শতাধিক রিকশা ও দেড়শ’ সিলিন্ডার ভস্মীভূত – প্রগতি সরণিতে গ্যাস সিলিন্ডার গুদামে আগুন

nodda-fire_65509_1512599962

রাজধানীর ভাটারায় প্রগতি সরণির নর্দা এলাকায় বুধবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। রিকশা গ্যারেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে পাশের গ্যাস সিলিন্ডারের গুদামে ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ সময় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৯টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যস্ততম প্রগতি সরণিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় সোয়া ১ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে শতাধিক রিকশা ও প্রায় দেড়শ’ গ্যাস সিলিন্ডার এবং বেশ কিছু বসতবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে নর্দা রহিম মহাজনের রিকশা গ্যারেজে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন পুরো গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। কিন্তু গ্যারেজের ভেতর গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পানি দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করতেই আগুনের মাত্রা বেড়ে যায়। একে একে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় সোয়া ১ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সরেজমিন দেখা গেছে, রহিম মহাজনের রিকশা গ্যারেজটি পুড়ে গেছে। গ্যারেজের আশপাশে থাকা কয়েকটি বাসাবাড়িও ভস্মীভূত হয়েছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে লোকজন আহাজারি করছেন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন গ্যারেজের ভেতর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করে আনছে। এদিকে আগুন লাগার কারণে প্রায় সোয়া ১ ঘণ্টা রাস্তায় যানবাহন বন্ধ ছিল।

রাস্তার দুইপাশেই প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। সেলিম খান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, গ্যারেজ মালিক রহিম মহাজান গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করেছেন। তার গুদামে গ্যাস সিলিন্ডার ছাড়াও কেরোসিনের মজুদ ছিল। অনেকটা অবৈধভাবেই এগুলো সেখানে মজুদ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন সেলিম খান। পাশাপাশি গ্যারেজসংলগ্ন স্থানে আধাপাকা ঘর তৈরি করে ৫টি পরিবারের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। এসব বাসার মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, গ্যারেজের সামনেই বিলাপ করছিলেন বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুন। তিনি জানান, ওই সময় রাস্তার পাশে পিঠা তৈরি করছিলেন। আগুনে তার সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরের ভেতর নগদ ১৫ হাজার টাকাসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে। গ্যারেজ মালিক গ্যাস সিলিন্ডার রাখতে বাধ্য করেছিলেন।

আগুনে প্রায় শতাধিক রিকশা ও দেড়শ’ সিলিন্ডার পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আগুনে কেউ হতাহত হয়নি।

Mahabubur Rahman Mahabubur Rahman

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market