আজ বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ ইং, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বিশ্ব ইজতেমার লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায় : দ্বিতীয় পর্বের কার্যক্রম শুরু

Published on 20 January 2018 | 7: 19 am

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দিনে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজকে ঘিরে সকাল থেকেই টঙ্গীর তুরাগ তীরে অগণিত মুসল্লির ঢল নামে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে জনস্রোত। জুমার নামাজ আদায় করতে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। তীব্র যানজট থাকায় অনেকেই দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে এসেছেন। নামাজ শুরুর আগেই সমগ্র ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের রাস্তাঘাট কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। তিলধারণের ঠাঁই ছিল না প্রায় ১৬০ একর জমিতে তৈরি করা বিশাল ছাউনির নিচে। জায়গা না পেয়ে বহু মুসল্লি পাকা রাস্তায় খবরের কাগজ ও পলিথিন বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন।

জুমার নামাজের ইমামতি করেন বাংলাদেশের কাকারাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের। গতকাল ইজতেমা ময়দানে লাখো মুসল্লির সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন স্বরাস্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক প্রমুখ।

জুমার নামাজের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ইজতেমায় দিল্লির মারকাজের মাওলানা সা’দ ইস্যুর কোনো প্রভাব পড়েনি। দেশের লাখো মুসল্লির পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চার হাজারের অধিক বিদেশি মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ইজতেমায় নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করেছে।  এদিকে গতকাল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, কালীগঞ্জ সড়ক ও আশুলিয়া-সাভার সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন মুসল্লিরা। বাস, মিনিবাস, ট্রাক, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকে। ইজতেমায় আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি­ এ সময় হেঁটে ইজতেমাস্থলে আসেন। জুমার নামাজের পরও মুসল্লিদের প্রচণ্ড ভিড় থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

গতকাল ফজরের নামাজের পর বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের কার্যক্রম শুরু হয়। বাদ ফজর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক। বাদ জু’মা ভারতের মাওলানা শেখ আহমেদ মাসুদ, বাদ আছর- ভারতের মাওলানা ইউনুস পালনপুরী ও বাদ মাগরিব- ভারতের হযরত মাওলানা আকবর শরীফ বয়ান করেন বলে জানান বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ গিয়াস উদ্দিন।

বয়ানে বিশিষ্ট আলেমগণ বলেন, পরকালের চিরস্থায়ী সুখ শান্তির জন্য আমাদের প্রত্যককে দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বীনের দাওয়াতের কাজে কঠিন মেহনত করতে হবে। ঈমান আমলের মেহনত ছাড়া কেউ হাশরের ময়দানে কামিয়াব হতে পারবে না। বয়ানে বলা হয়, আমরা যা করবো আল্লাহকে রাজি করার জন্য করবো। আল্লাহ পাকের হুকুম মতো আমরা যেন সারা জীবন চলতে পারি সে চেষ্টা করতে হবে।

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে ৮৩টি দেশের ৩ হাজার ৯৭৮ জন বিদেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন বলে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে। এ পর্বে বিশ্ব ইজতেমার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আম ও খাস বয়ান, তালিম, তাশকিল, ৬ উছুলের হাকিকত, দরসে কোরআন, দরসে হাদিস, চিল্লায় নাম লেখানো, নতুন জামাত তৈরি। আগামী ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা।


Advertisement

আরও পড়ুন