আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক – রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা সুপারিশ

Published on 14 December 2017 | 2: 27 am

মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আবারও বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সংকট সমাধানে ৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

এ সময় জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রি ফেল্টম্যান ও মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমীলা প্যাটেন রোহিঙ্গা নারীদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

এদিকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) ৮১টি বেসরকারি সংগঠন। মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের বক্তব্য তুলে ধরেন যৌন সহিংসাতবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমীলা প্যাটেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ যৌন সহিংসতার বাস্তব চিত্র নিজ চোখে দেখেছেন। তিনি বলেন, যারা এখনও যৌন সহিংসতার ক্ষতচিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন এবং যারা নিষ্ঠুরতম এ যৌন সহিংসতার দৃশ্য নিজ চোখে দেখেছেন, তাদের সবাই আমাকে বলেছেন, নারকীয়ভাবে মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা ধর্ষণ, গণধর্ষণ, জনসম্মুখে বিবস্ত্রকরণ এবং সেনাক্যাম্পে আটক রেখে দিনের পর দিন রোহিঙ্গা নারীদের যৌনদাসত্ব গ্রহণে বাধ্য করার মতো জঘন্য কাজগুলো করেছে।

তিনি সহিংসতার শিকার এমন অনেক নারীর উদাহরণ দেন যাদের কেউ কেউ টানা ৪৫ দিন সেনা ক্যাম্পে ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেক মেয়েকে তার স্বামী অথবা বাবার সামনে উলঙ্গ করে ধর্ষণ করা হয়েছে। অনেক মায়ের সন্তানদের গ্রামের জলকূপে ডুবিয়ে মারা হয়েছে। শিশুকে কেড়ে নিয়ে শিশুর সামনে মাকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ধর্ষণ শেষে শিশুটিকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এমনই সব মর্মস্পর্শী বর্ণনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে প্যাটেন সর্বোচ্চ দ্রুততম সময়ে এ সহিংসতার সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের সর্বক্ষমতা প্রয়োগের আহ্বান জানান।

বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে বিবৃতি দেন জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রি ফেল্টম্যান। তিনি মিয়ানমার সংকটের সমাধানে ৫টি সুপারিশ তুলে ধরেন। সেগুলো হল- ১) রাখাইন স্টেটের অ্যাডভাইজরি কমিশনের সুপারিশমালাকে ভিত্তি ধরে শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, ২) প্রত্যাবাসন হতে হবে উচ্ছেদকৃতদের মুল ভূমিতে বা পছন্দনীয় কাছাকাছি কোনো স্থানে, ৩) অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতা থাকতে হবে যাতে তারা জীবন ধারণের মৌলিক প্রয়োজনগুলো সংস্থান করতে পারে, ৪) প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদণ্ড উদারভিত্তিক হতে হবে, ৫) সব প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, এখনও প্রতিদিন গড়ে ১০০-৪০০ জন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, রাখাইন প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। তিনি সম্প্রতি উত্তর ও মধ্য রাখাইন প্রদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এদিকে যৌথ বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউসহ ৮১টি সংগঠনগুলো বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক থেকে কার্যকর কোনো ফল আসবে বলে তারা মনে করছে না। আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়াসহ ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ যে সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রত্যাবাসন চুক্তির নতুন খসড়া প্রণয়নের আহ্বান : রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির নতুন খসড়া প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। সোমবার দুই দেশের সরকারের উদ্দেশে এক চিঠিতে এ আহ্বান জানায় মানবাধিকার সংগঠনটি।

নতুন এ খসড়া প্রণয়নে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারকে সংশ্লিষ্ট করতেও বলেছে এইচআরডব্লিউ। প্রত্যাবাসন উদ্যোগে অর্থায়ন করা দাতাদের প্রতি মানবাধিকার সংস্থাটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করারও আহ্বান জানায়।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন