আজ রবিবার, ২৭ মে ২০১৮ ইং, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আসামে ১ কোটি ৯০ লাখ নাগরিকের তালিকা প্রকাশ আতঙ্কে বাংলাভাষী মুসলিমরা

Published on 02 January 2018 | 4: 22 am

আসামে বহুল আলোচিত ‘বৈধ ভারতীয় নাগরিক’দের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার মধ্যরাতে অনলাইনে প্রথম দফায় এ তালিকা প্রকাশ করে রাজ্য সরকার। কয়েক মাসের মধ্যে আরও দুই দফায় তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) নামে ওই তালিকা থেকে রাজ্যের বহু বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন আসামে বসবাসরত মুসলিমরা। কারণ এর আগে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি’দের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করতেই এ তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বাংলাভাষী মুসলিমরা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, বৈধ ভারতীয় নাগরিকের তালিকায় থাকতে আবেদন করেছিলেন ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে প্রথম খসড়া তালিকায় ১ কোটি ৯০ লাখ নাগরিকের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ আসামের তথা ভারতের বৈধ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন।

সোমবার প্রথম দফার তালিকা রাজ্যের ৪ হাজার ২০০ এনআরসি সেন্টারে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। সকালে স্থানীয় জনগণ এসব সেন্টারে ভিড় করেন। তালিকায় নিজেদের নাম আছে কিনা, তা দেখতে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন তারা।

একটি এনআরসি সেন্টারে আসামের নওগাঁ জেলার নুরুল আলী নামে এক কৃষক হিন্দুস্থান টাইমসকে বলেন, তালিকায় আমার পরিবারের সাত সদস্যের নাম দেখে দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছি। এ ব্যবস্থার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। যাদের নাম এ তালিকায় নেই, আশা করি পরবর্তী তালিকায় তাদের নাম আসবে।

ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল শৈলেশ বলেছেন, প্রাথমিক তালিকায় যাদের নাম আসেনি, তাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বাকি আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। কয়েক মাসের মধ্যে তা তালিকা আকারে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে তালিকা প্রকাশের আগে আসামজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। অন্তত ৪৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী গোটা রাজ্যে মোতায়েন রয়েছে, সেনাবাহিনীকেও ‘স্ট্যান্ডবাই’ রাখা হয়। গোয়েন্দা সূত্র মতে, তালিকা প্রকাশের পর আসামের বিশেষত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় গণ্ডগোল হতে পারেন এ আশঙ্কা ছিল। তবে তালিকা প্রকাশের পর কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি।

জানা গেছে, আসামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ২০ লাখেরও বেশি মুসলিম রয়েছেন। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করার জন্য তাদের পরিবার যে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে থেকে সেখানে বাস করছেন, তার প্রমাণ দিতে হবে। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। তবে বাংলাদেশি মুসলিমদের কেউ কেউ বলছেন, তাদের পূর্বসূরিরা এসব প্রমাণ বা নথি সংরক্ষণ করার কথা বুঝতে পারেননি। এ অবস্থায় নাগরিক প্রমাণের মতো যথেষ্ট কাগজপত্র অনেকের নেই।

আসামের একটি ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আসিফুর রহমান বলেন, ‘আমার দাদা-দাদি ও মা-বাবা সবাই ভারতে জš§ নিয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো দলিলপত্র আমাদের জন্য দেখানো কঠিন। আমার পূর্বসূরিরা শিক্ষিত ছিলেন না, যার কারণে কোনো বৈধ দলিলপত্র তারা রেখে যাননি। এখন কীভাবে আমরা নাগরিকত্ব প্রমাণ করব?’

এর আগে নাগরিক নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা আসামের অর্থমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মা শুক্রবার বলেছিলেন, ‘আসামে বসবাসরত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’দের চিহ্নিত করতেই জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) তালিকাটির খসড়া প্রকাশ করা হবে। এতে যাদের নাম থাকবে না, তাদের ফেরত পাঠানো হবে।’ তবে যেসব হিন্দু বাংলাদেশে নিপীড়নের শিকার হয়ে আসামে আশ্রয় নিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুসারে তাদের আসামে আশ্রয় দেয়া হবে বলে জানান তিনি।


Advertisement

আরও পড়ুন