আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



প্রাথমিক শিক্ষকদের আমরণ অনশন অব্যাহত

Published on 24 December 2017 | 7: 43 am

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসনের এক দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন চলছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের ব্যানারে রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো অনশনে রয়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষক। শনিবার সকালে এ অনশন শুরু করে দেশের সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকদের এই সংগঠন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন করার ঘোষণা দেন তারা। মহাজোটের অধীনে রয়েছে ১০টি সংগঠন। অনশন করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার শিক্ষক।অনশনকারী শিক্ষকরা জানান, আগের বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের অষ্টম বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে তিন ধাপ। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে (মূল বেতন ১০ হাজার ২০০) বেতন পাচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০ম গ্রেডে (মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা)। সহকারী শিক্ষকরা এই বৈষম্য নিরসন করে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে ১১তম গ্রেডে (১২ হাজার ৫০০) তাদের বেতন চান।

অনশন কর্মসূচিতে সহকারী শিক্ষক সমাজ, সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন, সহকারী শিক্ষক সমাজ-২, সরকারি সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারী শিক্ষক সমাজ-৩, সহকারী শিক্ষক সমিতি-২, সহকারী শিক্ষক ফোরাম, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষক সমিতির চারটি সংগঠন এই কর্মসূচিতে ঐক্য প্রকাশ করেছে।রোববার দুপুরে শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা গেছে, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষকরা পাটি, পত্রিকা বিছিয়ে বসে রয়েছেন। পুরুষদের সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে নারীও এসেছেন আমরণ কর্মসূচিতে। তাদের সঙ্গে রয়েছে কাপড় চোপড়ের ব্যাগ। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে অনশনস্থলেই স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৬ শিক্ষককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  তারা হলেন- গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার মো. আবু তালেব, লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার সালেহা আক্তার, বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার আয়নাল হক, চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ছিদ্দিকুর রহমান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার জাহিদ হাসান।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন, অনশন করতে গিয়ে আমাদের ১৫ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন