কবি থেকে সাংসদ গোলাম মোস্তফা:একজন সৎ রাজনিতীবিদের প্রতিকৃতি

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যাওয়া গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদ ছিলেন শিক্ষক ও কবি। ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে পা রেখে এ ত্যাগী রাজনীতিক যৌবনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরে গেলেও তিনি জীবনের শেষ বেলায়ও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তবে রাজনীতির বাইরে সাহিত্যের প্রতি অন্যরকম টান ছিল গোলাম মোস্তফা আহমেদের। তিনি কবিতা লিখতেন, ইসলামি ও আধুনিক সঙ্গীত রচনাতেও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা আহমেদ ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়নের ফারাজীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মরহুম আব্দুর রহিম সরকার ও মার নাম সাহেবানী বেগম।
১৯৬৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করে নলডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়েই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।
১৯৬৯ সালে নলডাঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ছাত্রলীগ মনোনীত ভিপি নির্বাচিত হন। সেই থেকে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
এরপর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি, ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ থানা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৭৯ থেকে  ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত থানা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৫ সাল থেকে গোলাম মোস্তফা আহমেদ বারবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও মেধা দিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন। এতে আসনটি শূন্য হওয়ায় গত ২২ মার্চ উপনির্বাচনে গোলাম মোস্তফা আহমেদ এমপি নির্বাচিত হন।
 তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ২০১৫ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।এছাড়া তিনি ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।রাজনীতির বাইরে গোলাম মোস্তফা আহমেদ একজন কবি, সাহিত্যিক, লেখক, আবৃত্তিকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ ‘ হৃদয় কবিতার গুচ্ছ কথা’ ও ‘কবিতা কানন’।
তিনি বৈবাহিক জীবনে এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জনক ছিলেন। পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন। ২০১০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তার তিন সন্তানই শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একজন সৎ, পরিশ্রমী ও নীতিবান মানুষ হিসেবে এলাকার মানুষজনের কাছে পরিচিত।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ নভেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

minhaj rudvi

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market