সংবাদ নিজের পক্ষে না গেলে কি হতে পারে?

::  সোহেল মাহমুদ  ::

১.
ভালোই লাগছে।
সংবাদ লেখার কৌশল শিখতে আর তত্ত্বের অনুশীলন কিংবা প্রশিক্ষণের দরকার হচ্ছে না। ফেসবুকেই শিখিয়ে দেয়ার কতো লোক!
সংবাদ নিজের পক্ষে না গেলে কি হতে পারে?
একজন ব্যাক-বেঞ্চারও লেকচারার হয়ে যায়। সাথে যোগ দেয় তাদের সমমনারা।

২.
একটা রিপোর্ট লিখলাম “সন্দ্বীপ” এ। একটা সংগঠনের নির্বাচন নিয়ে। প্রতিটা শব্দ ওজন করে বাক্যের যে গাঁথুনি দিয়েছিলাম, তাতে সংক্ষুদ্ধ বিশেষ-রাজনীতি-মতাদর্শী-পাঠক-শ্রেণী। আনুষ্ঠানিক বৈঠকে রীতিমতো শ্রাদ্ধ করেছেন আমার। সংগঠনের একজন উপদেষ্টা আমার কাছে জানতে চাইলেন কি লিখেছি আমি। তাকে পড়ে শোনালাম। “এখানেতো কারো বিরুদ্ধে কিছু দেখি না আমি!”- উপদেষ্টার বিস্ময়।

৩.
এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে নিউ ইয়র্কে কাজের সময় বাংলাদেশী নির্মাণকর্মীর মৃত্যুর পর আমি খুব বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখী হয়েছিলাম। নির্মাণকর্মী অধিকার আন্দোলনের সাথে কাজ করি বলে সেসময় আমরা দাবি তুলেছিলাম কর্মস্থলে সবার নিরাপত্তা জোরদারের। তখনই অভিযোগ মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে, আমি দুই কোটি টাকা চেয়ে পাইনি বলে আন্দোলন উস্কে দিচ্ছি। ভাগ্য ভালো, বলেনি তারা যে, আমিই নির্মাণকর্মীটিকে স্ক্যাফল্ড থেকে ফেলে দিয়েছিলাম। এখনো সে অভিযোগ শোনা মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হয় আমাকে।

৪.
এক অনুষ্ঠানের ছবি দেইনি কেনো তা নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের এক নেতার সে কি ব্যবহার! তুই তোকারি। তিনি আমাকে ছবি কিভাবে তুলতে হয় সেটাও শেখালেন। আমি বিনয়ী শিক্ষার্থী হয়ে শিখলাম।

৫.
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিখি।
ইনি শেখান। উনি শেখান।
ইনি বলেন, “আপনি উনার সাথে চলবেন না। খুব বাজে লোক।” উনি বলেন, “আপনি জানেন কতো লোক আপনাকে অপছন্দ করে?” এগুলো সব তথ্য। এগুলো শিক্ষা। সাথে আরো অনেক! না নিয়ে উপায় কি!

৬.
সংবাদ লেখার কিংবা পত্রিকা চালানোর কৌশলটা আসলে শেখা দরকার। ৩০ বছর হতে চললো এ কাজে। দক্ষ হতে পারিনি বলেইতো তারা শেখাচ্ছেন। তাই না? হেডলাইন কিভাবে করতে হবে, সেটাও শিখতে হচ্ছে। অফলাইন, অনলাইনে। ছবি কিভাবে তুলতে হয়, সেটা। বাল যে পেকে সাদা, সেদিকে কারো নজর নেই। সবাই নিজেরটা বলে যাচ্ছেন।

৭.
বিপজ্জনক!
কেউ সত্যিই শেখান।
আর কেউ সত্যিই শেখেন।
সমাজে ভারসাম্য থাকে।
এর একটা বন্ধ হয়ে গেলে?

কেউ তুলে ধরেন ক্ষত।
তাতে, কেউ শোধরান।
এ ভারসাম্য নষ্ট হলে?
সবকিছু নষ্টদের দখলে দিতে নেই।
অন্তত, নিজের বিবেক।

—————————————————————————————————————

সোহেল মাহমুদ : নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সন্দ্বীপ সম্পাদক ও প্রবাসী টিভি’র সিইও ।। সাবেক হেড অব নিউজ- মোহনা, সাবেক বিশেষ সংবাদদাতা- এটিএন বাংলা, আরটিভি, চ্যানেল ওয়ান, সাবেক প্রতিবেদক- দৈনিক রূপালী, একুশে টিভি

শাহাদাৎ আশরাফ শাহাদাৎ আশরাফ

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market