আজ রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ০৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



গলাটিপে বাচ্চাদের মধুর শৈশব নষ্ট করতেই আমার চরম বিতৃষ্ণা

Published on 09 December 2017 | 11: 13 am

:: আইরিন তাহের ::


আমি দু’সন্তানের মা। বড় ছেলে ক্লাস থ্রি তে আর মেয়ে সাড়ে চার বছর। গতকাল চট্টগ্রামের বাওয়া স্কুলে গেলাম মেয়েকে ভর্তির সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করতে।আমার মেয়েকে আমি তেমন কিছুই শিখিয়েপড়িয়ে যাইনি। ভেবেছি, ছোট মানুষ…যা পারে!! ওমা, গিয়েই চোখ ছানাবড়া!! মা, বাবাদের সিরিয়াসনেস দেখে আমার রীতিমত ভিমরি খাওয়ার যোগাড়।বাচ্চাগুলোকে দেখে মনে হচ্ছে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।।

আমার মেয়ে ও আমি পটরপটর গল্পই করছি। মেয়েকে বলছি, যা পার বলবে, না পারলে বলবে পারি না!! সবাই আমাদের দিকে কি অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে!!
আমি কি আসলেই আধুনিক সমাজে অচল????

আমি চাই, আমার বাচ্চারা পড়াশুনাটা চাপ হিসেবে না নিয়ে আনন্দ নিয়ে পড়ুক। বাড়তি কোচিং নামে প্রহসনে আমার নিদারুণ অনীহা। এমন অনেককে দেখছি, বাচ্চাদের পড়াশুনার জন্য অসুস্থ হয়ে পড়তে। আমি হয়তো আধুনিক তথা যুগোপযোগী মা হতেই পারলাম না!! কিন্তু আমি যখন দেখি, আমার বাচ্চা মোটামুটি সব বুঝেই আনন্দে পড়াশুনা করে,তাতেই খুশি!!! কি করব?? আমার যে চাহিদা কম……পাশ নাম্বার পেলেই আমি খুশি।।গলাটিপে বাচ্চাদের মধুর শৈশব নষ্ট করতেই আমার চরম বিতৃষ্ণা।


 লেখকের ফেসবুক ষ্ট্যাটাস থেকে নেয়া। লেখক, একজন অভিবাবক এবং ব্যক্তি জীবনে একজন শিক্ষক। নীচে ফেসবুকের কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হল


Nasim Mostafa আমারই তোমার সহমত, শিশুরা আনন্দে যা শিখে তা কখনো ভুলেনা, এতে তারা আত্ববিস্বাসী হয়। বাকিগুলি পড়ার নামে কোচিং ব্যবসা। গ্রাম থেকে উঠে আসা বাচ্চারা কি ডাক্তার হয়নি? আমার নিজের অনেক ছাত্র গ্রামের প্রাইমারী ও উচ্চ বিদ্যালয়ের গন্ডি পেড়িয়ে ঢাকা বিস্ববিদ্যালয় হতে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে আজ জেলা শিক্ষা অফিসার, কেউ ল ইয়ার আবার অনেকে ব্যাংকার, সো নো টেনশন। শুধু শিশুকে ধারন ক্ষমতার মধ্যে পড়তে দাও। বইয়ের ভুত চাপানোর দরকার নেই।

Nilanjana Das এত বিদ্যার্জনের দরকার কি? খেলতে খেলতে গান করতে করতে অনেক বেশিকিছু শিখা যায়। শিশুদেরকে প্রকৃতির কোলে ছেড়ে দিতে হবে। জোর করে জ্ঞানার্জন করা যায়না, তাতে হিতে বিপরীত হয়।তোমার এই লিখার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
Salim Ullah আমাদের দেশে শিক্ষাকে গিলানো হয়

Nurul Hoque আসলেই তাই আমরা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য চাপটা বেশি দিই। সেটা ঠিক না।

মোহাম্মদ নুরুচ্ছাফা জোর করে জ্ঞানার্জন করা যায় না, তাতে অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়,,তাই যে কোন শিশুদেরকে তাদের মত করেই শিখতে দেওয়া উচিত,,,

Biddut Sen দুরন্ত শৈশব ও আনন্দময় কৈশোর এই দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ l

মোহাম্মদ লোকমান এখন মা’দের যত্ত টেনশন সব বাচ্ছাদের পড়ালেখা নিয়ে!
বাচ্ছাদের দুরন্ত শৈশবও নষ্ট,
নিজেদের সুখশান্তিও নষ্ট!

 Abul Kalam অতি উৎসাহী আধুনিক মায়েদের চেয়ে আপনার মতো সচেতন মা’ই পারে নেপোলিয়নের মতে একটি সুন্দর জাতি উপহার দিতে।ধন্যবাদ একটি যোগোপযোগী শিক্ষনীয় লিখার জন্য।সকল শিশুই সুপরিচর্যায় বেড়ে উঠুক আগামীর একটি অত্যাধুনিক সুস্থ সমাজ বিনির্মানে, এই শুভ কামনা।
Shaik Ahmed Tito এখানে ভালো ছাত্রী ভর্তি হয় বলে ভালো স্কুল।একজ নের দেখায় আর একজন এগিয়ে যায়।মেধা শক্তি আল্লাহর দান আপনার মেয়ে যদি ভালো হয় যেখানে ১০০% ফেইল করে সে স্কুলে সে গোল্ডেন A+ পাবে।তাই ভালো স্কুল কলেজে পড়লে ভালো হবে তাই না।

Akteruzzaman Mohammad Mohasin আপনাকে অভিনন্দন । আপনার মত মা এ দেশে অন্তত ৬০% থাকলেই বাংলাদেশের বর্তমান উদ্ভট শিক্ষা ব্যবস্থাটার কান ধরে উল্টো ঘুরিয়ে দেয়া যেত । কিন্তু আপনিই শিকার করবেন আমাদের ৯০% মায়েরাই ছেলে মেয়েদের সাথে প্রতিযোগী হয়ে উঠেন বলেই, কোচিং চলছে, প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, আট বছরের বাচ্চাকে পাঁচ বছর বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে, পিএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় পঞ্চম শ্রেনির ছাত্র ছাত্রীদের সাথে কিছু যুবক যুবতীও (বিশেষ করে নামী দামী স্কুল গুলো হতে) পরীক্ষা দিচ্ছে । এমন সুন্দর অনুভুতি প্রকাশের জন্য আপনাকে সালাম ।

 Md Sajjad Ali কি দরকার বাচ্চাকে রেইসের ঘোড়া বানিয়ে। পড়ুক না নিজের মতন, আপন খেয়ালে, আপন ইচ্ছায়। 
সার্টিফিকেট দিয়ে কি হবে?? বাচ্চারা রেইসার না হয়ে মানুষ হোক, আলোকিত মানুষ।


Advertisement

আরও পড়ুন