আজ মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ ইং, ০২ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ওবামার সফরসংগী এক দু:সাহসী বাংগালী ফটোগ্রাফার

Published on 17 December 2017 | 7: 51 am

বাংলাদেশের সবচেয়ে নামকরা ফটো সাংবাদিকদের একজন জুয়েল সামাদ তার সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু দুঃসাহসিক এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ইরাক রণাঙ্গন থেকে প্রেসিডেন্ট ওবামার হোয়াইট হাউস, এশিয়ার সুনামি থেকে রিও অলিম্পিক, বহু বিচিত্র বিষয় কভার করেছেন। বিবিসি বাংলার সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাত্কারে তিনি বর্ণনা করেছেন তার সেসব অভিজ্ঞতা।

বারাক ওবামা ছিলেন হোয়াইট হাউসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। আর জুয়েল সামাদ তার প্রেস কোরে ঠাঁই পাওয়া প্রথম কোনো বাংলাদেশি সাংবাদিক। হোয়াইট হাউস প্রেস কোরের সদস্য হিসেবে প্রায় সাড়ে  ছয় বছর ধরে বিশ্বের বহু জায়গায় প্রেসিডেন্ট ওবামার সফরসঙ্গী ছিলেন জুয়েল সামাদ। ছিলেন বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। তবে এর মধ্যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনেক মধুর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের স্মৃতিও আছে।হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের ‘ট্রাভেল পুলে’ অন্তর্ভুক্ত হতে পারাটা যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা সাংবাদিকদের জন্যও ভাগ্যের শিঁকে ছেঁড়ার মতো ব্যাপার। এপি, এএফপি, রয়টার্স এবং নিউইয়র্ক টাইমস, শুধু এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক ফটোসাংবাদিক থাকেন হোয়াইট হাউসে। অর্থাত্ প্রেসিডেন্ট যেখানেই যাবে, তার সঙ্গে থাকবেন এই চারজন। সাংবাদিকরা যখন খ্যাতির শিখরে পৌঁছান, তখন সাধারণত ‘প্রাইজড পোস্টিং’ হিসেবে হোয়াইট হাউজে পাঠানো হয়। জুয়েল সামাদের জন্য সেখানে কাজ করার সুযোগটা এসে গিয়েছিল বেশ অপ্রত্যাশিতভাবে। এরকম একটা বিরল সুযোগ পেয়ে জুয়েল সামাদ ছিলেন ‘সুপার একসাইটেড’।

জুয়েল সামাদ ২০০০ সালে ক্যারিয়ারে প্রথম বড় সুযোগ পান এএফপির ঢাকা অফিসে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। তিনি বলেন, ‘এএফপিতে যোগ দেওয়ার পর বুঝতে পারি ফটো জার্নালিজম মানে বাংলাদেশের গন্ডিতে আটকে থাকা নয়। সারা বিশ্বে কাজ করার সুযোগ আছে। তখন থেকেই আমার ইচ্ছে হয়, আরও অনেক ধরনের অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করার। এএফপিতে আমি সুযোগগুলো পাই।’

জুয়েল বলেন, ‘আফগান এবং ইরাক যুদ্ধ আমার ক্যারিয়ারের বড় দুটি ঘটনা। এই দুটি যুদ্ধ আমাকে তৈরি করেছে। আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর সেখানে পাঠানো হয় আাামাকে। আমি ছিলাম পাকিস্তান-আফগানিস্তান বর্ডারে। যখন তালেবানের পতন হয়, তখন কাবুলে যাই। ভয়ের চেয়ে উত্তেজনাটাই বেশি কাজ করছিল এরকম একটা সুযোগ পেয়ে।’ মোট পাঁচ দফায় ইরাক যুদ্ধ কভার করেছেন জুয়েল সামাদ। সেখানেও ছিল অনেক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা।

জুয়েল সামাদ এখন এএফপির নিউইয়র্ক ব্যুরোতে কাজ করেন। কিন্তু তারপরও বিশ্বের যেখানেই বড় কোনো ঘটনা ঘটে, সেখানে পাঠানো হয় তাকে। তার স্বপ্ন, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ফটো সাংবাদিকদের জন্য কিছু করা।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন