আজ রবিবার, ২৭ মে ২০১৮ ইং, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



তাঁতশ্রমিক তনয়া আঁখির ফুটবলময় পৃথিবী

Published on 26 December 2017 | 2: 54 am

পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার আঁখি খাতুনের পৃথিবী রাতারাতি বদলে গেছে। গত পরশু মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আঁখি শিরোপাজয়ী বাংলাদেশের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছে।

ভুটানের বিপক্ষে দু’গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছে। গোটা টুর্নামেন্টে চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়ে গোল্ডেন বুট জিতে নিয়েছে। দলের সবাই তাকে মজা করে ডাকে মেয়েদের ফুটবলের ‘কায়সার হামিদ’।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পাটগোলা গ্রামের মেয়ে আঁখি। শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে তাদের বাড়ি। বাবা আক্তার হোসেন। তাঁত বুনে অসুস্থ বাবা সংসারের ঘানি টানেন।

সংসার চলতে চায় না। এ অবস্থায় মেয়েকে ফুটবল খেলায় পাঠানো আক্তার হোসেনের কাছে বিলাসিতা। তাই মেয়ের আবদারে রাজি হন না বাবা।

কিন্তু ফুটবলই যার ধ্যান-জ্ঞান, তাকে দমিয়ে রাখবে, কার সাধ্য। বাবাকে রাজি করানোর জন্য স্কুল শিক্ষক মনসুর রহমানের কাছে যায়।

শেষ পর্যন্ত স্কুল শিক্ষকের অনুরোধে বাবার কাছ থেকে খেলার অনুমতি পায় আঁখি। তার কথায়, ‘আমাদের বাড়ির পাশে মনসুর আহমেদ স্যারের কাছে আমি অনুশীলন শুরু করি।

বড় ভাই নাজমুল ইসলামও আমাকে অনেক সহায়তা করেছেন। ইউটিউবে খেলা দেখিয়েছেন। যেখান থেকেই আমি ড্রিবলিং শিখেছি।’

আঁখির ক্যারিয়ার শুরু ২০১৪ সালে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে। শাহজাদপুর ইব্রাহিম পাইলটস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের হয়ে ওই বছর টুর্নামেন্টে অংশ নেয় সে।

সেবার রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত উঠেছিল স্কুলটি। ২০১৫ সালে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক আসে তার। তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপ ছিল তার প্রথম টুর্নামেন্ট।

নজর কাড়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সবার। ২০১৬ সালে তাকে টেনে নেয় বিকেএসপি।

এবারের মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ তাকে তুলে এনেছে পাদপ্রদীপের আলোয়। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে হেডে এবং ব্যাকহিলে গোল করে দৃষ্টি কেড়েছে আঁখি।

সিরাজগঞ্জের অজপাড়াগাঁয়ের মেয়েটি এখন দেশের মহিলা ফুটবলের অন্যতম ভবিষ্যৎ। তার কথায়, ‘জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। ফুটবল খেলার জন্য অনেক ঘাম ঝরিয়েছি।

এখন মনে হচ্ছে কষ্ট বৃথা যায়নি।’ আঁখি যোগ করে, ‘দলকে জেতাতে পারার আনন্দই অন্যরকম। সাফ টুর্নামেন্টে দেশকে শিরোপা এনে দেয়ার আনন্দ আমি জীবনেও ভুলব না।’

আগামীতেও মিষ্টি হাসির মতো দ্যুতিময় পারফরম্যান্স দিয়ে আঁখি অর্জন করতে চায় কোটি মানুষের ভালোবাসা।


Advertisement

আরও পড়ুন