আজ শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ ইং, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ-মিয়ানমার পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক মঙ্গলবার

Published on 19 December 2017 | 2: 53 am

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং প্রত্যাবাসনের শর্তাবলি (টার্মস অব রেফারেন্স – টিওআর) নির্ধারণ করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মোঃ শহীদুল হক। মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির স্থায়ী সচিব মিন্ট থিউ।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের প্রশাসনিক রাজধানী নেপিদোতে একটি অ্যারেঞ্জমেন্ট সই হয়। তার আলোকে তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া তদারকি করবে। আজকের বৈঠকে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হবে। পাশাপাশি, ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে করণীয় বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হবে। ফলে এই বৈঠককে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা। অপরদিকে, মিয়ানমারের পক্ষ থেকেও একই ধরনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আজ বৈঠকে এ বিষয়ে একটি ঘোষণা দেয়া হতে পারে।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক এ বিষয়ে সোমবার যুগান্তরকে বলেছেন, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ম্যান্ডেট সম্পর্কে অ্যারেঞ্জমেন্টে উল্লেখ রয়েছে। রোহিঙ্গা ফেরত পাঠাতে কোনো সমস্যা হলে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ সময় সময় দেখা করবে। তারা এসব সমস্যার নিস্পত্তি করবে।
সূত্র মতে, রোহিঙ্গাদের কী নামে ডাকা হবে এ নিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অবস্থান হলো, দুই দেশের সই হওয়া অ্যারেঞ্জমেন্টে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী বলা হয়েছে। ফলে এটাই হবে তাদের পরিচয়।
সূত্রটি আরও জানায়, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কৌশল নির্ধারণে অতীতের অভিজ্ঞতা, তাদের প্রত্যাবাসন কীভাবে হবে, তাদের কোথায় রাখা হবে, তাদের কী ধরনের মর্যাদা দেয়া হবে -এসবই উল্লেখ থাকবে।
মিয়ানমারের তরফে অবস্থান হলো, রোহিঙ্গাদের তাদের কাছে দেয়া হবে। তাদের ফেরত দেয়া হলে মিয়ানমার তাদের নিয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থান হলো প্রত্যাবাসন প্লাস। অর্থাৎ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নেয়ার পর তাদের নিরাপত্তা কী হবে। তাদের নাগরিকত্বসহ অপরাপর মর্যাদা কী দেয়া হবে- তার সবই স্পষ্টত জানতে চাইবে বাংলাদেশ। কেননা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া অ্যারেঞ্জমেন্টে কফি আনান কমিশন বাস্তবায়ন করতে উভয়পক্ষ একমত বলে জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেছেন, আজকের বৈঠকে খুঁটিনাটি নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার রেকর্ড কোথায় রাখা হবে। ইউএনএইচসিআর কী ভূমিকা রাখবে এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।
গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলমানদের হত্যা, রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ এবং তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় উগ্র বৌদ্ধ গোষ্ঠীগুলো।
চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক গ্রুপ ‘মেডিসিন সান ফ্রন্টিয়ার্স’ (এমএসএফ) এক জরিপ রিপোর্টে বলেছে, প্রথম মাসেই ছয় হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আগের রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশে মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। আন্তর্জাতিক চাপের কারণে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার রাজি হয়। তার ফলেই দুই দেশ অ্যারেঞ্জমেন্ট সই করে।


Advertisement

আরও পড়ুন