সুন্দর সোনার সন্দ্বীপটাকে রক্ষা করুণ (প্রথম পর্ব)

:: আকতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোহসীন ::


আমাদের জম্মস্থান অনেক পুরানো এক জনপদ সন্দ্বীপ । চারিদিকে সবুজের সমারোহে ঘেরা নির্মল সুন্দর একটি জনপদ । যে কোন লোকের চোখ জুড়িয়েছে এবং এখনো চোখ জুড়ায় । অনেক সুখী সমৃদ্ধ আমাদের এ জনপদ । চারিদিকে সাগর বেষ্টিত এ জনপদ । পশ্চিমে হাতিয়া থেকে আলাদা হওয়ার খাল, উত্তরে কোম্পানীগঞ্জ থেকে আলাদা হওয়ার খাল, পূর্বে সীতাকুন্ডু এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনা, দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সন্দ্বীপের সীমানা বলে জানা যায় । অনেক সুখী সুন্দর জনপদ আমাদের এই জনপদ । এ দ্বীপে উৎপাদিত কৃষি আর শিল্প সামগ্রী নিজেদের চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্য জেলায়ও প্রেরন করা হতো । এমন কি দেশের বাইরেও রপ্তানী হয়েছে স্থানীয় স্টিমার, ট্রলার আর নৌকায় । আজ সে সব মানুষের মুখে শোনা গল্প, ইতিহাসে পড়া কাহিনী, প্রবীণদের শোনা রূপকথার গল্পের মত মনে হয় । আজ আর সন্দ্বীপের সেই চেহারা নেই । জরাজীর্ণ রুগ্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে । ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলেছে অতীতের সব গৌরব । সে সন্দ্বীপের জন্য প্রাণ কাঁদে সেখান জম্ম নেয়া সব সন্দ্বীপবাসীর । কিন্তু কিছু করার ক্ষমতা না থাকলে ও সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ থাকবে সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সর্বস্তরের সকলের যেন আমাদের জম্ম স্থান সন্দ্বীপকে বাচাতে সর্বাত্তক সহযোগিতা করেন ।

ইতিহাস থেকে জানা যায় হাজার বছর আগে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই সন্দ্বীপ । দেশী বিদেশী সওদাগরদের কাছেও এই সন্দ্বীপের অনেক কদর ছিল । এ দেশে আগমন করতেন দেশ বিদেশের সওদাগরগণ । তখন মানুষের ভ্রমণের প্রধান মাধ্য ছিল হরেক রকম সাজ সজ্জার ছোট বড় জলযান । তাহলে জলযানের জন্য সন্দ্বীপের চেয়ে ভাল স্থান আর কী হতে পারে ? আজ তা সময়ের হাত ধরে বদলে গেছে । বিদেশীরা এই দ্বীপকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডেকেছেন । কত প্রশংসা করেছেন তার হিসেব নেই । ফলে ফুলে এই দবীপের কোন জুড়ি ছিল না । খ্যাতি আর গুনের অনেক প্রশংসা করেছে । সন্দ্বীপের আতিথেয়তার কথা আজও দেশ বিদেশের মানুষের সকলের মুখে মুখে । কোন এক সময় নিজেরাই সয়ংসম্পূর্ণ ছিল । তাদের তেমন বাইরের উপর নির্ভর করতে হতো না । ফলে বাইরের সাথে তেমন যোগাযোগ ও ছিল না বলা চলে । শান্তিপূর্ণ মানুষগুলো নিজেরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতো । অথচ এখন সন্দ্বীপের সামর্থবান মানুষগুলো জীবন বাচাতে সন্দ্বীপ ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে নদী ভাঙ্গনের উপদ্রব থেকে বাঁচতে । সন্দ্বীপ ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে । যা সন্দ্বীপকে পিছনে পড়া আরও এগিয়ে দিচ্ছে । সন্দ্বীপবাসীকে সন্দ্বীপে রাখার মত অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে দিলে সন্দ্বীপে যাতায়াত বেশী হলে নিশ্চয় নিজেরাও কিছু উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেন ।

এ দ্বীপে জম্ম হয়েছে অনেক সাহসী বীরের । জম্মেছে বিশ্বে সুপরিচিত রাজনীতিকবৃন্দ । এ দ্বীপে শিল্পপতি আর ব্যবসায়ী জম্মেছে অগুনীত । তাঁরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে দেশ গঠনে অপার ভুমিকা রেখে চলেছেন । অনেক মেধাবী ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ারও জম্মেছেন । যারা দেশে আর বিদেশে দেশ, জাতি, মানুষের কল্যাণে নিরলস কাজ করে চলেছেন । অনেক বড় থেকে ছোট সব মাপের মানুষেরও অভাব নেই এই দ্বীপে । যাদের ভুমিকাও সারা দেশে অনেক প্রশংসনীয় । শিক্ষক, বুদ্ধিজীবি, লেখক, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিকও কম নেই । যারা দেশ, জাতি, মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন । দেশ ছেড়ে বিদেশেও এ দ্বীপের কীর্তিমান সন্তানদের অভাব নেই । কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গেলেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এ দ্বীপবাসী সারা দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে । দেশ গঠনের ভূমিকায়ও এ দ্বীপের লোকের অভাব নেই । স্বাধীনতা যুদ্ধেও এ দ্বীপের সন্তানেরা পিছিয়ে ছিল না । রয়েছে অনেক স্বনাম ধন্য মুক্তিযোদ্ধারা । দেশের সব কাজে এ দ্বীপের অংশীদারের অভাব নেই । এই দ্বীপের কীর্তিমানেরা এমন অনেক জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যা হয়তো অনেকে জানিও না । তবে যে যেখানে থাকুক সবায় দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন । এ দ্বীপের মানুষের কীর্তির কোন কমতি নেই । এক কথায় প্রশ্ন করা যায়, কী নেই এই সন্দ্বীপের ? আমরাও গর্ব ভরে উত্তর করতে পারি, আমাদের সব আছে । কেবল আমাদের উন্নয়ন নেই ।

বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় সময় আর প্রযুক্তির সাথে সাথে সারা বিশ্বে অনেক পরিবর্তন হয়েছে । আজ আধুনিকতার ছোঁয়া পরেছে সারা বিশ্বজুড়ে । আংশিক হলেও প্রযুক্তি আর আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বাংলাদেশও বাদ পরেনি । জলযানের অনেক উন্নয়ন হয়েছে । জলযানের স্থলে ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে স্থলযানের । স্থলযানের স্থলে ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে আকাশযানের । আমাদের দেশেও বৃদ্ধি পেয়েছে আধুনিক ও উন্নত মানের বিমান বন্দর । অনেক উন্নতি হয়েছে সড়ক পথের । সেতু থেকে ব্রীজ, বহুমুখী সেতু সব কিছুর উন্নয়ন হয়েছে । সারা বাংলাকে যুক্ত করে যোগাযোগ বিপ্লব এনে দিয়েছে দীর্ঘতম যমুনা সেতু । এক করে দিয়েছে উত্তর – দক্ষিন আর পূর্ব – পশ্চিমকে । নতুন প্রানের সঞ্চার করেছে নির্মাণাধীন ঐতিহাসিক পদ্মা সেতু । যা বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে এগিয়ে নিয়ে যাবে আরও এক ধাপ । সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সব কিছুর বিপ্লব ঘটেছে । প্রযুক্তি আর আধুনিকতার স্রোতে বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সারা বাংলাদেশও । এ অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে আছে কেবল আমাদের জম্মস্থান সোনালী সন্দ্বীপ । যার গায়ে কোন প্রকার উন্নয়ন স্পর্শ করেনি । দাঁড়িয়ে আছে সেই চিরকালের মত অবহেলাকে বুকে নিয়ে । কেউ চোখ মেলে তাকায়নি তার সে জম্ম থেকে ।


লেখক- সাহিত্যিক এবং সমসাময়িক বিষয় লেখক
(www.rokomari.com/book/author/12661/

শাহাদাৎ আশরাফ শাহাদাৎ আশরাফ

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market