সোনালী সন্দ্বীপ আয়োজিত “লোকজ উৎসব” এবং প্রাসংগিক ভাবনা

:: প্রকৌশলী আবু তাহের রায়হান ::

সোনালী সন্দ্বীপ আয়োজিত আগামী ১৯/১/১৮ ইং সন্দ্বীপ ভিত্তিক লোকজ উৎসবের প্রচারনায় সন্দ্বীপবাসী পুলকিত হওয়ার কথা।

একটা জনগুষ্টির ভাষা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এটি বিশাল এক মহতি উদ্যোগ। সম্ভবত এমন আয়োজন এই প্রথম। তাই এটিকে সাফল্যে পৌছাতে সকল সন্দ্বীপির দায়িত্ব রয়েছে। 
সোনালী মিডিয়া সাহস করে উদ্যোগটা নিয়েছেন তাই তারা এবং আয়োজক কমিটি নিসন্দেহে সাদুবাদ প্রাপ্য।

বলা প্রয়োজন আমরা “সন্দ্বীপি” বলে যতটা গর্ব করি তার চাইতে বেশী মাতৃভুমীর দায়িত্বের প্রতি অবহেলা উদাসিনতা এবং তাচ্ছিল্যের কারনে সন্দ্বীপবাসীর ভাষা সংস্কৃতিটাও আজ বিলুপ্তির পথে।
তাই যখন জানলাম “সন্দ্বীপ লোকজ উৎসব” হতে চলেছে নিজের ভিতরে সুপ্ত লোকজ ভাবটাও যেন উকি ঝুঁকি দেয়ার চেষ্টা!
আমার দাদার দুকলম লেখাপড়া ছিল, পন্ডিত নামেও পরিচিত ছিলেন।
দাদাকে ৪/৫ বছর বয়সে হারিয়েছি বলে দাদার প্রতি আমি সৃতিকাতর ।বহুবছর আগে পাশের বাড়ীর অরেক দাদা (যিনিও আজ বেঁচে নেই) আমার দাদুর উপর সন্দ্বীপের ভাষায় অমুল্য একখান স্লোক শোনালেন -” হন্ডিতের গাই (গাভী গরু) নারা (পাকা ধান গাছ কাটার পর বাকী অংশ) খায় হচ্ছেরে ডেরাই “। এটি আবিস্কৃত হওয়ায় আমি যেন নিরবে একটা হিমালয় জয়ের আনন্দ পেলাম।
কিন্তু পরবর্তিরা এ সব জানবে কেমন করে ?

তাই আসুন সবাই মিলে সোনালী মিডিয়াকে নয় বরং নিজেদের শিকড়ের সন্ধানে আমাদের ভাষা, লোকজ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখবার আয়োজনগুলোকে নানাভাবে সহযোগীতার মাধ্যমে সফল করি।

 লেখক : চট্টগ্রাম বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী
শাহাদাৎ আশরাফ শাহাদাৎ আশরাফ

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market