আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



স্বাগতম ২০১৮

Published on 01 January 2018 | 4: 06 am

পূর্বাকাশে উদিত হল ভোরের সূর্য। একটু একটু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল আলোর ঝরনাধারা। কুয়াশার চাদরে মুড়িয়ে থাকা প্রকৃতিও উঠল জেগে। আজকের এ সূর্য, আজকের এ ভোর নিয়ে এসেছে এক নতুনের বার্তা। ২০১৮ সালের প্রথম সূর্যোদয় এটি। নতুন বছর সুন্দর হওয়ার বাসনায় সবাই রবি ঠাকুরের মতোই বলবেন, ‘দূর হইলো দৈন্যদ্বন্দ্ব/ছিন্ন হইলো দুঃখবন্ধ/উৎসবপতি মহানন্দ/তুমি সুন্দরতম’। সেই সুন্দরের প্রত্যাশাতেই স্বাগতম ২০১৮।

সকালে খ্রিস্টীয় নতুন বছরের সূর্যোদয় হলেও রোববার রাত ১২টায় ঘড়ির কাঁটা শূন্যের ঘর অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গেই গণনা শুরু হয়েছে নতুন বছরের। নতুন বছর মানেই নতুন উদ্দীপনা আর প্রেরণা নিয়ে এগিয়ে চলা। পেছনে ফেলে আসা ২০১৭ সালের ভুল, হতাশা, দুঃখ, গ্লানিকে দূরে ঠেলে দিয়ে নতুন উদ্যমে সাহস নিয়ে পথচলা। পৃথিবীর ইতিহাস বলে, মানুষের এগিয়ে যাওয়ার এ স্পৃহাই তাকে নিয়ে এসেছে এতদূর। তাই সব অপশক্তি আর বাধাকে জয় করে নতুন স্বপ্ন বুকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ এগিয়ে যাবে। বাঙালির অগ্রযাত্রার যে ধারা শুরু হয়েছে তাতে ২০১৮ সালে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা। রাজনৈতিক, সামাজিক, অথনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে- এমন প্রত্যাশা দেশের সব মানুষের। গত বছর যে আশা-প্রত্যাশা নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল তার অনেকখানি হয়তো পূরণ হয়নি। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না, নতুন উদ্যাম নিয়ে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই।

নতুন ইংরেজি বছরের আগমন উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ। বাণী দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও।

২০১৮ সাল কেমন যাবে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। সবাই চান সুখে-শান্তিতে-স্বস্তিতে কাটুক তাদের আগামী একটি বছর। আর এ জন্য সবার আগে বাংলাদেশের মানুষ চায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কারণ দেশের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম নিয়ামক এটি। তবে বছরের শুরুতেই ৫ জানুয়ারি নিয়ে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের এ দিনটিকে আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ এবং বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। দিনটি পালনে এবারও প্রস্তুতি নিচ্ছে দু’দল। আওয়ামী লীগ তাদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে রাজধানীর দুই অংশে কর্মসূচি পালন করবে। অন্যদিকে দিনটিতে ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক শোডাউন করতে প্রস্তুত বিএনপি। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অথবা নয়াপল্টনে সমাবেশসহ সারা দেশে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। দিনটি ঘিরে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হওয়ার পাশাপাশি সংঘাত-সহিংসতার শঙ্কাও রয়ে গেছে। সর্ব মহলে আগ্রহ থাকলেও কী হতে যাচ্ছে রাজনীতির মাঠে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে ২০১৮ সাল আওয়ামী লীগ সরকারের চলতি মেয়াদ শেষের বছর হওয়ায় বছরটি নানাভাবে গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে আগামী সংসদ নির্বাচন কবে হবে, কীভাবে হবে তার দিকে তাকিয়ে থাকবে পুরো জাতি। আর মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে কীভাবে নেবে সেটাও দেখার বিষয়। কারণ, আগামী নির্বাচন কীভাবে হবে তা নিয়ে এখনও বলা যায় দুই মেরুতে অবস্থান করছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তবে ২০১৮ সালে রাজনীতির মাঠ সরগরম থাকবে এটা সহজেই অনুমেয়।

দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ তথা সাধারণ মানুষ স্বস্তি ও শান্তিতে থাকতে চান। দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে জীবনধারণ করতে চান। কিন্তু ২০১৭ সালে নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা ছিলেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় চাল ও পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেও বলেছেন, চালের মূল্য ৫০ টাকার ওপরে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছে। একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের রিপোর্টে বলেছে, চালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে ৫ লাখ মানুষ গরিব হয়ে গেছে। নতুন বছরে দেশের সব মানুষের প্রত্যাশা থাকবে চাল ও পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হাতের নাগালে থাকবে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিকদের দিকেও চোখ থাকবে সবার। রোহিঙ্গাদের কারণে দেশের অর্থনীতি এক ধরনের চাপে পড়েছে। পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেয়ার সেসব এলাকার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়াসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে কী পদক্ষেপ নেয়া হয় তাতেও দৃষ্টি থাকবে সবার।

কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে জঙ্গিবাদ। যদিও বাংলাদেশে এর ধরন ভিন্ন। গত বছর জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা দেখিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সাফল্যের ধারা এ বছর আরও জোরদার হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, সরকারও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে।

কোনো দাতাগোষ্ঠীর অর্থায়ন ছাড়াই দেশে নির্মিত হচ্ছে বহুল কাক্সিক্ষত পদ্মা সেতু। ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে এটি। ২০১৮ সালে পদ্মা সেতুর বেশিরভাগ কাজ শেষ হবে- এমনটাই আশা দেশবাসীর।

গত বছর বিদেশে অর্থপাচার ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। অর্থ পাচারের সঙ্গে যারা এবং যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শান্তি দেয়া হবে বলে আশা করে দেশবাসী। একই প্রত্যাশা সব দুর্নীতিবাজদের ক্ষেত্রেও।

দেশে নানাভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। শিল্পায়নের জন্য আরও বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে সরকারের আরও তৎপর ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে।

শহরাঞ্চল বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। তবে মানুষের নিত্যদিনের এক ভোগান্তির নাম যানজট। বছরের বিভিন্ন সময় পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হয় ‘যানজটে নাকাল নগরবাসী’। এ সমস্যা সমাধানে কোনো অগ্রগতি আজও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বর্ষাসহ অন্যান্য সময়েও নগরের আরেক সমস্যার নাম জলাবদ্ধতা। শীতের সময় গ্যাসের সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানেও তেমন কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয় না। নতুন বছরে এসব সমস্যার প্রতি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজর পড়বে- এমন আশা নগরবাসীর।

নতুন বছর ২০১৮-তে বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখেন। অতীতের ফেলে আসা দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন করে এগিয়ে যেতে চান সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। তাই আজ সবার একটাই প্রার্থনা- নতুন বছরটি যেন ভালো যায়।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন