যাপারে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকরা নিশ্চয়ই বসবেন এবং মনোনয়ন দেবেন। এর কিন্তু একটা পদ্ধতি আছে। সে পদ্ধতি অনুসরণ করেই কিন্তু আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করবে। একটা নমিনেশন বোর্ড আছে। আমি সেই নমিনেশন বোর্ডের সদস্য নই। প্রধানমন্ত্রী সেই নমিনেশন বোর্ডের সভাপতি, উনারা যখন প্রার্থী বাছাই করবেন তখন ঘোষণা হবে কাকে নমিনেট করা হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, প্রধান বিচারপতির পদও খালি, সরকার কোন বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছে জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘সব নিয়োগ হবে। রাষ্ট্রপতি খুব শিগগিরই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।’

এর আগে অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিচার বিভাগকে আধুনিকীকরণের বিকল্প নেই। বিচারকদের উন্নত ও আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে তারা নিজেরাই বিচার বিভাগের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে ইসি ব্যর্থ নয়- সিইসি : স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর সংসদ ভবনে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন নিয়ে ইসি ব্যর্থ নয়। আইনগতভাবে ইসি নির্বাচনের তফসিল দিয়েছিল। কিন্তু আদালত যদি কারও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু করে থাকে, তাহলে ইসির কিছু করার নেই। তিনি বলেন, স্থগিতাদেশের সত্যায়িত কপি আজ (বুধবার) পেয়েছি। আলোচনা করে এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করা হবে। তফসিল ঘোষণার সময় অনেকে বলেছিলেন, আইনি জটিলতা রয়ে গেছে। তা নিরসন না করেই ইসি তফসিল দিয়েছে, এর দায় ইসির কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ইসির তিনটি কাজ। সেগুলো হল নির্বাচন করা, তফসিল ঘোষণা করা, আরেকটা হল নির্বাচনের কেন্দ্র ঠিক করা। সীমানা নির্ধারণ করা, কখন নির্বাচন হবে- এগুলো ঠিক করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইসি নির্বাচন আয়োজন করে। সিইসি দাবি করেন, ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ভোটার তালিকা সঠিক আছে।

তাহলে এ জটিলতার কারণে স্থানীয় সরকার দায়ী কিনা- এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকারের বক্তব্য না শুনে তাদের দোষারোপ করতে পারি না।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন