আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



দুদকের কাঠগড়ায় বাচ্চু – ‘ঋণ জালিয়াতির ঘটনা আমি জানি’

Published on 05 December 2017 | 4: 52 am

বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি ও দুর্নীতির মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে অবশেষে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার দু’জন পরিচালকের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের তদন্ত টিম তাকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে।

ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা জানেন বলে স্বীকার করেছেন বাচ্চু।

তবে এর জন্য তিনি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফখরুল ইসলাম, তিনজন ডিএমডি ও তিনজন শাখা ম্যানেজারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তিনটি সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন।

দুদকের নবনির্মিত জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেন, ‘আমাকে পুনরায় বেসিক ব্যাংকের দায়িত্ব দেয়া হলে আমি ব্যাংক থেকে বের হয়ে যাওয়া টাকা পুনরুদ্ধার করে দেব।’

তার এমন দাবিকে এক ধরনের ‘মশকারা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বাচ্চু বলেন, ‘আমার অনেক টাকার সম্পদ আছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

তাই বেসিক ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করার প্রশ্নই ওঠে না।’ বাচ্চু বলেন, ‘ঋণ জালিয়াতির ঘটনা আমি জানি। এটি মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে বুঝতে পারি যে, বড় ধরনের লুটপাট হয়ে গেছে।

তখন আর কিছু করার ছিল না।’ ঋণ অনুমোদনে অনিয়মের ঘটনায় বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি (বাচ্চু) সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, বাচ্চু নিজেকে আড়ালে রেখে যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তা এক ধরনের মশকারা।

কারণ চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ঋণ অনিয়মের দায় এড়াতে পারেন না। তিনি অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।

বাচ্চুকে মামলার আসামি করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন কে আসামি হবে, কে হবেন না।’

আবদুল হাই বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়। কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করার পর চাপের মুখে থাকা বাচ্চু পদত্যাগ করেন।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির ঘটনায় ৫৬টি মামলা করে দুদক। সবক’টি মামলায় ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামসহ ব্যাংকের পদস্থ কর্মকর্তা ও শাখা ম্যানেজারদের আসামি করা হলেও বাচ্চু কিংবা পর্ষদের কাউকে তখন আসামি করা হয়নি। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে দুদক। এমনকি বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

উচ্চ আদালত থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, বোর্ড সদস্যরা কেন আসামির তালিকায় নেই। তাদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ আসার পর দুদক থেকে সিদ্ধান্ত হয়, বাচ্চুসহ বোর্ড সদস্যদের আইনের আওতায় এনে তদন্ত করা হবে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদও বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন। সে মোতাবেক বাচ্চুসহ এ পর্যন্ত ১০ পর্ষদ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করল দুদক। এর মধ্যে একজন সদস্য বাচ্চুর বিরুদ্ধে দুদকের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে জবানবন্দি দিয়েছেন। বলেছেন, বাচ্চুর প্রভাবে সব কিছু হতো। অন্য ৮ সদস্য বোর্ডের গাফিলতি বা দুর্নীতির ঘটনা এড়িয়ে যান।

সূত্র জানায়, পর্ষদের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, তাদের বক্তব্য এবং ঋণ জালিয়াতিসংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়ে সোমবার আবদুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক টিম।

সকাল ৯টায় আবদুল হাই বাচ্চু দুদক পরিচালক জায়েদ হোসেন খানের কক্ষে যান। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর টিম সদস্যরা তাকে নিয়ে যান জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে।

এ সময় তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বাচ্চুকে একের পর এক প্রশ্ন করা শুরু করেন। প্রথমেই তার কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘এতবড় অনিয়মের ঘটনা ঘটল আপনি চেয়ারম্যান হিসেবে কি ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন?

ঋণ জালিয়াতি ঠেকাতে বোর্ডের কি ভূমিকা ছিল?’ উত্তরে বাচ্চু বলেন, আমি ২০১০ সালে একটি সার্কুলার জারি করে কোনো প্রকার অসম্পূর্ণ ঋণ প্রস্তাব বোর্ডে উপস্থাপন না করার জন্য সতর্ক করেছি।

তার পরও কেন করা হল সেটা আমি বলতে পারব না। এটা বলতে পারবেন সাবেক এমডিসহ ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির সদস্যরা। তারা যেভাবে বোর্ডে ঋণ প্রস্তাব তুলেছেন, সেভাবেই তাতে বোর্ড সদস্যরা অনুমোদন দিয়েছেন।

শাখা থেকে নেতিবাচক প্রস্তাব দেয়ার পরও কেন বোর্ড সেটা যাছাই না করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ অনুমোদন দিয়েছে- এ প্রশ্নে বাচ্চু বলেন, বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখার ম্যানেজার ও ক্রেডিট কমিটির সদস্যরা বোর্ডকে ভুল বুঝিয়েছে। তিনি বলেন- গুলশান, মতিঝিল ও শান্তিনগর শাখা ম্যানেজার, প্রধান কার্যালয়ের মোনায়েম খান, ফজলুস সোবহানসহ তিনজন ডিএমডি ও এমডির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা চক্রের মাধ্যমে বোর্ডে ঋণ প্রস্তাব আসত। ওই চক্রের কাছেই ব্যাংকের ঋণের ২০০০ কোটি টাকা রয়েছে বলে তথ্য দেন বাচ্চু।

তিনি বলেন, এর মধ্যে শুধু গুলশান শাখার ম্যানেজার শিপার আহমেদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কাছেই রয়েছে ১৮০০ কোটি টাকা। বাকি ২০০ কোটি টাকা রয়েছে অন্য দুই চক্রের কাছে। চক্রের সদস্যরা মিলেমিশে ঋণ অনিয়ম করেছে। চক্রটি ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত মেমোও পরিবর্তন করত। শুধু তাই নয়, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া শাখা থেকেই ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

‘আপনি তো বেসিক ব্যাংকের টাকা সরিয়েছেন’- তদন্ত কর্মকর্তাদের এমন প্রশ্নে আবদুল হাই বাচ্চু বলেন, আমার অনেক টাকা আছে। ২০০ কোটি টাকার সম্পদ আছে। আমার বাবা ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর। বাবা অনেক সম্পদ রেখে গেছেন। আমার নিজেরও ব্যবসা আছে। শিপিং ব্যবসা ও ডেভেলপমেন্ট ব্যবসা। বনানী ডিওএইচএসে একটা বাড়ি আছে। সেখানে ৩৪টা ফ্ল্যাট আছে। আমার একটি সন্তান প্রতিবন্ধী। আর সম্পদ দিয়ে কি করব।’ কে এত সম্পদ খাবে- পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি।

ঋণ অনিয়মে বোর্ডের সদস্যদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব ঋণ প্রস্তাব বোর্ডে আসত সেসব প্রস্তাব যদি অসম্পূর্ণ বা নেতিবাচ হতো তবে বোর্ড সদস্যরা তাতে সম্মতি দিতেন না। তিনি বলেন, বোর্ডের একজন সদস্যও ঋণ অনিয়মের বিষয়ে আপত্তি তোলেননি। তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেননি এ ব্যাপারে। বোর্ডের সবার সিদ্ধান্তে ঋণ অনুমোদন হয়েছে। এখানে আমার একক সিদ্ধান্তে কিছুই হয়নি। যেসব ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী ঋণের জন্য আবেদন করেছিলেন তাদের দু-একজনকে ব্যক্তিগতভাবে আগে থেকেই চিনতেন বলে জানান বাচ্চু।

এ সময় তাকে বলা হয়, ‘একজন সদস্য (কামরুল ইসলাম) অনিয়মের ঋণে আপত্তি তোলায় আপনি তাকে পিস্তল দিয়ে মারতে চেয়েছিলেন’- উত্তরে বাচ্চু বলেন, আমি কেন তাকে মারতে যাব। খারাপ উদ্দেশ্য থাকলে অনেকের মতো ইশারাতেই অনেক কিছু হয়ে যেত। কিন্তু আমি কিছুই বলিনি। ওই সদস্য ব্যাংকের কাছ থেকে সুবিধা চেয়ে পাননি বলে আমার বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন- দাবি করেন বাচ্চু।

এর আগে বেসিক ব্যাংকের সাবেক পর্ষদ সদস্য ও বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য একেএম কামরুল ইসলাম দুদকের কাছে লিখিত জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর স্বেচ্ছাচারিতা ও হস্তক্ষেপের কারণে অর্থ লোপাট ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। তার প্রভাবে পর্ষদ সদস্যদের বোর্ডসভার কাজ ত্বরিত গতিতে শেষ হতো।

সভায় বাচ্চু ঋণ সংক্রান্ত এজেন্ডা আলোচনার সুযোগ না দিয়ে এককভাবে অনুমোদন করতেন। তিনি বোর্ডসভার কার্যবিবরণী তৈরিতে কোনো ধরনের গুরুত্ব দিতেন না। বরং নিজের ইচ্ছামতো অনেক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেন। বাচ্চু পর্ষদ সদস্যদের ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের চুপ থাকার কথা বলতেন। ঋণ অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বাচ্চু আমাকে হুমকিও দিয়েছেন।’

জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল হাই বাচ্চু স্বীকার করেন, তিনি আরও আগে সতর্ক হলে এভাবে লুটপাটের ঘটনা ঘটত না। অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ঋণ দেয়ার জন্য যেসব শর্ত দিয়েছিলাম, তা মানা হলে এত বড় ঘটনা ঘটত না। শর্ত পূরণ না করা কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ ছাড় করতে বলেননি দাবি করে তিনি বলেন, শাখা থেকে নেতিবাচক কোনো ঋণ প্রস্তাব বোর্ডে আসেনি। যদি এসেও থাকে তবে বিষয়টি এমডি জানেন। আমি কিছু জানি না।

প্রসঙ্গত, শাখা থেকে নেতিবাচক ঋণ প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে বলে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য বেরিয়ে আসে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও একই ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। উচ্চ আদালত থেকেও যে নির্দেশনা এসেছে, তাতে বলা হয়েছে শাখা থেকে নেতিবাচক প্রস্তাবের পরও পরিচালনা বোর্ড ঋণ অনুমোদন করেছে।

বাচ্চু দুদক টিমকে বলেন, ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান কাজী ফখরুল ইসলামের একক ক্ষমতায় যেসব ঋণ অনুমোদন হয়েছে, সেসব ঋণে অনিয়ম হয়েছে। কাজী ফখরুলকে সোনালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পরও কেন তিনি বেসিক ব্যাংকেই রয়ে গেলেন সেটাও এক রহস্য।

ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির আপত্তি সত্ত্বেও বোর্ড কেন ঋণ অনুমোদন করল- দুদক কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বাচ্চু বলেন, ক্রেডিট কমিটি যেভাবে সুপারিশ করেছে, সেভাবেই অনুমোদন হয়েছে। তবে তখন সবকিছু খেয়াল রাখতে পারিনি। বোর্ডের গাফিলতির প্রশ্নে তিনি চুপ থাকেন। জিজ্ঞাসাবাদের শেষ পর্যায়ে বাচ্চু বলেন, আমি দুদককে অনুরোধ করব- আসুন আমরা উভয়ে মিলে টাকাগুলো উদ্ধার করি। দুদক চাইলে এ ব্যাপারে আমি এগিয়ে আসব। তদন্ত কর্মকর্র্তারা চাইলে তিনি তার বক্তব্য লিখিতভাবে দেবেন বলে জানান।

এদিকে দুদক টিমের কাছে বক্তব্য দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে আবদুল হাই বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনও তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। কাজেই এখনই অভিযোগের বিষয়ে বেশি কিছু বলা মুশকিল।’ চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় টাকা লোপাট হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাচ্চু বলেন, ‘তদন্ত চলছে, দেখা যাক কী হয়।’

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সোমবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, বেসিক ব্যাংকের ঘটনায় তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তারা পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেবেন। জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘ সময় লাগার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যেভাবে টাকা লেয়ারিং হয়েছে তা বুঝতে দেরি হওয়ার কারণে সময় বেশি লেগেছে।’ তিনি বলেন, ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকার মধ্যে ৫৫৬ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এছাড়া রি-সিডিউল হয়েছে ৩ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। টাকা ফেরতের সঙ্গে ক্রিমিনাল লায়াবিলিটির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামে দুদক।
ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দানসহ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধিবহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধান শেষে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১২৯ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। আসামিদের মধ্যে ২৬ জন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বাকিরা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন