আজ রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ০৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



শত বছরের ধারাবাহিক রোহিঙ্গা শরণার্থী নাটক

Published on 15 January 2018 | 11: 02 am

আকতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোহসীন

মায়ানমার, রাখাইন, রোহিঙ্গা নিয়ে বেশ কয়েকটি লেখা প্রকাশ হয়েছে । তাতে কেবল আমার ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন করেছি । তাতে ভুল ত্রুটি থাকতে পারে । তবে প্রকাশ কতটা করতে পেরেছি জানিনা, কিন্তু মুল সারমর্ম কিন্তু তাই চলছে এবং ঘটছে । রোহিঙ্গাদের নিয়ে আর তেমন লেখারও ইচ্ছা নেই । কারন পরীক্ষার আগে পড়ার সম্পর্কে বলা চলে, পরীক্ষার সময় মণযোগ সহকারে লেখার কথা বলা যেতে পারে, পরীক্ষার পর নাম্বার পাওয়ার সম্ভাবনা যদি অনুমান করা যায়, তবে আর কিছুই বলার থাকে না । তখন কেবল খুশী হলে আনন্দ করার কথা, আর দুঃখ পেলে মুখ ভার করে থাকার কথা। তাছাড়া নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলা কথা, সে খানে আর কিইবা করার থাকবে ? আপাতত ধরে নিচ্ছি রোহিঙ্গা সম্পর্কিত এটাই শেষ লেখা । বিশেষ কোন কারন আর প্রসঙ্গ যদি না পালটায়, তবে এটাই শেষ লেখা হয়ে যেতে পারে । আজ লিখছি রোহিঙ্গা শরণার্থী নাটক নিয়ে ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে রোহিঙ্গা নাটকের শুরু হয় । আজও বিভিন্ন পর্যায়ে একশন, ড্রামা, ক্লাইমেট ইত্যাদি সহকারে ধারাবাহিক ভাবে এ নাটক চলছে । এ নাটক ধারাবাহিক আকারে কখনও দৈনিক, কখনও সাপ্তাহিক, কখনও মাসিক, কখনও বার্ষিক, কখনও যুগান্তর পর্যায়ে চলছে । দীর্ঘ দিন ধরে বিশ্ববাসী এ নাটকের নীরব দর্শক । এ নাটক মায়ানমার তৈরি করলেও এর দর্শক কিন্তু বাংলাদেশ শুধু একক দেশ নয় । কখনও প্রতিবেশী দেশ সমূহ, আবার কখনও সারা বিশ্ব ব্যাপি এর দর্শক হয়েছে । খুব সাধারণ দর্শক হিসাবে যার যে ভাবে মন্তব্য করার কথা সে সেভাবে মন্তব্য করেছে, করছে এবং করবে । অপর দিকে এখনকার মত চিরকাল রোহিঙ্গাদের পক্ষে ভাষ্যকারের অভাব হবে না । তখন বাংলাদেশের পক্ষে ভাষ্যকার খুজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে । কেন না বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ এখনই মায়ানমারের পক্ষে আছে, অপর দিকে বাংলাদেশকে মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে বিবেচনা করা হয় । সারা বিশ্ব যখন ধীরে ধীরে মুসলিম বিদ্বেষী বলে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না ।

রোহিঙ্গা শরণার্থী নাটকের সারমর্ম রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতারন । সেটা শুরু হয়েছে সেই অনেক আগ থেকে । কিন্তু এ নাটকের যবনিকার জন্য মায়ানমার সরকারের পরিকল্পনার অন্ত নেই । অনেক পরিকল্পনা করে, অনেক দৃশ্যের অবতারনা করেছে । তাতে অনেক সময় সাফল্যটা বেশ ভাল হয়েছে, আবার অনেক সময় কাঙ্খিত সাফল্য পায়নি । কিন্তু নাটকের ধারাবাহিকের বন্ধ না করে ধারাবাহিক চালিয়ে গেছে । যখন বুঝতে পেরেছে নিজেদের কলা কুশলীদের নিয়ে নাটকের শুরু করলেও সমাপ্তির জন্য অন্যদের সাহায্য প্রয়োজন তখন অন্যদের সাহায্যও নিয়েছে । মনে হচ্ছে তাঁরা সাফল্যের দিকে অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছে । খুব শীঘ্রই তাদের ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গা নাটক আর পরিচালনা করার প্রয়োজন হবে না । কারন নাটকের পুরো অংশটাই যখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে তখন নাটক পরিচালনার দায়িত্বটা স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশেরই হবে ।

তাহলে পরবর্তী রোহিঙ্গা নাটকের বাকী ধারা বাহিকগুলো বাংলাদেশকেই পরিচালনা করতে হবে । তখন হয়তো তাঁরা (নাটকের সুচনাকারী মায়ানমার) আমাদের পরিচালিত ধারাবাহিক রোহিঙ্গা নাটকের দর্শক হয়ে দেখবে । সাথে নিবীর দর্শক হবে যাদের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে নাটকের দায়িত্ব পরিবর্তন করেছে তারাও (প্রযোজ্য বাইরের দেশসমূহ) । অথচ তখন বাংলাদেশের মত শান্তি প্রিয় রাষ্ট্রের পক্ষে কিছুই করার থাকবে না । যেমনটা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে । কারন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য অবস্থিত শরণার্থী নামের বিষ ফোড়া, আর মায়ানমারের জন্য বিতারিত জনগোষ্ঠী । মুখে মায়ানমার যাই বলুক মুলত রোহিঙ্গাদের বিতারিত করার জন্য তাদের এ নাটকের সুচনা হয়েছিল । সেটা নাটকের চরম মুহূর্তে মায়ানমারের অবস্থান, বিবৃতি, সংলাপ ইত্যাদি দেখে, শুনেই বুঝা গেছে । ব্যপারটা কারও বিশ্বাস হোক বা না হোক এটাই সত্য । বাংলাদেশও জানে, কিন্তু কূটনৈতিক শিষ্টাচারের কারণে বাংলাদেশ আমার মত বলতে পারছে না ।

আগের পর্বগুলো সবাই ভাল করে দেখেছেন তাই সামনের পর্বগুলো বুঝাতে সহজ হবে । বর্তমানে শুরু হয়েছে ফেরত নেয়া পর্ব । চলুন দেখি যদি সংলাপ আকারে বলি তাহলে কেমন হয়,
বাংলাদেশ আমাদের রোহিঙ্গা আমাদেরকে ফেরত দেয়ার জন্য সারা বিশ্বে জন্মত তৈরি করে চলছে । এখন আমাদের উপায় কী ? এভাবে চলতে থাকলে যে আমরা বিশ্বে এ ঘরে হয়ে যাব ।
তোমরা বহু দিন ধরে এক ঘরে হয়ে ছিলে । তাতে তোমাদের কি ক্ষতি হয়েছে ? আমরা তোমাদের উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছি । আমরা এতগুলো দেশ তোমাদের পিছনে আছি, এত ভয় কিসের ? আমাদের অসম্মতির কারণে তোমাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক কেন খোদ জাতিসংঘও কোন পদক্ষেপ নিতে পারবে না । সুতারাং কোন বাংলাদেশের জনমত নিয়ে চিন্তা না করে নিজেদের কাজ নিজেরা কর ।
কিন্তু আমাদের কিছু একটা করা উচিত । নয়তো বিশ্ব আমাদের নিন্দা করতে ছাড়ছে না । এমন কি আমাদের সম্মান পর্যন্ত হারাতে হচ্ছে । এমন অবস্থায় চুপ করে বসে থাকলে চলে না ।
সম্মান ধুয়ে কি পানি খাবে ? যে ভাবে বলছি সে ভাবে চল । আমাদের কথার বাইরে একদম চলার চেষ্টা করবে না । বুঝতেই পারছ যে কাজ করেছ তাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আদালতে দাঁড়াতে হবে, জেল হবে/ ফাসিও হতে পারে । রোহিঙ্গাদেরও ফেরত নিতে হতে পারে, সে কথা মনে রাখবে কিন্তু ।
তাতো মনে রাখতেইক হবে ।

আন্তর্জাতিক চাপ আর বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক সুন্দর রাখার জন্য কিছু একটা বলা দরকার । তাই প্রস্তাব দেয়া হয় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার । রোহিঙ্গা তাদের অধিবাসী কিন্তু তাঁর জন্য বাংলাদেশের কাছ থেকে তালিকা চাওয়া হয় । দেয়া হয় পুরনে অসম্ভব কিছু শর্ত । তবুও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে তালিকা তৈরি করতে করতে কিছু সময় অতিক্রম হবে । বিশ্ব জানবে রোহিঙ্গা শরণার্থী ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । বাংলাদেশ শরণার্থী রোহিঙ্গাদের তালিকা করতে উদ্যোগ নিতে বাধ্য । নয়তো তাঁরা সারা বিশ্বকে জানাতে দেরী করবে না যে, “তাঁরা (মায়ানমার) রোহিঙ্গাদের নিতে চাইলেও বাংলাদেশ গড়িমসি করছে । তাঁর মানে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের কোন স্বার্থ নিহীত আছে” । সুতারাং কূটনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ বাধ্য মায়ানমারের যে কোন প্রস্তাবে রাজী হতে । দেশের মানুষ, বিদেশের মানুষ, খুব সচেতন, মানবাধিকার কর্মী আরও যত কেউ আছেন তাঁরা এটা নিয়ে অনেক আলোচনা, সমালোচনা করতে পারবেন, কারন তাঁরা বাংলাদেশের সরকার কিংবা বাংলাদেশ নয় । বাংলাদেশের সরকারকে এখন অনেকটা বলির ফাটার অবস্থা বললে ভুল হবে না । ধারা বাহিক নাটকের দৃশ্যের পর দৃশ্য চলছেতো চলতে থাকবে ।

বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের সংলাপ শুনে মায়ানমারের সামরিক জান্তাদের অবাক হওয়ার কথা । তাদের প্রশ্ন থাকতে পারে তাঁরা (সামরিক জান্তা) নিজেরা উদ্যোগী হয়ে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সাথে নিয়ে রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়া করেছে, এখন মায়ানমার সরকারের আবার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার এমন উদ্যোগ কেন ?
এত উৎকণ্ঠিত হওয়ার কিছু নেই, শুধু দেখে থাক । বলেছি বলে ফিরিয়ে নিয়ে আসছি এটা মনে করার কোন কারন নেই । এমন সব শর্ত জুড়ে দেব যাতে রোহিঙ্গারা কেউ আসতে না পারে । তাছাড়া যে ভাবে নির্যাতন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ করে তাদের তাড়ানো হয়েছে, তাতে আরও কয়েক বছর তাদের মণ থেকে সেই ভয় যাবে না । আপাতত তাঁরা কেউ আর এদেশে আসার সাহস করবে না । তোমাদের কাজ শুধু দেখে যাওয়া । তাছাড়া মুরুব্বীদের আদেশ শুনতে আমরা বাধ্য । নয়তো সারা জীবন সবাইকে কারা ভোগ করতে হবে । এমন কি ফাসির রশিতেও ঝুলতে হতে পারে ।
তাহলে তাঁরা (রোহিঙ্গারা) আসছে না, এ প্রস্তাব কেবল ফিরিয়ে আনার একটা নাটক মাত্র । যাক কিছুটা চিন্তামুক্ত হলাম । তবে যাদের পরামর্শে এটা করেছি তাঁরা যেন অখুশী না হয় ।
সে দিকে আমাদের সবার খেয়াল আছে । তোমাদের কারণে সারা জনম নির্বাসনে কাটালাম, দেশেও বহুকাল গৃহবন্দী করে রাখলে, আমার সে কথা ভাল করে মনে আছে । মুরুব্বীদের আশীর্বাদ আর পরামর্শে আমি কি করছি তা তোমাদের বুঝতে হবে না । নিজের মান সম্মান পুরস্কার সবই কেড়ে নিচ্ছে, তবুও ধৈর্য ধারন করে আছিতো তোমাদের ইচ্ছা পুরনের জন্য । একটা রোহিঙ্গাও না আনার চেষ্টা করে যাব ।

রোহিঙ্গাদের নাটকের বিশেষ কাহিনী হচ্ছে ঐ জায়গাটা মুরুব্বীদের খুব প্রয়োজন, তাঁরা রাখাইন ব্যবহার করবে । তাঁরা (মুরুব্বীরা) কিছুতেই সেখানে রোহিঙ্গা ফিরে আসুক তা চাইছে না । সুতারাং রোহিঙ্গাদের যদি দু’ একজন ফিরিয়ে আনতে হলেও তাদের জন্য শরণার্থী ক্যাম্প তৈরি করা হবে । তাদের নিজ বাড়ি ঘর রাখিনি সুতারাং তাদের সেখানে ফিরিয়েও নেয়া হবে না । রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কিছুতেই আন্তর্জাতিক শরণার্থী শিবির থেকে কখনও মায়ানমারের শরণার্থী হতে চাইবে না । সুতারাং তারাও এত সহজে আসবে না । তাছাড়া তাদের অত্যাচার, অবিচার, নির্যাতন, ধর্ষণ, অগ্নি সংযোগ ইত্যাদির কথা ভুলে যাওয়ার কথা নয় । তাদের পাঠাতে চাইলেও তাঁরা আসতে চাইবে না । সারা বিশ্ব এখন বাংলাদেশের দিকে তাকাচ্ছে না, তাকাচ্ছে রোহিঙ্গাদের দিকে । আমাদের একশন এমন ছিল যে, সবাই তাদের নিরাপদ আবাসের কথা বলতে বলতে বছরের পর বছর চলে যাবে ।

কিছু দিন পরের দৃশ্য । বাংলাদেশ সবসময় চেষ্টা করবে রোহিঙ্গাদের পাঠাতে, তাই মায়ানমারের সংকেত মোতাবেক তাদের তৎপরতা চলতে থাকবে । বিশ্ববাসী বর্তমানে রোহিঙ্গাদের নিয়ে অনেক আবেগ দেখাচ্ছে, কিন্তু দিন কয়েক পর আস্তে আস্তে মানুষের আবেগ ক্মতে থাকবে । কয়েকদিন পর বোঝা হিসাবে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে । তারাও ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাবে । সারা বিশ্বের শরণার্থী সমস্যার সমাধান এমনই দেখা গেছে । এভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকবে, চলুক । এবার মায়ানমার ত্যাগ করে রোহিঙ্গাদেরও বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করতে থাকবে, তখন হয়তো তাঁরা আমাদেরও সাহায্য চাইতে পারে, এ দেশের পুরানো বাসিন্দা হিসাবে তখন না হয় বাংলাদেশের সাথে ওকালতি করা যাবে ।

তাঁর কিছু দিন পরের দৃশ্য । বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের বলবে, মায়ানমার তোমাদের ফিরিয়ে নিতে চাইছে তোমরা যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হও । তখন রোহিঙ্গাদের সেই বিভিশিখাময় দৃশ্য মনে হবে । তাঁরা কিছুতেই সাহায্য সহযোগিতা বাদ দিয়ে সুন্দর জীবন ছেড়ে অত্যাচার আর নির্যাতন সইতে কিছুতেই মায়ানমার যেতে চাইবে । তাদের হাত পা বেঁধেও পাঠানো যাবে না । বাংলাদেশের কথা কেউ শুনবে না, শুনবে রোহিঙ্গাদের কথা । জোর করে পাঠানো মানবতায় পড়বে না, সুতারাং বাংলাদেশ মায়ানমারের মত নির্যাতন, অত্যাচার করে তাদের পাঠাতে পারবে না । নাটকের শুরু হবে দর কষাকষির দৃশ্য । যে খানে হয়ত আন্তর্জাতিক বিশ্বও যুক্ত হয়ে যেতে পারে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না পাঠানোর জন্য । শান্তি প্রিয় বাংলাদেশকে তা মেনে নিতে বাধ্য হতে হবে ।

রোহিঙ্গারা ধীরে ধীরে ধাঁতে পৌছুতে থাকবে । এক সময় তাঁরা তাদের একটা অধিকার দাবী করবে। স্থানীয়দের সাথে তাদের সংঘাত হতে পারে । অথচ তখন স্থানীয় জনগোষ্ঠী হয়ে যাবে সংখ্যা লঘু আর রোহিঙ্গারা থাকবে সংখ্যা গড়িষ্ট । খুব স্বাভাবিক ভাবেই রোহিঙ্গারা প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করবে এবং এক পর্যায়ে তাদের দাবীটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রাধান্যও পেতে পারে । যেমন পার্বত্য এলাকার উপজাতিরা দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এখন এসে আদীবাসীতে পরিণত হয়েছে । অথচ তাঁরা যে উপজাতি তা তাদের কৃষ্টি, কালচার, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক গঠন সব কিছুই প্রমান দেয় । এ দিকে তাহলে সভ্য সমাজের বাংলাদেশের মানুষ হয়ে পরেছে নববাসী (যদিও শব্দটা কোন অভিধানে নেই) । রোহিঙ্গাদের নিয়ে সে নাটকের দর্শক হবে কম পক্ষে পঞ্চাশ বছর পরের পৃথিবী এবং পৃথিবীর মানুষ । তখন অনেকে থাকবেন আজকের রোহিঙ্গাদের অবস্থা জানতেই চাইবে না এবং জানবেন না । তখন হয়ত মানবতা, মানবাধিকারই বেশী প্রাধান্য পাবে ।

রোহিঙ্গা শরণার্থী নাটকের পরবর্তী দৃশ্য এমন হতে পারে । রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার নাটকের ধারাবাহিক দৃশ্য চলতে থাকবে হয়তো আদি অনন্তকাল পর্যন্ত । আমরা এবং বিশ্ববাসী কেবল দেখতে থাকব । এক সময় মায়ানমার তাদের সকল তৎপরতা বন্ধ করে দেবে । মুরুব্বীদের ছত্র ছায়ায় তাঁরা বিচারের বাইরে থাকবে । এক সময় মুরুব্বীরাও হয়তো রাখাইনে মায়ানমারের জন্য বিষ ফোড়ায় পরিণত হতে পারে । তখন তাঁরা আমাদের রোহিঙ্গা শরণার্থীর কথা ভুলে নিজেদের সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে । তাছাড়া তখন রোহিঙ্গাদের পৃথিবী অনেক বদলে যাবে । তখন এ নাটক পরিচালনা করতে থাকবে বাংলাদেশ । রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাবে, বাংলাদেশ কিছু করতে পারবে না । আইন সঙ্গত কার্যকারী ব্যবস্থা নিতে গেলেই আন্তর্জাতিক বিশ্ব চিৎকার করতে থাকবে শরণার্থীদের উপর নির্যাতন করছে বলে ।

লেখক – সাহিত্যিক এবং সমসাময়িক বিষয় লেখক


Advertisement

আরও পড়ুন