আজ সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ ইং, ১১ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



লঙ্কাকে উড়িয়ে ফাইনালে মাশরাফিরা: ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে জয়

Published on 20 January 2018 | 7: 27 am

বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডবের দাপটের কাছে মাথা নোয়ালো হাথুরুর শ্রীলঙ্কা। শারীরিক ভাষায় তেজদীপ্ত বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পায়নি লঙ্কানরা। ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমরা তাণ্ডব চালিয়েছেন। বোলিংয়ে সাকিব-মাশরাফি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন লঙ্কানদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড। ম্যাচের পরতে পরতে ছিল টাইগারদের চ্যালেঞ্জ জয়ের তৃপ্তি। আহত বাঘের হিংস্রতা টের পেলেন হাথুরুও। মাঠে লঙ্কান ক্রিকেটারদের আসলে আড়ালে সাবেক কোচকেই জবাব দিয়েছে মাশরাফি বাহিনী।

গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যা ওয়ানডেতে যে কোনো দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রানের ব্যবধানে জয়। আর ১০৭তম ওয়ানডে জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও চলে গেল বাংলাদেশ। টানা দুই জয়ের সঙ্গে বোনাস পয়েন্ট (১০) মিলে ট্রফি জয়ের মঞ্চে খেলা নিশ্চিত করলো টাইগাররা।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা অধিনায়কের তকমা আগেই পেয়েছেন মাশরাফি। গতকাল ২৯তম জয় এলো তার নেতৃত্বে। মাশরাফি বসলেন হাবিবুল বাশারের পাশে। ওয়ানডেতে ২৯টি জয়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় দলের বর্তমান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক।

প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ করেছিল সাত উইকেটে ৩২০ রান। বাংলাদেশের বোলিং তোপে উড়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। ৩২.২ ওভারে ১৫৭ রানে অলআউট হয় হাথুরুর শীষ্যরা। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা হন সাকিব।

৩২১ রান তাড়া করতে নামা শ্রীলঙ্কা পুরো ইনিংসেই ছিল ‘থরথর’ কম্পমান। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই কুশল পেরেরাকে (১) বোল্ড করে বাংলাদেশের শিকার কাব্য রচনা শুরু করেন নাসির। পরে মাশরাফির জোড়া আঘাতে ফেরেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়া উপুল থারাঙ্গা ও কুশল মেন্ডিস। থারাঙ্গা ২৫, মেন্ডিস ১৯ রান করেন। ডিকওয়েলাকে (১৬) বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। দলীয় ১০৬ রানে সাকিবের ক্ষিপ্র গতির থ্রোয়ে অধিনায়ক চান্দিমাল রান আউট হওয়ার পরই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে লঙ্কানরা। তিনি ২৮ রান করেন।

পরে সাকিবের টানা তিন শিকারে জয়ের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। গুণারত্নে ১৬, থিসারা পেরেরা ইনিংস সর্বোচ্চ ২৯, হাসারাঙ্গা শূন্য রানে আউট হন। শেষ দিকে লঙ্কানদের ইনিংসের লেজটা গুটিয়ে দেন রুবেল। সাকিব ৪৭ রানে তিনটি, রুবেল-মাশরাফি দুটি করে, মুস্তাফিজ-নাসির একটি করে উইকেট নেন।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের গতিপথ গড়ে দিয়েছে তিন হাফ সেঞ্চুরি। তামিম, সাকিব ও মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে ছিল মাহমুদউল্লাহ, বিজয়, সাব্বিরদের কয়েকটি মাঝারি ইনিংস। টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ ভালো সূচনা পায় তামিম-বিজয়ের ৭১ রানের ওপেনিং জুটিতে। এ জুটি বিচ্ছিন্ন হয় বিজয় ৩৫ রান করে আউট হলে।

বিজয় ফিরলেও বাংলাদেশের রানের ফল্গুধারা থামেনি। বরং দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সেটি আরও বেগবান হয় সাকিব-তামিমের ব্যাটে। তারা ৯৯ রানের জুটি গড়েন। সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল দুজনের সামনেই। কিন্তু তামিম ক্যারিয়ারের ৪০তম ও সাকিব ৩৬তম হাফ সেঞ্চুরি করে থেমেছেন। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ৮৪ রানে (৭ চার, ২ ছয়) কাটা পড়া তামিম তিন ফরম্যাট মিলে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন এদিন।

তৃতীয় উইকেটে সাকিব-মুশফিকের জুটিও যোগ করেছে ৫৭ রান। লঙ্কান বোলারদের উপর চড়াও হওয়া সাকিব গুণারত্নের বলে কট এন্ড বোল্ড হওয়ার আগে ৬৩ বলে খেলেছেন ৬৭ রানের (৭ চার) ইনিংস। তবে এদিন তিন ফরম্যাটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়েছেন এ বাঁহাতিও। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মুশফিক তুলে নেন ২৮তম হাফ সেঞ্চুরি। থিসারা পেরেরার বলে বোল্ড হওয়া মুশফিক করেন ৬২ রান (৪ চার, ১ ছয়)।

তামিম-সাকিব-মুশফিকদের ব্যাটে তৈরি হওয়া সাড়ে তিনশো রানের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহর ২৪, সাব্বিরের ১২ বলে ২৪ রানের ক্যামিওতে তিনশো পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। শ্রীলঙ্কার থিসারা পেরেরা তিনটি, নুয়ান প্রদীপ দুটি, ধনাঞ্জয়া-গুণারত্নে একটি করে উইকেট পান।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন