আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি – বাচ্চুসহ ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব

Published on 03 January 2018 | 4: 36 am

সরকারি বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু, তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি তফসিলি ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবারের মধ্যে এ হিসাব পাঠাতে হবে। বিএফআইইউ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়ে ব্যাংকিং খাতের এ খলনায়কের হিসাব চাওয়া হয়।

বাচ্চুর সঙ্গে আরও যাদের হিসাব তলব করা হয়েছে তার হলেন- বাচ্চুর স্ত্রী শিরিন আক্তার, মেয়ে শেখ রাফা হাই, ছেলে শেখ ছাবিদ হাই অনিক, ভাই শেখ ওয়াহিদুজ্জামান, শেখ খালেকুজ্জামান, শেখ শাহরিয়ার পান্না, শেখ জনি, বোন শেখ সায়িদা ভুলু, শেখ মমতাজ রুমি, শেখ শিউলী বেগম এবং বাচ্চু ও পরিবারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিএম কম্পিউটার্স, ক্রাউন প্রোপার্টিজ ও ইডেন ফিশারিজ।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করে বাচ্চু ও তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট মূলত মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়- উল্লিখিত ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবের বর্তমান এবং পেছনে লেনদেন হয়ে থাকলে তা ৩ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। এদের অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু কেওয়াইসি (গ্রাহক পরিচিতি) ফর্ম, লেনদেনের প্রোফাইল এবং লেনদেনের সর্বশেষ তথ্যের সত্যায়িত দুই কপি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাচ্চুর স্থায়ী ঠিকানা হল- গ্রাম ও ডাকঘর আড়–য়ার দীহি, থানা মোল্লার হাট এবং জেলা বাগেরহাট।

২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দুই মেয়াদে ছয় বছর বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন বাচ্চু। এ সময় ব্যাংকটিতে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়। ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর চাপের মুখে বাচ্চু পদত্যাগে বাধ্য হন।

বেসিক ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৬টি মামলা করে দুদক। কিন্তু কোনো মামলায়ই বাচ্চুকে অভিযুক্ত করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত গত বছরের শেষের দিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার মোড় ঘোরে। গত ৪ ও ৬ ডিসেম্বর দুই দফা বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদে বাচ্চু দুদকের কাছে ঋণ অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তিনি একা নন। পর্ষদেরও দায় আছে।

জানা গেছে, চেয়ারম্যান থাকাকালীন কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেননি বাচ্চু। নিজের ও পরিবারের নামে ইডেন ফিশারিজ নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান খুলে ওই প্রতিষ্ঠানের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে মাত্র ১১ মাসেই ১৩ কোটি টাকার বেশি জমা করা হয়।

আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া টাকা সরাসরি জমা হয়েছে বাচ্চু ও তার ভাই শাহরিয়ার পান্নার ব্যাংক হিসাবে। ২০১২ ও ২০১৩ সালে কয়েক মাসের ব্যবধানে দু’জন মিলে ৩০ কোটি টাকার বেশি অর্থ নেয়ার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া বিভিন্ন ঋণের বিপরীতে বড় অঙ্কের ঘুষ নিয়ে দেশের বাইরে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন