আজ মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ ইং, ০২ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



রোহিঙ্গাদের মত আশ্রয়হীন হয়েও উপেক্ষিত সন্দ্বীপের ভূমিহীনরা !

Published on 03 December 2017 | 4: 21 am

আকতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোহসীন #



রোহিঙ্গাদের নিয়ে বেশ ক’টি লেখা হয়েছে । তবে লেখাগুলো প্রকাশে বিলম্বের কারণে হয়তো কিছু তথ্য বিব্রাট ঘটতে পারে । তবে সারমর্ম একই আছে । আজ আবার সেই বিষয়ে লিখছি । তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিশ্বাস আমার খুবই কম ছিল বলে কারণগুলো প্রকাশ করেছিলাম । গত ২৮ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ সরকার নিজ বন্দোবস্তে বিশাল বাজেটে তাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে । তাতে আমার আপত্তি নেই । কারন যারা দেশ পরিচালনা করেন তাঁরা আমার চেয়ে অনেক বেশী ভাল বুঝেই করেছেন । সরকারের পরিকল্পনা শুনে নিজের প্রতি বিশ্বাস আরও বেড়েছে । কারন আমার ধারনা এবং পোষণ করা সম্ভাবনাই প্রতিফলিত হচ্ছে । যদি বুঝতে পারেন রোগ ভাল হবে না তখন তার সাথে সখ্যতা করে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ । সেই ১৯৭৮, ১৯৯০-৯১, ২০০৪, ২০০৭, ২০১৭ (আরও বেশীও হতে পারে) আসা রোহিঙ্গারা কেউ ফিরে যায়নি । তাঁছারা মায়ানমার সরকার তাদের ফেরত নিতে দেশ ছাড়া করেনি ।

আমাদের সরকার বুঝতে পেরে হয়ত গৃহীত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন । এটা প্রকাশ করার মত বিষয় না হলেও এক ধরনের নৈতিক ভাবে তাদেরকে এ দেশে পুনর্বাসন করার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে । তবে গরীব দেশের মানুষের মাথা পিছু ঋণের পরিমাণ যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আমাদেরই আর্থিক ক্ষতি হল । ফোড়া যখন উঠেছে, তখন কাটতে গেলে কিছু ক্ষতিতো মেনে নিতে হবে । আমরা অনেক বেশী দামে গ্যাস, জ্বালানী তৈল, পানি, বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছি, কর পরিশোধ করছি, গাড়ি ভাড়া দিচ্ছি সরকার চালাতে । অনেক বেশী দামে নিত্য পণ্য কিনে খাচ্ছি বিভিন্ন কারণে । তবুও আমরা তা মেনে নিয়েছি । এমন কি দেশবাসীও তা মেনে নিয়েছে, কারন আমাদের দেশে আমাদের মতামত জানানোর কোন সুযোগ নেই । আমাদের প্রতিনিধিদের আমাদের মতামত জানানোর জন্য সরকারে পাঠালেও নিজেদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকারের সিদ্ধান্তকে আমাদের মতামত বলেই চালিয়ে দিয়ে থাকেন । তাছাড়া দেশে কার এমন ঠেকা পরেছে নিজের মতামত দিয়ে হেনস্তা হবে ?

আমার পূর্বের লেখাতে এমন সমাধানের কথা বলেছিলাম । বিশ্বের গুটি কয় স্বার্থ অন্বেষী দেশ ছাড়া প্রায় সব দেশই মানবতার কথা বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়েছে । তাঁরা যদি কিছু কিছু মানুষকে পুনর্বাসন করতো তবে বাংলাদেশের মত অধিক জনগোষ্ঠীর গরীব দেশের উপকার হতো । এখনও তেমনটা কোন দেশ করেনি (তবে ভবিষ্যতে কেউ করবে না তা বলছি না । সাহায্য করার সময়তো আর শেষ হয়ে যায়নি) । অথচ কথায় বলে দশের লাঠি এবের বোঝা । সবাই কিছু ভার নিলে বাংলাদেশকে এত বড় বোঝা টানতে হতো না । কিন্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং মায়ানমার সরকারের মনোভাব দেখে নিশ্চিত বলা যায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ খুবই কম । যদি এমন কিছু হয় তবে ১৯৭৮ সাল থেকে আজ অবধি ঘটে যাওয়ার ঘটনার অকল্পনীয় কিছু একটা হবে ।

ষোল কোটি মানুষের দেশ হিসাবে রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আশ্রয় নিলে এমন আর কি ক্ষতি হবে এমনও অনেকে ভাবতে পারেন । তবে এমন পরিস্থিতি এটাই শেষ নয় । বিশ্বের প্রধান খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতা পোপও মায়ানমারের কাছে নৈতিক ভাবে পরাজয় বরন করেছেন । কারন হয়ত তিনি সে দেশের খ্রিস্টান ধর্ম অবলম্বী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে ভেবেছেন, নয়তো মুসলিম জনগোষ্ঠীদের সমস্যা বলে তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেননি । মায়ানমার সরকারের অনুরোধই রক্ষা করেছেন । (আমার ব্যক্তিগত ধরনা থেকে বলছি, যা ভুল হলে ক্ষমা করবেন) সুতারাং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর কথা ভাবলে এমন ঘটনার জন্য আরও প্রস্তুত থাকতে হবে । বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ, এ দেশে নির্যাতিত মুসলিম আসবে । ভারত হিন্দু প্রধান দেশ, সে দেশে নির্যাতিত হিন্দু যাবে । মায়ানমার বৌদ্ধ প্রধান দেশ, সে দেশে নির্যাতিত বৌদ্ধ যাবে । খ্রিস্টান প্রধান দেশগুলোতে নির্যাতিত খ্রিস্টান যাবে । বিশেষ করে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এর আচরণে তাই বিবেচনা করা যায় । নয়তো তিনি ধর্মের যাজক, ধর্মের কথা বলবেন, ন্যায়ের কথা বলবেন । তিনি কেন অন্যের নির্দেশে কথা বলবেন ? অন্যায়ে ন্যায়ের কথা বলবেন ।

তবে এটাও জানি এত বড় একজন ব্যাক্তিকে নিয়ে হয়তো কেউ কিছু বলবেন না । তাতে এমন অবস্থা যেখানে বিরাজ করছে তাঁরা কেউ উৎসাহ পাবে, কেউ শঙ্কিত থেকে বেঁচে থাকবেন । আমরা মুখে ধর্মের কথা বলি, কিন্তু ধর্মের কাজ করি তার উল্টো । নয়তো কোন ধর্মে সংঘাতের সমর্থন নেই বলেই জানি । কোন ধর্মে বিদ্বেষের কথা নেই । বরং সব ধর্মে শান্তির কথা বলা হয়েছে, শান্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে । আমরা সবাই ধর্ম সচেতন কিন্তু কর্ম সচেতন হই না । প্রত্যেক মানুষ ধর্ম সচেতনতার সাথে কর্ম সচেতন হলে পৃথিবীটা সভ্য মানুষের আবাস হতে পারতো । পোপ ফ্রান্সিস মহোদয়ের এমন নীরবতা নির্যাতিত মানুষের মুক্তির কথা বলতে পাশ কাটিয়ে যাওয়া নয় কি ? আপনি ধর্মের গুরু আপনি আমাকে ধর্মের কথা, ন্যায় পরায়ণতার কথা বলবেন, তাতে আমি শিখে উপকৃত হতে পারি, আবার সন্তুষ্ট নাও হতে পারি । আমাকে খুশী করাতো ধর্মের বানী হতে পারে না । এখান থেকে আমরা কি এটাই শিক্ষা নেব যে পৃথিবীতে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা কমে যাচ্ছে । ধর্মকে নিয়ে মানুষের অশান্তি বেড়েই চলবে ? মার্কিন প্রেসিডেন্টও সেখান থেকে পাশ কাটিয়ে আসতে পারেননি বলেই ইসলাম বিদ্বেষী পোষ্ট টুইট শেয়ার করতে ভুলেননি, যা সারা বিশ্ব সংবাদে পরিণত হয়েছে ।

আমাদের মত সাধারণ মানুষেরা তাহলে ধর্ম নিয়ে হয়তো মানুষের এমন উদ্বাস্তুতা বন্ধ না হয়ে দিনে দিনে বাড়তেই থাকবে এটা ধরে নিয়ে আতঙ্কে থাকাই স্বাভাবিক । এখন মানুষ উদ্বাস্তু হচ্ছে, হয়ত কখনও দেশও তার শিকার হতে পারে । একজন মানুষ হিসাবে বলছি, আমাদের মানবতার দিকে এতটা উদাসীন হয়ে নিজ স্বার্থকে এত বেশী প্রাধান্য দেয়া উচিত হচ্ছে না । তাহলে কে কখন এমন উদ্বাস্তু হয়ে যাই, কে কাকে এমন উদ্বাস্তু করে দেয় তার কোন সীমা থাকবে না । দেশ, জাতি, ধর্ম নয় – মানুষ, মানবতার জন্য সবাইকে বিষয়টি গুরুত্বের দৃষ্টি দিতে হবে । অন্যথায় পারমানবিক বোমার আগেই মানবতা ধ্বংস হয়ে যাবে । মানবতা ধ্বংস হলে মানুষ এমনিতেই ধ্বংস হয়ে যায় । ধীরে আমরা যেভাবে অসভ্যতার দিকে হাঁটছি সেখান থেকে উল্টো ঘুরে দাঁড়ানো খুব জরুরী ।

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি ।

আপনারা প্রজাতন্ত্রের বিচক্ষন কর্মকর্তা । আপনাদের উপর আমাদের কোন সন্দেহ নেই । আপনারা সন্দ্বীপের সীমানা জানেন । আপনাদের উপর নৈতিক দায়িত্ব এই সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া । কোন প্রকার আইন শৃঙ্খলার অবনতি ছাড়া যার ভুমি তাকে বুঝিয়ে দেয়া । মানচিত্রে হাত দিলে আপনাদের পক্ষেই সম্ভব কোন চর কোন এলাকার । কোন চর কোন মৌজার ভুমি । এ চরের প্রকৃত মালিক কারা । যারা মালিক ছিল তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া । তা নিয়ে তামাশা করা উচিত নয় । কিন্তু এ অবধি তামাশাই হয়েছে । আমরা জানি যে মামলা হওয়া উচিত, তার বাদী না থাকলে প্রশাসন নিজেই বাদী হয়ে তার বিচার করে থাকে । প্রকৃত মালিকের মামলা করে সুরাহা পাওয়ার বিড়ম্বনা সইবার ক্ষমতা নাও থাকতে পারে । তাই বলে Government by people, for the people and of the people হয়ে সে তার পাওনা ফিরে পাবে না ? তাহলে সরকার, প্রশাসন, আইন, কানুন, অফিস, আদালত এসবের কি দরকার ? আমরা এসবকে সম্মান করি বলেই কারও সাথে ঝগড়ায় জড়াইনি । আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়নি । এটা সন্দ্বীপ বাসীর দুর্বলতা কিংবা দোষ নয়, গুন ।

সংবাদে জানা যায় রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য ঠ্যাঙ্গার চর/ ভাসান চরকে নির্বাচন করা হয়েছে । অতীত সন্দ্বীপের ৬০ টি মৌজা সরকারের নথিপত্রের তালিকায় রয়েছে – চরবদু, পীরবক্স, চরলক্ষী, পাইয়াডগি, সমশেরাবাদ, কাটগর, হুদ্রাখালী, চর হুদ্রাখালী, থাক হুদ্রাখালী, দীর্ঘাপার, চর দীর্ঘাপার, থাক দীর্ঘাপার, সন্তোষপুর, চর সন্তোষপুর, থাক সন্তোষপুর, আমানুল্যা, চেউরিয়া, গাছুয়া, চর গাছুয়া, থাক গাছুয়া, চর রহিম, সফিনগর, কালাপানিয়া, বাটাজোড়া, বাউয়া, কাজিরখিল, মুক্তারপুর, মোহাম্মদপুর, ইজ্জতপুর, রুহিনী, হরিশপুর, দুবলাপাড়, বাউরিয়া, চর বাউরিয়া, থাক বাউরিয়া, কুচিয়ামোড়া, চর কুচিয়ামোড়া, থাক কুচিয়ামোড়া, হারামিয়া, কাছিয়াপাড়, চর কাছিয়াপাড়, থাক কাছিয়াপাড়, মুছাপুর, আজিমপুর, রহমতপুর, শ্রীরামপুর, আমিরাবাদ, মাবিদ মুহুরী, বৈঠা, মিঠাপুকুরিয়া, ন্যায়ামস্তি, সুলতানপুর, কমলপুর, মাইবুদ্দিনা, মানদীন, মাইটভাঙ্গা, সারিকাইত, সাতঘড়িয়া, চৌকাতলী, মগধরা । (সুত্রঃ জনাব মজিবুল আলম খান, আমেরিকা পরবাসী, সাবেক ভুমি কর্মকর্তা) ।

অথচ বর্তামানে সন্দ্বীপের ২৭ টি মৌজা রয়েছে – দীর্ঘাপারের এক তৃতীয়াংশ, সন্তোষপুর তিন চতুর্থাংশ, আমানুল্যা এক চতুর্থাংশ, চেউরিয়া, গাছুয়া, চর গাছুয়া, থাক গাছুয়া, কালাপানিয়ার তিন চতুর্থাংশ, বাউয়া, বাউরিয়া, চর বাউরিয়া, থাক বাউরিয়া, কুচিয়ামোড়া, চর কুচিয়ামোড়া, থাক কুচিয়ামোড়া, হারামিয়া, কাছিয়াপাড়, চর কাছিয়াপাড়, থাক কাছিয়াপাড়, মুছাপুর, আজিমপুর, রহমতপুর এক তৃতীয়াংশ, মাইটভাঙ্গা, সারিকাইত, সাতঘড়িয়া, চৌকাতলী এবং মগধরা । প্রায় ৩৩ টি মৌজা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে । মানচিত্র অনুযায়ী সন্দ্বীপের বাইরে যে চর জেগেছে তা ঐ ৩৩ টি মৌজারই অংশ । সুতারাং এ ভুমির মালিক সন্দ্বীপের জনগণ । এমন ভুমি শুধু ঠ্যাঙ্গার চর / ভাসান চর নয়, আসে পাশে আরও অনেক চর আছে । কেবল আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এর কোন সুরাহা হয় না । অথচ আমলাগণ প্রজাতন্ত্রেরই কর্মকর্তা কর্মচারী । যে কোন বিরোধের মীমাংসা কারী আমাদের করে পরিচালিত আমলা এবং রাজনীতিকগণ । তাদের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে ।

যদি Government by people, for the people and of the people হয়ে থাকে, তবে আমরা এ দেশের স্থায়ী নাগরিক, সরকারকে কর দিয়ে থাকি, সরকারের সকল আইন মেনে চলে থাকি । আমরা প্রজাতন্ত্রের নাগরিক । সুতারাং আমাদের বিলীন হয়ে যাওয়া জায়গা আমাদের বুঝিয়ে দেয়া সরকার তথা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের উপর বর্তায় । আমার দেয়া করে সরকার, ভুমি অফিসের কর্মকর্তাগণ পরিচালিত হয়ে থাকেন । তাদের নিশ্চয় দায়িত্ব আছে আমাদের হারিয়ে যাওয়া ভুমি আমাদের বুঝিয়ে দেয়া । কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সরকার তথা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীরা অদ্যাবধি সেই দায়িত্ব পালন করেননি । তার উপর রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে আমাদের বিলীন হওয়া ভুমির কি সুরাহা হবে ? তাহলে প্রশ্ন জাগবে আমরা কার কিংবা সরকার কার ? কিন্তু আমরা জানি সরকার আমাদের এবং আমরা সরকারের । সুতারাং আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই । আমরাতো আর ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া রোহিঙ্গা নই । সরকার তথা সরকারের আমলাদের কাছে অনুরোধ আমরা যেন কোন বিচারে এমন রোহিঙ্গাদের মত নিঃস্ব হয়ে না পরি সে দিকে লক্ষ্য রাখতে ভুলবেন না ।

নদী ভাঙ্গনে হারিয়ে যাওয়া ৩৩ টি মৌজার অনেক বাসিন্দা সেই তখন থেকে ভুমিহীন হয়ে আছে । তাদের অধিকাংশ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে । অনেকে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন । আমি একজন সরকারের অনুগত নাগরিক হিসাবে, দেশ পরিচালনায় কর পরিশোধকারী হিসাবে, সরকারের সকল আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসাবে সরকারের কাছ থেকে এমন সেবা পাওয়া নিশ্চয় বেশী কিছু চাওয়া নয় । আশা করি সরকার তথা সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি বিবেচনা করবেন । আজ প্রশ্ন জাগছে নিজ দেশের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার চেয়ে কি রোহিঙ্গাদের মত শরণার্থী হওয়া ভাল ছিল ? দেশের আইনের প্রতি অনুগত মানুষ হয়ে সরকারের কার্যক্রমের প্রতি আস্থাশীল হয়ে অপেক্ষা করা কি অন্যায় ছিল ? ইতোপূর্বেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সন্দ্বীপবাসীকে তাদের অনেক চর বেদখল হয়ে গেছে । এর একটি রাষ্ট্রীয় সমাধান হওয়া উচিত ছিল, যা হয়নি । অথচ সবাই আশায় বুক বেঁধে আছে তাদের হারিয়ে যাওয়া ভুমি ন্যায় পরায়ণ সরকার, আইনের শাসন সমৃদ্ধ দেশে আবার তাঁরা ফিরে পেতে পারে ।

সুতারাং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঠ্যাঙ্গার চরে পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করার পূর্বে সরকারের পূর্বের দায়িত্ব পালন করার জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ করছি । আমরা সন্দ্বীপের সঠিক সীমানা নির্ধারণ চাই এবং সন্দ্বীপ সংশ্লিষ্ট সকল চরে সন্দ্বীপবাসীর শান্তিপূর্ণ অধিকার চাই । এ চরের প্রত্যেক ভূমিহীনদের তাদের ভুমি বুঝিয়ে দেয়া চাই । জাতিগত ভাবে এ চাওয়া আমাদের বেশী কিছু চাওয়া নয় । এটা বাংলাদেশ সরকার, ভুমি মন্ত্রণালয়, ভুমি অফিসের কর্মকর্তাগনের নৈতিক দায়িত্বেই পরে । আপনাদের কাছে আমাদের দাবী অত্যন্ত ন্যায় সঙ্গত । নয়তো এই অবহেলিত সন্দ্বীপের জনগণ নিজেদের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চেয়ে বেশী অসহায় মনে করবে । আবারও বলছি, রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে আমাদের কোন ওজর ও নেই আপত্তিও নেই । আমরা চাই আমাদের উপর ন্যায় বিচার করা হোক । আমরা যেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি দয়া দেখাতে গিয়ে নিষ্ঠুরতার শিকার না হই ।


# আকতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোহসীন # সাহিত্যিক এবং সমসাময়িক বিষয় লেখক # (www.rokomari.com/book/autho/12661/


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন