আজ বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



”নকল সমাচার”

Published on 08 November 2017 | 11: 46 am

ছবিতে সিংগাপুরে বাম থেকে লেখক এবং তার দুজন সফরসংগী

 

মোহাম্মদ রেজা শাহজাহান

নকল শব্দটি তিনটি অক্ষর দ্বারা লিখিত হলেও এর ব্যাপ্তি অনেক। এমন কোন স্থান নেই যেখানে এই শব্দের ব্যবহার হয়না । আমি ব্যক্তিগত  ভাবে এই শব্দের সাথে প্রথম পরিচিত হই পরীক্ষার হলে । তখন আমি দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম । তখন নকল বলতে বুঝতাম প্রশ্নপত্রের উত্তর বই দেখে অথবা অন্যের খাতা দেখে লেখার নামই নকল।

নকল শব্দের ই্ংরেজী হলো  “Counterfeit” যার Objective রুপ হলো Made to imitate something valuable exactly So as to deceive or cheat people. Noun হলো “Forgery” এবং verb হলো Imitate Fraudently

”Counterfeit” এই শব্দটার তিনটা রুপই নেতিবাচক অথচ আমাদের সমাজে এর কদর খুবই ইতিবাচক । একজন ”Counterfeiter”বা প্রতারক প্রতারনামূলকভাবে  পন্য প্রস্তুত করে পাবলিককে প্রতারিত করে চলেছে আর সমাজের শিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত ও অশিক্ষিত মানুষগুলো সমানভাবে তা বেকুবের মত গিলে খাচ্ছে । কারও নূন্যতম ফুসরত নেই তা যাচাই বাছাই করার ।

বর্তমানে আমাদের সমাজে ”নকলের ভায়াবহতা যে কত ভয়ংকররুপ ধারন করেছে তা নিয়ে কিছু  আলোকপাত করার চেষ্টা করব ।

সর্বত্রই নকলের ছড়াছড়ি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বলা হয় মানুষ গড়ার আংগিনা। যেখান থেকে সভ্য সচেতন ও বিবেকবান মানুষ তৈরী হয়।সেখানেও আজ চলছে নকলের বহুরুপীতা। ছোট বেলায় জানতাম পরীক্ষার হলে অপেক্ষাকৃত খারাপ ছাত্র বা দুষ্ট ছাত্ররা অসদুপায়ে নকল করে ; তখন নকল বলতে  এটাই বুঝতাম। পরবর্তীতে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম তখন দেখতে পেলাম একজন শিক্ষক তাঁর থিসিস পেপারে অন্যের প্রবন্ধ থেকে  হুবহু লাইন বাই লাইন নকল করে লিখেছে এবং এভাবে পি.এইচ .ডি  ডিগ্রীও পেতে শুনেছি।বর্তমানে বহুল আলোচিত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এর একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ উঠেছে যা তদন্তাধীন রয়েছে । এটাই মনে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের  নকলের চুড়ান্ত রুপ।

আমরা দেখি অনেকে ভাল বক্তার বক্তব্য নকল, নায়কের অভিনয় নকল, কাহারো কন্ঠ এবং কথা বলার ভংগী নকল করছেন, এগুলো ভাল হলে দোষনীয় নয় । সেক্ষেত্রে এটাকে আমারা নকল না বলে অণুকরন বলতে পারি । এই অনুকরণ বা অনুসরন অনেক সময় অনুকরণীয় ব্যক্তির চেয়ে ও ভাল হতে পারে।এগুলো যদি ভাল উদ্দেশে হয় তাহলে তা সমাজের জন্য সন্দেহাতীত ভাবে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে ।

আজকের প্রবন্ধে ”নকল” বলতে ভোগ্যপন্য নকলের বিষয়টা আলোচনা করতে চাই । নকল পন্য অনেক সময় আসল পণ্যের চেয়েও গুণগতমানে ভাল হতে পারে। সেক্ষেত্রে এটাকে নকলকারী ব্যক্তির যোগ্যতা বলা যেতে পারে । যদিও ট্রেডমার্ক আইনানুযায়ী এটা অন্যায়। কেননা একজন উৎপাদনকারী কোয়ালিটি পন্য উৎপাদন করবে এই জন্য যে, অতিসত্তর ভোক্তা সাধারনের নিকট পন্যের গ্রহনযোগ্যতা পাবে এবং এই গ্রহনযোগ্যতা দীর্ঘায়িত হলে পন্যের মাধ্যমে মুনাফা র্অজন করত পারবে ।

মুনাফার পর্যায়ে আসতে হয়তোবা তাকে অনেক বিনিয়োগ করতে হবে । পন্য দ্বারা যখন উৎপাদনকারী মুনাফা অর্জন করতে যাচ্ছে ঠিক সেই মুহুর্তে অন্য একজন ব্যাক্তি যদি পন্যটির নাম ব্যাবহার করে পন্য উৎপাদনকারী ভোক্তা সাধারনের নিকট উপস্থাপন করে তখন সাথে সাথেই তিনি মুনাফা অর্জন করতে পারবে যদিও গুনগত মানের দিক দিয়ে আসল পন্যের তুলনায় খারাপ হয় । এমতাবস্থায় আসল পন্য উৎপাদরকারী ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকবে নিয়মিত ভাবে এবং চুড়ান্ত পর্যায়ে নকল পন্য আসল পন্যকে বাজার থেকে তাড়িয়ে দিবে । সেক্ষেত্রে আসল উৎপাদনকারী ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং নকল পন্য উৎপাদনকারী লাভবান হবে । এইজন্যই ”ট্রেড র্মাক” আইন যুগেযুগে, দেশেদেশে প্রনীত হয়েছে । সময়ের সাথে তা যুগোপযোগী করা হয়েছে এবং এখনও তা চলমান আছে ।

এই লক্ষে বর্তমানে আমাদের দেশে যে আইান টি চালু আছে তা হলো (Consumer Right Protection Act 2009)   যা আমেরিকাতে  ১৯১৮ সালে প্রবর্তিত হয় এবং  ইংল্যান্ড  সহ পৃথিবীর  বিভিন্ন দেশে এই আইন র্কাযকর  আছে ।

সাধারনত কোন পন্য নকল হলে যে কোম্পানির পন্য বা  ব্র্যান্ডের পন্য নকল হয় তারা ভোক্তা সাধারনের জ্ঞাতার্থে নানাবিধ কর্ম করে থাকে । যেমন পন্যের গায়ে নির্দিষ্ট কোন চিহ্ন বা লেবেল লাগিয়ে ভোক্তা সাধারন কে সর্তক করে এই বলে যে, নকল এড়াতে চিহ্নটি দেখে নিশ্চত হোন হোন,নকল হতে সাবধান ইত্যাদি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যিনি পন্যটি নকল করেছে তিনিও তার পন্যের গায়ে একই কথা লেখা শুরু করে দিবে । অর্থাৎ নকল পন্যের গায়েই লেখা থাকবে ”নকল হতে সাবধান”, কতবড় ধৃষ্টতা ভেবে দেখেছেন একবার ? এ যেন ”চোরের মার বড় গলা” । ( চলবে)

লেখক : ব্যাবস্থাপনা পরিচালক- জে এস অটোমোবাইলস লিঃ এবং বিভাগীয় সম্পাদক ( অর্থ ও বানিজ্য)-মাসিক সোনালী সন্দ্বীপ,সোনালীনিউজ ২৪ ডট কম।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন