আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



শিল্পীদের স্মরনে প্রয়াত বারী সিদ্দিকী

Published on 25 November 2017 | 6: 43 am

বিনোদন ডেস্ক :   না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রখ্যাত লোকসঙ্গীতশিল্পী বারী সিদ্দিকী (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
রুনা লায়লা:বারী সিদ্দিকীর হঠাত্ এভাবে চলে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই খুব দুঃখজনক। আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির খুব ক্ষতি হয়ে গেল। তার ইউনিক একটি ভয়েজ ছিল। গাওয়ার স্টাইলও ছিল ভিন্নরকম। তার গেয়ে যাওয়া গানগুলোর মধ্যেই তিনি আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি, সেইসাথে মহান আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসীব করেন।
ফরিদা পারভীন:দেশে অনেক ডাক্তার আছেন, ইঞ্জিনিয়ার আছেন, শিল্পপতি আছেন, কিন্তু বারী সিদ্দিকী দেশে একজনই। সেই বারী সিদ্দিকী শেষ পর্যন্ত চলে গেলেন। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক কষ্টের, বেদনার। কারণ বারী সিদ্দিকী যুগে যুগে জন্মায় না। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে বারী সিদ্দিকী একজনই। আমি প্রাণ ভরে দোয়া করি বারী সিদ্দিকী তার মরমী গানের মধ্যে দিয়েই যেন ওপারে শ্রেষ্ঠতম একটি স্থানে যেন পৌঁছাতে পারেন। আমাদের সবাইকেই যেতে হবে। আর এ জন্য মানসিকভাবে আমাদের সবাইকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
শহীদুল্লাহ ফরায়েজী:বারী ভাই আমাদের অনুভূতিকে ঋণী করে গেছেন, আমাদের হূদয়কে ঋণী করে গেছেন। আমাদের অনুভূতি যতদিন থাকবে, আমাদের হদয় যতদিন থাকবে বারী ভাই ততোদিন আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। বারী ভাই আমার লেখা অসংখ্য গান গেয়েছেন। বারী ভাই আমার পরিবারেরই একজন। তার চলেও যাওয়া আমার মেনে নেওয়া অনেক কষ্টের, যন্ত্রণার। মহান আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসীব করুন।
সামিনা চৌধুরী:ঘুম থেকে উঠেই বারী ভাইয়ের চলে যাওয়ার খবরটি পাওয়ার পর থেকে কোনোভাবেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না। খুব, খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। খারাপ লাগছে এই ভেবেও যে, তাকে হাসপাতালে দেখতে যেতে পারলাম না শেষ সময়ে। ‘সেরাকণ্ঠ’তেই শেষ দেখা হলো তার সঙ্গে। তিনি এতটা অসুস্থ ছিলেন বুঝতেই পারিনি।
আইয়ূব বাচ্চু:বারী চলে গেছেন, সম্পদ হারানোর মিছিলে বাংলাদেশ বিশাল এক সম্পদকে হারালো। বারী ভাইয়ের মৃত্যুতে যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো তা আর কোনোকিছু দিয়েই পূরণ হওয়ার নয়। তার বাঁশি, তার কণ্ঠ দুই মিলিয়েই তিনি নিজেকে বারী সিদ্দিকী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। কয়েক জনমেও আর এই দেশে একজন বারী সিদ্দিকীর জন্ম হবে না। মরণোত্তর সম্মাননাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু আমি আজ জোরালো কণ্ঠেই বলতে চাই, সত্যিকার অর্থের যারা শিল্পী তাদের যেন যথাযথভাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জীবদ্দশাতেই সম্মান দেওয়া হয়, পুরস্কৃত করা হয়। মৃত্যুর পর তাকে সম্মান দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। যে কাজের জন্য তিনি সম্মান পাচ্ছেন সেই সম্মান পেয়ে তিনি নিজে যেন আনন্দ করে যেতে পারেন। একজন সুধীন দাস, ফিরোজা বেগম, আব্দুল জব্বার, আজম খান, নিলয় দাস কিংবা বারী সিদ্দিকী এই দেশে আর জন্ম নেবে না। তাই এমন নিবেদিত এবং মহান শিল্পীদের জীবদ্দশায় সম্মান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হোক। বারী ভাইয়ের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসীব করুন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন