আজ মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



দলের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই বিএনপি নির্বাচনে আসবে

Published on 25 January 2018 | 3: 20 am

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, দলের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসবে। অন্যথায় তারা মুসলিম লীগে পরিণত হবে।

তারা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে।

গত ৯ জানুয়ারি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন তা সমর্থন করেন।

গত ৭ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের ১৯তম ও বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংসদে এ ভাষণ দেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বুধবার ১২তম দিনে সরকারি দলের মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীরউত্তম), এ. কে. এম. এ আউয়াল (সাইদুর রহমান), সাধন চন্দ্র মজুমদার, খন্দকার আজিজুল হক আরজু, ফরিদুল হক খান, মাহবুব আলী, কাজী রোজী, ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা ও টিপু সুলতান আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, আগামী নির্বাচনে না আসলে বিএনপি মুসলিম লীগে পরিণত হবে। তারা বলেন, আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

তারা বলেন, রাষ্ট্রপতি ভাষণে দেশে বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্যসহ সার্বিক উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি তার ভাষণে দেশের উন্নয়নের যথাযথ ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের বিদ্যুৎ, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, নৌপরিবহন খাতসহ প্রতিটি খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। দেশের উন্নয়নের প্রতিটি সূচক এখন উর্ধ্বমুখী।

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মাদার অব হিউমিনিটি উপাধি পেয়েছেন উল্লেখ করে সদস্যরা বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন।

জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনি উল্লেখ করে তারা বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসিত করেছেন। এতেই প্রমাণিত হয় তিনি বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছেন, এ ব্যাপারে আর কোন সাক্ষী প্রমাণের প্রযোজন নেই।

তারা বলেন, গ্রাম থেকে শহরে দেশের সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। দেশের সুষম উন্নয়নে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে।

সংসদ সদস্যরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে আবির্ভূত হবে। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সব খাতেই ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এ বিষয়টি আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। এদেশের উন্নয়ন এখন বিশ্বের মানুষের কাছে এক বিষ্ময়কর বিষয়। শেখ হাসিনার সাফল্যে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ কর্তৃক প্রশংসিত।


Advertisement

আরও পড়ুন