আজ শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ ইং, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



নোটিশ প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা: আওয়ামী লীগ

Published on 21 December 2017 | 2: 46 am

বিদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সম্পদ নিয়ে বক্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো উকিল নোটিশ প্রত্যাহার না করলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

উকিল নোটিশের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্মেলনে এমন হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চেৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া আইনি নোটিশ দিয়েছেন। আমরা আইনিভাবেই বিষয়টি মোকাবেলা করব।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার এ উকিল নোটিশ পাঠানোর মানে হচ্ছে, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’। জিয়াউর রহমানের পুরনো প্যান্ট কেটে তারেক রহমানের প্যান্ট বানিয়েছিল, খালেদা জিয়া এটি বিটিভিতে বহুদিন প্রচার করেছে।

ভাঙা স্যুটকেস ছাড়া নাকি জিয়ার কিছুই ছিল না! সেই তারেক রহমান বিদেশের মাটিতে কীভাবে জীবনযাপন করছেন, তার তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্ত হওয়া দরকার বিএনপি আমলের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের অর্থ বিনিয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কাছে কোনো তথ্যপ্রমাণ আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ভিত্তিহীন কোনো তথ্য প্রচার করে না। আওয়ামী লীগ কোনো দিন কোনো বানোয়াট কথা বলে না, ভিত্তিহীন তথ্য দেয়নি।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আইনি নোটিশ প্রসঙ্গে একই ধরনের কথা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদও। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে এই আইনি নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে।

তা না হলে, এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নোটিশটি আওয়ামী লীগ সভাপতি হাতে পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, উকিল নোটিশ এখনও আমাদের কাছে আসেনি।

গণমাধ্যম থেকে আমরা নোটিশের বিষয়টি জেনেছি। নোটিশ পেলে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, আমাদের কাছে অবশ্যই তথ্যপ্রমাণ আছে। তা ছাড়া বিভিন্ন অনলাইনে এ বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।

এই আইনি নোটিশ শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চষ্টো- এমন অভিযোগ করে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, যে সময় খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতি দেশে-বিদেশে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে, দুর্নীতির মামলায় তাদের শুনানি চলছে, ঠিক এই সময়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই খালেদা জিয়া আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চষ্টো করছেন। ১২টি দেশে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের এক হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ এসেছে। খালেদা জিয়া জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন।

এ সময় তিনি ২০০১ সাল পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের জন্য খালেদা জিয়াকেই জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কার্য নির্বাহী সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ।


Advertisement

আরও পড়ুন