আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রামে শোকসভায় ওবায়দুল কাদের – মহিউদ্দিনের অবর্তমানে আ’লীগে কোন অনৈক্য চান না প্রধানমন্ত্রী

Published on 15 January 2018 | 4: 30 am

প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অবর্তমানে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে কোনো ধরনের অনৈক্য ও বিভেদ চান না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলের দুঃসময়ে-দুর্দিনে মহিউদ্দিন চৌধুরী যেমন চট্টগ্রামবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দুর্ভেদ্য ঘাঁটি এই চট্টগ্রামের আ’লীগ নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ অগ্রযাত্রা প্রত্যাশা করেছেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি দলের ঐক্য চান।

রোববার বিকেলে লালদিঘি মাঠে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণে আয়োজিত শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি সকালে প্রধানমন্ত্রীকে মেসেজ দিই যে, আজকে আমরা প্রয়াত নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকসভায় অংশ নিতে যাচ্ছি। এই মেসেজ পেয়ে নেত্রী আমাকে তার সেই মেসেজ দলের নেতা-কর্মীদের পৌঁছে দিতে বলেন।’

চট্টগাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সাম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

বিকাল সাড়ে তিনটায় শোক সভা শুরু হলেও দুপুর ১টা থেকেই লালদিঘি মাঠে মিছিল নিয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হন। এ সময় লালদিঘি মাঠ লোকে লোকারন্য হয়ে ওঠে। তাদের হাতে হাতে ছিল মহিউদ্দিন চৌধুরীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন।

‘আপনারা কী ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। নেত্রীর আশা পূরণ করবেন। আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ হোন কোন শক্তি আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে পারবে না। চক্রান্ত চলছে। ষড়যন্ত্র চলছে। বাতাসে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। আবারও আপনাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। চট্টগ্রামকে দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে পরিণত করতে হবে। মহিউদ্দিন চৌধুরী আজ আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গেছেন। তার কৃতিত্ব আমাদের ধরে রাখতে হবে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো সাহসী ও সৎ নেতার আজ বড় বেশি প্রয়োজন। আপনারা সবাই মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো সৎ ও সাহসী হবেন। তার সাফল্যের কেমিস্ট্রি ছিল মাটি ও মানুষ। মানুষের কাছে মাটির কাছে ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।’

‘সব ষড়যন্ত্র নস্যাত করে আবারও আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। আচরণ বদালতে হবে। মানুষকে খুশি করতে হবে। উন্নয়নের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে। বঙ্গবন্ধুর মতো মহিউদ্দিন চৌধুরীও মানুষকে ভাল বাসতেন। মানুষ তাকে ভালবাসতেন। ভালবাসা দিলে ভালবাসা পাওয়া যায়। মহিউদ্দিন চৌধুরী সেই ভালবাসা পেয়েছিলেন। ঘরের মধ্যে ঘর করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি খাটাবেন না। যে নেতা জনতা মানেন না তেমন নেতার প্রয়োজন নেই। সামান্য নৈশপ্রহরী নিয়োগে যে নেতা টাকা নেন সে রকম নেতা আওয়ামী লীগে প্রয়োজন নেই।’তিনি দলের ঐক্যের স্বার্থে সবাইকে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে আরও বলেন, ‘কমিটি করতে গিয়ে পকেট কমিটি করবেন না। পকেট ভারী করবেন না। দুঃসময়ে যারা ত্যাগ করেছে তাদের কমিটিতে রাখবেন। এখন যারা নেতা, অতিথি পাখি দলের দুঃসময়ে তারা থাকবেন না। শীতের সময় অতিথি পাখিরা আসে, মৌসুম চলে গেলে চলে যায়।’

নারী উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়ন করেছেন। সচিব বানিয়েছেন নারী। পাইলট বানিয়েছেন নারী। সন্তানের পরিচয়ে মায়ের নাম বাধ্যতামূলক। সন্তানের উপবৃত্তির টাকা মায়েদের কাছে যায়। আগামী নির্বাচনে তরুণ ও নারী ভোটার আওয়ামী লীগের বিজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি নগর ছাত্রলীগসহ দলের অভ্যন্তরে যেসব কোন্দল ও সমস্যা আছে তা সমাধানের জন্য চট্টগ্রামের নেতাদের নির্দেশ দেন।’

চট্টগ্রামে যেন আর কোন খুন-খারাবি না দেখেন সেটাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার ভাষণে সারা দেশের মানুষ খুশি। কেবল বিএনপি খুশি হয় না। আমাদেরও ভুল ত্রুটি আছে। কিন্তু সেই ভুল ত্রুটি সংশোধনের সাহসও আছে আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপির পুত্রও কারাগারে আছে। অপরাধ করে দলের কেউ পার পাবে না।’

শোক সভায় অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সংসদ সদস্যদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ডা.আফছারুল আমিন, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, দিদারুল আলম ও ওয়াসিকা আয়শা খান বক্তব্য রাখেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন