আজ সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং, ০১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



নির্ধারিত সময় পৌঁছে দেয়াই চ্যালেঞ্জ – শিক্ষার্থীরা নতুন বইয়ের অপেক্ষায়

Published on 19 December 2017 | 2: 50 am

নতুন শিক্ষাবর্ষের অধিকাংশ পাঠ্যবই বিতরণের জন্য পাঠানো হলেও আটকে যাচ্ছে নবম শ্রেণীর উন্নতমানের বইগুলো। সোমবার পর্যন্ত মাত্র ৩৬ শতাংশ বই পাঠানো হয়েছে।

শিশুশ্রেণীর পাঠ্যবই পাঠানো বাকি আছে ৩০ শতাংশের মতো। যদিও এনসিটিবি বলছে, কিছু বই পাঠানো বাকি আছে।

এ অবস্থার মধ্যেই পাঠ্যবই মুদ্রণ কাজের অগ্রগতি সরেজমিন দেখতে সোমবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঢাকার বিভিন্ন প্রেসে যান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে বিনামূল্যের বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া আমাদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেটিকে সামনে রেখে আমরা পাঠ্যবই তৈরির কাজ শুরু করি।

২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ১৬২টি পাঠ্যপুস্তক ছাপার কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে সারা দেশে ৯৭ শতাংশ বই পৌঁছে গেছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাকি বই পৌঁছে যাবে।

অন্যান্য বছরের মতো ১ জানুয়ারি বই উৎসব করা হবে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মন্ত্রীর এই প্রত্যাশা পূরণে জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাত-দিন কাজ করে প্রাথমিকের ৯৯ শতাংশ বই পাঠানো সম্ভব হয়েছে। মাদ্রাসা এবং কারিগরি স্তরের অধিকাংশ বই চলে গেছে। কিন্তু দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে সুখপাঠ্য ও শিশু শ্রেণীর বই নিয়ে।

সরকার এবার নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা, ইংরেজিসহ বিজ্ঞান, মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের মোট ১২টি বই সহজ করে পুনর্লিখন ও চার রঙে ছাপাচ্ছে।

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক কায়কোবাদ, অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের মতো বিশিষ্ট শিক্ষকেরা সহজীকরণের কাজে নেতৃত্ব দেন। তারা এসব বইয়ের ব্যাপারে এতটাই আগ্রহী যে, ইতিমধ্যে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল নিজে ছাপার মান দেখতে প্রেসপাড়ায় সরেজমিন যান।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এসব বইয়ের টেন্ডার দেয়ার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম এবং অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করে এনসিটিবি এবং মুদ্রণসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আল মদিনা এবং পিএ প্রিন্টার্স নামে দুই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়। কিন্তু এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় এনসিটিবি অনানুষ্ঠানিকভাবে টেন্ডার ফিরিয়ে এনে অন্যদের কাজ দিয়েছে। কচুয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সরকারি বই ছাপার মতো মেশিন আছে তিনটি। সেই হিসাবে ৯ লটের কাজ পাওয়ার কথা।

কিন্তু এনসিটিবি দিয়েছে ১৪ লট বা সাড়ে ৩৩ লাখ বইয়ের কাজ। ওই প্রতিষ্ঠানটি সোমবার পর্যন্ত মাত্র ১১ লাখ বই পৌঁছাতে পেরেছে বলে খোদ এনসিটিবির দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে জানা গেছে।

অবশ্য কচুয়া প্রিন্টিংয়ের স্বত্বাধিকারী হুমায়ূন কবির  বলেন, ১১ লাখ নয়, ১৪ লাখ পৌঁছানো হয়েছে। আমরা ২২ লাখ বই সরবরাহের ছাড়পত্র পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী আমরা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বই সরবরাহের সময় পাব। ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব সরবরাহের চেষ্টা করব।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সুখপাঠ্যের বই বিলম্বে সরবরাহের আরেকটি কারণ খোদ এনসিটিবিরই সৃষ্টি। এবার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছে। ১২ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত বইয়ের ছাপার আদেশ দেয়া হয়। সেই হিসেবে ১২ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো বই সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মুদ্রণশিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, ‘এনসিটিবির কাজের অগ্রগতি এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক ভালো। যদিও সুখপাঠ্য এবং শিশু শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ের কাজ পিছিয়ে আছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল ব্যবসা নয়, জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে বই ছাপার কাজ নেয়। আমরা প্রাণান্ত চেষ্টা করব ১ জানুয়ারির আগে সরবরাহ শেষ করতে।’

বেকায়দায় ফেলতে প্রশ্নফাঁস : ডেমরা মাতুয়াইলে বেসরকারি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আনন্দ প্রিন্টিং প্রেস পরিদর্শন শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস যুগ যুগ ধরে হচ্ছে। আগে এত বেশি প্রচারণা হতো না। এখন গণমাধ্যম বেড়ে যাওয়ায় তা ব্যাপক প্রচার পাচ্ছে। এর মূল হোতা আমাদের শিক্ষকরা। কেননা, আগের সব স্তরে প্রশ্ন ফাঁসের সন্দেহজনক জায়গা বন্ধ করা হয়েছে। সরকারকে বিপদে ফেলতে পাবলিক পরীক্ষার দিন সকালে অসাধু শিক্ষকরা প্রশ্ন পেয়েই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ফাঁস করে দিচ্ছেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা অসাধু শিক্ষকদের নজরদারিতে রেখেছি। ইতিমধ্যে এমন কয়েকজন শিক্ষককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের উপ-সচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যক্রম বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, সদস্য ড. ইনামুল হক সিদ্দিকীসহ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন