আজ শনিবার, ১৮ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



পরকীয়া : সমাজ ও পারিবারিক জীবনের ক্যান্সার, গুপ্তঘাতক ভাইরাস

Published on 24 December 2017 | 3: 47 pm

:: ফারহানা ইয়াসমিন রীমা ::
পরকীয়া,, আমাদের সমাজ ও পারিবারিক জীবনের ক্যান্সার, গুপ্তঘাতক ভাইরাস। এটা সমাজ ও পরিবারের শিরা -উপশিরায় প্রবাহিত হয়ে নিঃশ্বেষ করে দিচ্ছে অনেকগুলো জীবনকে। বিপরীত সঙ্গির কোন অক্ষমতায় কেউ পরকীয়ায় লিপ্ত হয় এটা আমি বিশ্বাস করি না। এটা হচ্ছে মানুষের বিকৃত রুচি, মানুষিক অসুস্থতা। তা না হলে একদিন যে মানুষটাকে পাওয়ার জন্য নিজের জীবন ও বিসর্জন দিতে পারে, সময়ের আবর্তে কেন সেই মানুষটা অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়!!!
একটা মানুষের ষোলো আনা কখনোই পূর্ণতা থাকে না,, প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু কম থাকবেই,, এটাকে মেনে নিয়েই এগিয়ে যেতে হয়। দুর থেকে আকাশের চাঁদ টাকে অনেক সুন্দর মনে হয় -কিন্তু কাছে যারা গিয়েছে তারা দেখেছে চাঁদের গায়ে ও আছে ছোট বড় অনেক দাগ! পৃথিবীর বিখ্যাত ছবি লিওনার্দো দা ভিঞ্চির অমর সৃষ্টি মোনালিসা,, আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন মোনালিসার চোখের উপরে ভ্রু নেই, এটা এ ছবিটার অসংলগ্নতা,, তাজমহলের ভেতরেই মমতাজের কবর, এটা তাজমহলের অসুন্দর্যতা। প্রত্যেক সুন্দর কিছুর ভেতরে একটু হলে ও অসুন্দর কিছু থাকে।
যারা পরকীয়ায় জড়িয়ে আছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি -হতে পারে আপনার জীবন সঙ্গির কোন একটা অক্ষমতা থাকতেই পারে, তাই বলে কি তাকে রেখে অন্য কারোো সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হতে হবে। এমন ও তো হতে পারে আপনার ও অনেক অসম্পূর্ণতা আছে, যেটাকে মেনে নিয়ে আপনার সঙ্গিটি আপনার সাথে পুরো জীবনটা চালিয়ে নিচ্ছে। বাইরের যে ছায়া সঙ্গিটি আপনার কাছে স্বপ্নময় গিয়ে দেখেন তাকে নিয়ে ও তার পরিবারের অনেক অপ্রাপ্তি রয়েছে। দু এক ঘন্টার জন্যই তাকে পান বলে তার সব আপনার কাছে স্বপ্নময় মনে হয়। কেননা তার অসংলগ্ন দিকটা আপনার চোখে পড়ে না। দুটো মানুষ এক সাথে থাকতে গেলে বুঝা যায় কে কেমন!!
যায় হোক!!
পরকীয়া জড়ানো মানুষগুলো একবার ভাবেন তো!!
আপনার অসুস্থ মনমানসিকতার জন্য আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে কষ্ট দিচ্ছেন, ওকে ঠকাচ্ছেন। ওর বেঁচে থাকাটা দুর্বিষহ করে তুলছেন।। সাথে আপনার সন্তানদের।। ভেবে দেখুন তো,, যে শিশুটিকে দু জনের ভালোবাসায় সৃষ্টি করেছেন, কেন তার জীবনটা অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিচ্ছেন??
তাকে যদি সুন্দর সুস্থ জীবন নাই দিতে পারেন, তাহলে কেন এনেছেন তাকে এ পৃথিবীতে!!!
আপনার নোংড়ামির মাশুল কেন ওকে গুনতে হবে??
আর আপনি কি ভালো থাকতে পারবেন?
এসব করে কখনোই না।। এ ভালো থাকাটা সাময়িক!! একদিন এ সঙ্গিটাও আপনার কাছে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে। আর ভবিষ্যৎ আপনাকে কখনো ছেড়ে দিবে না। আপনার সন্তানের কাছে আপনাকে একদিন জবাবদিহি করতেই হবে। মনে রাখবেন পাপ কখনোই চাঁপা থাকে না। একদিন না একদিন সেটা প্রকাশ পায় তা আপনি যত বড় ক্ষমতাবান হোন না কেন। দয়া করে নিজের ভুলের দায় সন্তানদের উপর দিয়ে দিবেন না,।তাদের বাবা মা দুজনের মাঝে বেড়ে উঠতে দেয়ার দায়ভার আপনার।।
সন্তানদের কথা ভাবুন, কেননা –ওদের জীবনটা সাজিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আপনার। শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবাটা মানুষিক প্রতিবন্ধীতা। তাই নিজে বাঁচুন -অন্যকে বাঁচতে সাহায্য করুন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন