আজ রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৭ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



কিছু শিক্ষকের কারণেই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে – শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ

Published on 18 December 2017 | 6: 45 am

প্রশ্নফাঁস বন্ধের সব উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, কিছু শিক্ষকের কারণেই এটা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে গতকাল সচিবালয়ে দুদকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বহু পরামর্শ আসছে। এর মধ্যে পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশের পর প্রশ্নপত্র পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষকই যখন প্রশ্ন ফাঁসকারী, তখন আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্ন পাঠিয়ে কী লাভ?
তিনি বলেন, বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নফাঁস রোধের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ অবস্থায় শিক্ষকের হাতে প্রশ্ন তুলে দিয়ে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাওয়া উচিত। কিন্তু কিছু শিক্ষক প্রশ্নফাঁস করার কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না।গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও এর ব্যাপকতা পৌঁছেছে প্রাথমিক স্তরে। এর জন্য মন্ত্রী শিক্ষকদের দুষলেও দুদকের ‘শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিমের’ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ সরকারি প্রেস (বিজি প্রেস), ট্রেজারি ও পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ‘অসাধু’ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোচিংসেন্টার, প্রতারক শিক্ষক ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রও যুক্ত থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
প্রশ্নফাঁস, নোট-গাইড, কোচিংবাণিজ্য বন্ধ করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ, এমপিওভুক্তি, নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে দুর্নীতি রুখতে ৩৯ দফা সুপারিশসহ গত ১৩ ডিসেম্বর ওই প্রতিবেদনটি দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড চেয়ারম্যান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে তা পাঠানো হয়। দুদক কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদ গতকাল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ওই প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো নিয়েও তারা কথা বলেন।বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেনÑ কোচিংসেন্টারগুলো শিক্ষকদের লোভ দেখায়, যে কোনোভাবে প্রশ্নফাঁস করে তাদের শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করাতে পারলে ব্যবসা ভালো হবে। লোভের কারণে শিক্ষকরাই কোচিংয়ের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। কিছু শিক্ষক ক্লাসে না পড়িয়ে বাড়িতে বা কোচিংয়ে পড়ান। যত নামি শিক্ষক, ক্লাসে তত কম পড়ান। কারণ ক্লাসে ভালো পড়ালে তার ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাবে।মন্ত্রী অবশ্য আক্ষেপ করে বলেন, আইন না থাকায় সরকার এখন কোচিংসেন্টারের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। শিক্ষা আইন পাস হলেই কোচিংসেন্টারগুলো বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন