আজ শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ ইং, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



দর্শনার্থী টানছে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

Published on 11 January 2018 | 7: 26 pm

পাহাড়, সমুদ্র, প্রাকৃতিক লেকের নয়ন জুড়ানো নীল জলরাশি, সবুজের সমাহারে সজ্জিত ভূমি, অসংখ্য পৌরানিক স্মৃতি বিজড়িত তীর্থস্থান, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের অপরূপ সৌন্দর্য্য মহুত্বেই মন কেড়ে নেয় প্রকৃতি প্রেমীদের। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য ভরপুর সীতাকুণ্ডের এ তিলোতমা রূপ দেখতে প্রতিবছর দর্শনীয় এসব স্থানে ছুটে আসেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। তবে সীতাকুণ্ডের অপার সৌন্দর্য্য সম্বলিত দর্শনীয় স্থানের পাশপাশি বর্তমানে দর্শনার্থীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত। প্রকৃতির অপার এ লীলাভূমি প্রচারের আলোয় উদ্ভাসিত না হলেও ইতিমধ্যে প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে তার আপন রূপেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সূর্যাস্তের অপার সৌন্দর্য্য ও সাগরের জলরাশির মন ছুঁয়ে যাওয়া ঢেউয়ের দোল মন কাড়ছে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে আগত দর্শনার্থীর। জানা যায়, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড পৌরসভা পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার দক্ষিনে গিয়ে বাঁশবাড়িয়া বাজারে নামতে হবে। বাজারের পশ্চিম পার্শ্বের সরশু পিচ ঢালা পথে যানবাহনে মাত্র ১০ মিনিটে এবং পায়ে হেঁটে আধ ঘন্টায় পৌঁছানো যায় সমুদ্র উপকুলে।এতে স্বল্প খরচে অনেকটা ঝামেলা ছাড়াই গন্তব্য পৌঁছাতে পারেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা।
 
সরেজমিনে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র উপকুলে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ বালু চরে আছড়ে পড়ছে সমুদ্রেশুর বিশাল বিশাল ঢেউ। পড়ন্ত বিকালে প্রবাহমান ঢেউগুলোর সৌন্দর্য্য যেন দর্শনার্থীদের দু’হাত বাড়িয়ে কাছে ডেকে নেয়। এতে ঢেউ এর তোড়ে ভেসে আসা সাগরের জলরাশিতে নিজেকে ভিজিয়ে নেন আগত অনেক দর্শনার্থী। নান্দদিক এ স্থানটি স্বল্প সময়ে পরিচিতি লাভ করলেও এখানে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীর ভীড় প্রমান করছে এর জনপ্রিয়তা। বিকেলের হেলে পড়া সূর্য্যর আলোয় বালু চরের উপর শিশু কিশোরদের ছুটোছুটি এবং প্রিয়জনকে কাছে নিয়ে দূর দিগন্তে আপন মনে চেয়ে থাকা নব দম্পতিদের তৃৃপ্ত মুখই বলে দেয় এখানে এসে আনন্দে আত্মহারা তারা।
 
বাঁশবাড়িয়া বোয়ালিয়াকুল এলাকার বাসিন্দা মোঃ করিম জানান, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ভ্রমন পিপাসু লোকজনের আনাগোনা। শীতকালিন এ সময়ে পর্যটকদের আগমনে প্রতিদিন মুখরিত থাকে এ সমুদ্র সৈকত। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য বেষ্টিত এ সমুদ্রশু সৈকতকে ভ্রমন পিপাসুদের কাছে আরো আকর্ষনীয় করে তুলতে সরকার সুদৃষ্টি দেয় তাহলে অচিরেই এটি দেশের অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন সেক্টরে পরিনত হতে পারে।
 
সূর্যাস্তের অপরূপ সৌন্দর্য্য অবলোকনে সমুদ্র সৈকতে পরিবার নিয়ে আসা ভাটিয়ারি ইমামনগর এলাকার দর্শনার্থী মোঃ মামুনুর রশিদ জানান, ভাটিয়ারী লেক ও পাহাড়ের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষনীয় বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য্য। সমুদ্রের জলরাশির আচরে পড়া ঢেউ আর পড়ন্ত বিকালের শেষে সূর্যান্তের অপরূপ দৃশ্য মহুত্বেই মন কাড়ে দর্শনার্থীদের। তিনি আরো জানান, ঠিক কক্সবাজারের মত অতি দীর্ঘ না হলেও এখানেও রয়েছে সারি সারি ঝাউ বন আর বালু চর। একই ভাবে সূর্য্যদয় কিংবা সূর্য্যস্তের আবীর রঙের সমুদ্র এখান থেকেও দেখা যায়। তাই এখানে এসে তার ভালোই লাগছে। কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার মত প্রচুর লোকের সমাগম এখনো না ঘটায় এই সৈকতের রূপের সাথে যোগ হয়েছে কিছুটা নিঃস্তব্দতাও। যা শহরের ব্যস্ত একঘেঁয়ে জীবনের অবসান ঘটিয়ে ভ্রমণ পিপাসুদের দিতে পারে বাড়তি প্রশান্তি।
 
সৈকতে বেড়াতে আসা জুলেখা খাতুন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের মনমাতানো সৌন্দর্য্য মহুত্বেই মনের সকল ক্লান্তি ও হতাশাকে দূর করে মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। সাগরের বেলাভূমিতে সবুজের হাত ছানি ও জলরাশির অগনিত ঢেউ নিমিষেই মন কাড়ে দর্শনার্থীদের। তবেএখানে আসার রাস্তা উন্নত হলেও,এখনো ভালো দোকান পাট গড়ে না উঠায় এবং থাকা বা খাওয়ার সু–ব্যবস্থা না থাকায় কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হয় আগতদের। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে অবকাঠামোগত এই দিকগুলো গড়ে তোলা হলে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রশু সৈকত দর্শনার্থীর কাছে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
 
বাঁশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শত্তকত আলী জাহাঙ্গীর জানান, দর্শনার্থীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠা বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে আমি ইতিমধ্যে বেশকিছু প্রদক্ষেপ গ্রহন করেছি। এগুলো বাস্তবায়িত হলে অচিরেই এটি সীতাকুণ্ডের দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হবে।
সুত্র : আমাদের ভাটিয়ারী


Advertisement

আরও পড়ুন