আজ রবিবার, ১৯ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আবদুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আওয়ামী রাজনীতির অতন্দ্র প্রহরী

Published on 08 December 2017 | 5: 48 am

 
 
শখের বসে যা শুধুমাত্র নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের মানসে তিনি রাজনীতিতে আসেনেনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশ নামক শিশু রাষ্ট্রটিকে হায়েনারা যখন লুটপাটের ক্ষেত্র মনে করে ধ্বংসের উৎসবে মেতে উঠেছিল, লাখ, লাখ শহীদের আত্মদানে অর্জিত বাঙ্গালীর স্বাধিকার নিয়ে যখন কানামাছি খেলা চলছিল ঠিক তখনই কঠিনতম দু:সময়ে এদেশের কিছু সাহসী তরুন স্বৈরাচারের বন্দুকের সামনে দাঁড়াবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল। পঁচাত্তর-উত্তর কঠিন সময়ে খুনি হয়েনারা যখন ক্যু পাল্টা ক্যু নিয়ে রাষ্ট দখলের খেলায় মগ্ন, আদর্শহীন সুবিধাভোগীরা ও তখন দিশেহারা ছিল। কিন্তু মননে যারা বঙ্গবন্ধু, একাত্তর আর স্বাধীনতাকে ধারণ করেছিল তারা দিশেহারা হয়নি। পঁচাত্তর-উত্তর সেই কঠিন সময়ে সীতাকুণ্ডের ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন- সাহসী তরুণ আবদুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া।
 
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই অগ্রণী সৈনিক রাজনীতিতে যুক্ত হবার প্রাক্কালে শপথ করেছিলেন পিতাহারা এই এতিম রাষ্ট্রটিকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে জীবনবাজি রেখে আমৃত্যু কাজ করে যাবেন।
 
ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েই তিনি সামরিক শাষকদের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্কুলে, পাড়ায়- পাড়ায় গিয়ে ছাত্রদের মুজিবাদর্শের পতাকাতলে সংগঠিত করেছেন। কোন রকম পদ-পদবি বা সুযোগ-সুবিধার না নিয়েই জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন সীতাকুণ্ডে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে। পালন করেছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব।
 
দীর্ঘ ছাত্ররাজনীতির পাঠ চুকিয়ে পরবর্তীতে যুক্ত হন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। যুবক বাকের ভুঁইয়ার রাজনৈতিক দুরদর্শিতা, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান কর্মে সৃজনে মুগ্ধ হয়ে ১৯৯২ সালের ১১ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। সেই থেকে অদ্যাবধি তিনি দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে সততা, নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে তিনি নির্জীব, নিস্ক্রিয় সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করেছেন।
 
সৈয়দপুর থেকে সলিমপুর পর্যন্ত গ্রামে, গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও গতিশীল নেতৃত্বের কারণে খুব অল্প সময়েই সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগ গতি সঞ্চার করে।
 
১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হেবিওয়েট প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এলকে সিদ্দিকীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাশেম মাস্টারের সহজ বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
 
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর তিনি স্থানীয় সাংসদকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার পাশাপাশি সংগঠনকে অধিকতর শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে নিরলস কাজ করে যান।
 
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসলে দেশের অন্যান্য স্থানের মত সীতাকুণ্ডেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন-নিপীডন শুরু হলে তখন বাকের ভুঁইয়া সীতাকুণ্ড আওয়ামী লীগের একমাত্র অভিবাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সব ধরনের মামলা-হামলা প্রতিহত করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
 
এছাড়াও তৎসময়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপি জামায়াত সরকারের গণবিরোধী সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি সীতাকুণ্ডের রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
 
আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া ২০০৯ সালে সীতাকুণ্ডে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৯ সাল থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর সীতাকুণ্ডের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়েনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। বলা চলে ওই সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বাকের ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সীতাকুণ্ড উপজেলার ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছিল।
 
২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট আন্দোলনের নামে সীতাকুন্ডে ব্যাপক সহিংসতা করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে তাদের সন্ত্রাস নৈরাজ্য প্রতিরোধে রাজপথে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। ওই সময় একাধিকবার তার বাড়িতে, গাড়িতে বিএনপি,-জামায়াত হামলা চালিয়েছিল। তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেঝ সন্তানকে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা করে মারাত্মক আহত করে।
 
সন্ত্রাস নৈরাজ্য প্রতিহত করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দিদারুল আলমকে বিজয়ী করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। শত চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজও বাকের ভূঁইয়া সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগ কে আগলে রেখেছেন নিজের সন্তানের মত।
 
নিজের জীবন যৌবনের দীর্ঘ ২৫টি বছর ব্যয় করেছেন সীতাকুণ্ডের আওয়ামী লীগের কল্যাণে। সংগঠন পরিচালনা করার প্রয়োজন নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করতেও পিছপা হননি তিনি। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অতীত এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। প্রকৃত রাজনীতিবিদরা কখনো কিছু পাওয়ার জন্য রাজনীতি করেন না। আমি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে দেশ মাতৃকার সেবা করার মানসে। জীবনের দীর্ঘ সময় রাজনীতি করতে গিয়ে সু-সময়, দুঃসময় সব সময়ই নেতাকর্মীদের নিখাঁদ ভালোবাসাই আমার চরম পাওয়া। আমি কখনো বিত্ত-বৈভবের পেছনে ছুটিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল থেকে সব সময় দলের এবং নেতাকর্মীদের মঙ্গল চেয়েছি।
 
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ২৫ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। দলের নানা দুঃসময়েও আমি শক্ত হাতে সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছি। সকল প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি ধৈর্যসহ মোকাবেলা করে সংগঠনকে মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছি। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলার ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক উন্নয়ন করেছি। আমার এলাকার আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা চান আগামী সংসদ নির্বাচনে আমি যেন দলীয় হাইকমান্ডের কাছে মনোনয়ন চাই। আমাদের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেন, তাহলে আমার উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মিশন-ভিশন বাস্তবায়ন ও সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে, সীতাকুণ্ডের উন্নয়নে বিরামহীন কাজ করতে পারব।
 
তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করছি- আগামী সংসদ নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মাঠের দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া, ত্যাগী ও প্রকৃত রাজনীতিবিদদের মনোনয়ন দেবেন এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগ অতীতের চেয়েও অনেক শক্তিশালী- এক ও ঐক্যবদ্ধ দাবি করে তিনি বলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং আমি সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে উপজেলার প্রতিটি ইউনিটের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে সকল দলীয় কর্মসূচি ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে।
 
সস্তা কোন জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নয়, সীতাকুণ্ডের মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও বিশ্বাসকে পুঁজি করে সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে, সীতাকুণ্ডের উন্নয়নে বিরামহীন আত্মনিয়োগ করতে চান সীতাকুণ্ড আওয়ামী রাজনীতির দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া ত্যাগী নেতা আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া।
 
পারিবারিক জীবন: সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী জমিদার পরিবারের সন্তান আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া বাবা মরহুম ফররুখ আহমেদ ভূঁইয়া ছিলেন সীতাকুণ্ডের প্রখ্যাত জমিদার ও নির্ভীক সমাজকর্মী। সাফল্যের সাথে পালন করেছেন মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। সীতাকুণ্ডের শিক্ষা প্রসারে তার অগ্রণী ভূমিকার কথা আজও সীতাকুণ্ডের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। তিনি সীতাকুণ্ড আলিয়া মাদ্রাসা, সীতাকুণ্ড বালিকা বিদ্যালয়, ফোরকানিয়া মাদ্রাসাসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার শ্বশুর মরহুম মোদাচ্ছের আহমেদ ছিলেন সন্দ্বীপ থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সর্বপ্রথম তিনিই সন্দ্বীপের সন্তান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার সহধর্মিনী সুরাইয়া বাকের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা ও সীতাকুণ্ড উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘ সময় ধরে। আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার জেষ্ঠ্য সন্তান ভূঁইয়া সামি আল মুজতবা শুভ চট্টগ্রাম সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। মেঝ ছেলে ভূঁইয়া সামি আল সামাদ সীমান্ত সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
সুত্র : ঢাকা টাইমস


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন