কমতে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা

কমতে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা। মঙ্গলবার শৈত্যপ্রবাহ কিছুটা কমেছে। আগের দিন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে মঙ্গলবার ব্যারোমিটারের পারদ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৫ দশমিক ২ ডিগ্রিতে পৌঁছায়। এদিন সর্বনিন্ম তাপমাত্রার রেকর্ড গড়েছে দিনাজপুর। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এটিও ‘তীব্র’ শৈত্যপ্রবাহ।

আবহাওয়া বিভাগের (বিএমডি) কর্মকর্তারা বলেছেন, আজ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। শীতের প্রকোপভুক্ত এলাকা ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসবে। এই প্রক্রিয়া চলবে ৪ থেকে ৫ দিন। অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারির পর থেকে দেশের কোথাও আর কোনো মাত্রারই শৈত্যপ্রবাহ থাকবে না। তবে ২০ জানুয়ারির পর তাপমাত্রা ফের নামতে শুরু করবে। ২৪-২৫ জানুয়ারির দিকে শৈত্যপ্রবাহ থাকবে দেশে। তখন বাংলার প্রকৃতিতে থাকবে মাঘের দ্বিতীয় সপ্তাহ। সাধারণত ‘মাঘের শীত বাঘের গায় (শরীর)’ এই প্রবাদ বাংলায় চালু আছে। সেই হিসাবে ফের শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে।

সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘অতি-তীব্র’ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। ৭০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শীতের অভিজ্ঞতা হয় বাংলাদেশের মানুষের।

এদিকে শৈত্যপ্রবাহে ঠাণ্ডাজনিত রোগবালাইয়ের প্রকোপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৮২৫ জন। এর মধ্যে এআরআই (অ্যাবস্ট্রাক্টিভ রিসপারেটরি ইনফেকশন)-এ আক্রান্ত হয়েছেন ১২৪ জন, ডায়রিয়ায় ৪৪৬ জন এবং অন্যান্য রোগে (সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া, কাশি, চর্মরোগ, টনসিল ইত্যাদি) ২৫৫ জন। অধিদফতরের তথ্য মতে, দেশের হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

এছাড়া বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শীতজনিত রোগে গত দুই দিনে (সোমবার রাত পর্যন্ত) পাবনায় ৬, কুড়িগ্রামে ৩ ও রংপুরের কাউনিয়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের ভালুকায় শীত নিবারণ করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

জানতে চাইলে বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী যে চরম বিরূপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার জন্য দায়ী ‘লা নিনো’ পরিস্থিতি। প্রশান্ত মহাসাগরে ৩ দশমিক ৪ অঞ্চলের পানির তাপমাত্রার যখন ৩০ বছরের গড় হিসাবে দশমিক ৫ ডিগ্রি কমে বা বাড়ে তখন বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তাপমাত্রা বাড়লে তাকে বলে ‘এল নিনো’, আর কমলে ‘লা নিনো’। উভয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বিশ্বের আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরূপ আকার ধারণ করে। তবে এল নিনো হলে বাংলাদেশসহ অত্র অঞ্চলে উষ্ণতা অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। লা নিনো হলে তাপমাত্রা নেমে যায়। অধ্যাপক ইসলাম বলেন, গত নভেম্বরে শুরু হয়েছে এই লা নিনো পরিস্থিতি। এটা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে ইতিমধ্যে ব্যুরো অব মেটেওরোলজি, অস্ট্রেলিয়া (বিওএমএ) জানিয়েছে। এ কারণে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া পরিস্থিতি উন্মাতাল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে (৮ জানুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ায় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রিতে উঠেছে, আবার কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রে মাইনাস ৫০ ডিগ্রিতে নেমে যায়। অর্থাৎ পৃথিবীর দুই প্রান্তে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিপরীতমুখী ছিল।

উল্লেখ্য, সোমবার পঞ্চগড়ের তেুঁতলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৭০ বছরের মধ্যে সর্বনিন্ম। এর আগে সর্বশেষ এত তীব্র শীত পড়েছিল ১৯৬৮ সালে। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এরও ২০ বছর আগে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত এত কম তাপমাত্রার রেকর্ড খুঁজে পায়নি আবহাওয়া অফিস।

Mahabubur Rahman Mahabubur Rahman

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market