আজ সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং, ০১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সীমান্তে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা জড়ো হয়েছে প্রবেশের অপেক্ষায় : প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেও রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে

Published on 20 December 2017 | 11: 59 am

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ঢাকায় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন হলেও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বন্ধ হয়নি। এখনো রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি, ফসল ও মূল্যবান জিনিস ফেলে বাংলাদেশের দিকে আসছে। প্রাণ বাঁচাতে তারা কতোটা মরিয়া, তা ফুটে ওঠছে তাদের কথায়। অন্যদিকে, রোহিঙ্গা নেতারা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখছেন না। তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মিয়ানমার সরকারের আরেকটি প্রতারণা মাত্র। বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত না গিয়ে অন্যকোন দেশে চলে যেতে চাইছেন। কেউ কেউ বাংলাদেশের বাসিন্দাদের সঙ্গে সম্পর্ক পেতে বিভিন্ন স্থানে থেকে যেতে চাইছেন।
মিয়ানমারের সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রাম বুচিডংয়ের মোস্তাফিজপাড়া, ছামিলাপাড়া ও কুয়াইচং পাড়া। সমপ্রতি সেখান থেকে প্রায় ১৮ হাজার রোহিঙ্গা এপারে চলে আসার জন্য রাখাইন রাজ্যের ধনখালী এলাকায় জড়ো হয়েছে। এদের মধ্যে থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে ৫০টি পরিবারের প্রায় পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা সীমান্তের নাফনদী পার হয়ে কুতুপালং এসে পৌঁছেছে। বিভিন্ন এনজিও তাদের খাদ্য ও মানবিক সহায়তা দিয়ে মধুরছড়া ক্যাম্পে স্থানান্তর করেছে। তারা বলছেন, মিয়ানমার সরকার সেখানে একজন রোহিঙ্গাকেও থাকতে দেবে না।
গতকাল মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে ওই তিন গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হয়। তারা জানান, বুচিডং ছামিলার দরিয়া পার হয়ে দুইশত মাইল পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী, খাদ ও জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা পায়ে হেঁটেছেন। এভাবে হেঁটে রাখাইনের ধনখালী সীমান্তে জড়ো হতে মাস খানেক সময় লেগেছে। খাবার-দাবার বলতে তাদের সঙ্গে কিছুই নেই। রাখাইনের আশপাশে বসবাসরত কিছু রোহিঙ্গা পরিবার তাদের খাবার-দাবার দিলেও অনেকেই অনাহারে-অর্ধাহারে রয়েছে।
মোস্তাফিজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাকিম আলীর ছেলে ছৈয়দ উল্লাহ (৪৫) জানান, তাদের গ্রামে কোনদিন সেনা সদস্যরা যায়নি। এক মাস আগে হঠাত্ সামরিক জান্তা ও উগ্রপন্থি রাখাইন জনগোষ্ঠী গ্রামে ঢুকে তাদের বসতভিটা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে। তাই তারা সহায়-সম্পদ ফেলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করে এদেশে চলে এসেছেন।
ছামিলাপাড়া গ্রামের হোছন আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৪৭) জানান, মোস্তাফিজপাড়া, ছামিলাপাড়া ও কুয়াইচং পাড়ায় ঘন ঘন টহল দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে সেনারা। তারা মাঝে-মধ্যে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেও রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম’র প্রোগ্রাম অফিসার সৈকত বিশ্বাস রোহিঙ্গা আসার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন ৫০/৬০ জন করে নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢুকছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক সম্পর্কে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ মাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে রোহিঙ্গা নেতা ডাক্তার জাফর আলম, ডাক্তার ফয়সাল ও মাস্টার আরিফ বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের প্রতিশ্রুতি শ্রেফ একটি প্রতারণা।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন