আজ মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ ইং, ০২ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



খেতে না পেয়ে আত্নহত্যা মাদ্রাসা ছাত্রীর! দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন সন্দ্বীপ থানার ওসি

Published on 24 December 2017 | 7: 27 pm

: রহিম মোহাম্মদ:
দারিদ্রতাকে জাদুঘরে পাঠানো আর দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার তোড়জোড় যখন চলছে সে সময়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপে খেতে না পারার অভিমানে এক মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্নহত্যা সকল উদ্যোগকে প্রশ্নবোধক করে তুলেছে।
স্হানীয় আব্দুল মালেক দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী মিহা (১৩) ঋনের চাপে জর্জরিত মা-বাবার অভাব-অনটন, নিজে এবং পরিবারের অন্যদের প্রায় অনাহারে থাকার ঘটনা সহ্য করতে না পেরে আত্নহননের পথ বেঁচে নেয় বলে পুলিশের ধারনা।
১৯ নভেম্বর সকাল ৮টায় পাওনাদারের ভয়ে মা-বাবা যখন বাড়ীর বাইরে ছিল তখন মিহা ছোট ভাই মিহানের মাধ্যমে বাকীতে দোকানে কেক চেয়ে ব্যর্থ হয়।পরে ক্ষুধার জ্বালা আর অপমানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে সে আত্নহত্যা করে। মাদ্রাসা ছাত্রীর মর্মান্তিক এ অপমৃত্যুর ঘটনাটি অন্যান্যদের মত মেনে নিতে পারেননি সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইন চার্জ সাইফুল ইসলাম।তিনি মিহাদের বাড়ী কালাপানিয়ায় গিয়ে ঘটনার তদন্তে জানতে পারেন, সংসারের অভাব-অনটন দূর করে স্বাবলম্বী হতে মিহার মা রাহেনার নামে স্হানীয় একটি এনজিও থেকে এক লক্ষ টাকা ঋন নেয়া হয়। কিন্তু বিনিয়োগ করার পূর্বে ঐ টাকা হারিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পরে যায় তারা। দিনমজুরের মাধ্যমে অর্জিত আয় দিয়ে কোনভাবে এনজিও ঋনের কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হচ্ছিল না।
তাই বিভিন্ন উৎস থেকে লোন নিয়ে পরিস্হিতি সামলানোর চেষ্টা চালায় মিহার মা-বাবা। কিন্তু দিন দিন ঋনের ভারে জর্জরিত হতে থাকে তারা। পাওনাদারের চাপে তারা প্রায় পালিয়ে বেড়াত।এ সময় মিহার লেখাপড়া খরচ নির্বাহ করা দূরের কথা তিন সন্তানের পেটে আহার ঝোগানো দূঃসাধ্য হয়ে পরে।সন্দ্বীপ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ঋনের চাপে অসহায় এ পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করে তুলতে তার সহায়তার হাত বাড়ান। তিনি ব্যক্তিগত অর্থে মিহার বাবা মনিরের পরামর্শে একটি নতুন ভ্যান গাড়ী তৈরী করে গত মঙ্গলবার সকালে স্হানীয় সংবাদকর্মীদের উপস্হিতিতে তা তুলে দেন। ভ্যান গাড়ীটি পেয়ে খুশি মিহার মা-বাবা,ঋনের টাকা পরিশোধ করতে এখন আর তাদের খুব একটা সমস্যা হবেনা বলে জানিয়েছেন। সন্দ্বীপ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান,মানবতাবোধ থেকে তাদের প্রতি আমার ক্ষুদ্র সহায়তা, স্হানীয় এম.পির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে দুঃস্হ পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তার জন্য একটি আবেদন প্রেরণের ব্যবস্হা করেছি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন