আজ শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



এনডিসি এখন সেন্টার অব এক্সিলেন্স : লে. জে. হাসান চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বীর বিক্রম

Published on 05 November 2017 | 11: 26 am

[সন্দ্বীপের কৃতি সন্তান ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ-এনডিসি’র কমানড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বীর বিক্রম এর একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকার আজ অনলাইন নিউজ পোর্টাল- বাংলানিউজটুয়েন্টিফোরডটকম-এ প্রকাশিত হয়। সোনালী নিউজের পাঠকের জন্য তা হবহু প্রকাশিত হল।- সম্পাদক]

 
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজকে নিয়ে এখন জাতি গর্ব করে। আমরা এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলেছি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে। বিভিন্ন কোর্সে স্টেট অব দ্য আর্ট পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি আন্তর্জাতিক মান। জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নীতি প্রণয়নে সহায়ক হিসেবে এনডিসি আজ দেশের শীর্ষ থিংক ট্যাংকের ভূমিকায়।
 
বাংলানিউজের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ-এনডিসি’ নিয়ে সগর্বে এমনটিই বলছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কমানড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বীর বিক্রম।
 
এ সময় দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে এনডিসি’র পরিকাঠামো আরো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান চৌকস এই সেনা কর্মকর্তা।
 
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও নির্দেশনার আলোকে যে প্রতিরক্ষা নীতি প্রণীত হয়েছে, সেটাকে সামনে রেখেই ২০৩০ সালে ফোর্সেস গোল নামের লক্ষ্য পূরণে সেনাবাহিনীর অংশীদার আমরাও। আমাদের মনে রাখতে হবে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজন যথেষ্ট জ্ঞানচর্চা। বাড়াতে হবে জ্ঞানের মাত্রা। জাতীয় শিক্ষা নীতিমালার মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় থাকাটাও বেশ প্রয়োজন।
 
‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে মূলত আমরা স্ট্রাটেজিক লেভেলে ন্যাশনাল সিকিউরিটি, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট, গভার্ন্যান্স, কনস্টিটিউশনস, ন্যাশনাল কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট, ফরেন পলিসি, রিজিওন্যাল ও ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স, হায়ার লেভেল ম্যানেজমেন্ট প্রভৃতি বিষয়ে পড়িয়ে থাকি। এক বছর মেয়াদি এনডিসি কোর্সের পর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। থিসিস সাবমিট করে এমফিল ডিগ্রি নেবার সুযোগ রয়েছে এখানে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে এখানেই পিএইচডি চালু করছি আমরা’। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে বলছিলেন কমানড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।
 
তিনি জানান, আধুনিক সমরবিদ্যা শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সশস্ত্রবাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ডিএসসিএসসি-তে ১৯৯৯ সালে এনডিসি-র প্রথম কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। দেশ-বিদেশের সামরিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন ক্যাডারের অফিসার এখানে আসেন উচ্চতর পেশাগত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ অর্জনে। সেনাবাহিনীর অফিসার পর্যায়ে যুদ্ধবিদ্যা এবং কলাকৌশল নিয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে এখানে।
বর্তমানে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে ওয়ার কোর্স, ক্যাপস্টোন কোর্স ও এনডিসি কোর্স নামে তিনটি কোর্স পরিচালিত হচ্ছে।
 
ওয়ার কোর্সে মূলত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং কর্নেল পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সংসদ সদস্য, সচিব, এডিশনাল আইজি পদ মর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা, বিচারক, সিনিয়র ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, কূটনীতিক, সম্পাদক পর্যায়ে আমরা ক্যাপস্টোন কোর্স পরিচালনা করি।
 
অন্যদিকে সেনাবাহিনী এবং সিভিলদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এখানে রয়েছে উচ্চতর এনডিসি কোর্স। দেশের উন্নয়ন নিয়ে রাষ্ট্র, সমাজ, সেনাবাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, সুশীল সমাজের মধ্যে চিন্তা ভাবনা আর অভিজ্ঞতা বিনিময় হয় এখানে। ভারত কিন্তু আমাদের কাছ থেকে এই মডেল গ্রহণ করেছে।
 
দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক, সুপারভাইজরদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশবরেণ্য ব্যক্তি, বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ক্লাস নেন এখানে। তারাই গাইড করেন আমাদের প্রশিক্ষণার্থীদের। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এনডিসি কেবল একাডেমিক ইনস্টিটিউশনই নয়, দেশের অন্যতম শীর্ষসেরা থিংকট্যাংক। বর্তমানে বিশ্বের ১০টি দেশ থেকে প্রশিক্ষণার্থীরা আসেন এখানে। প্রতি কোর্সেই থাকেন ২৭ জন বিদেশি।
 
এ তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, চায়না ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও আশিয়ানভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ। এদের মধ্যে নাইজেরিয়া নির্দিষ্ট করে কিছু আসন সংরক্ষিত করে রেখেছে। সমসাময়িক বিষয়ে বাংলাদেশের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক হিসেবে অভিজ্ঞ গাইডদের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত ভালো মানের গবেষণামূলক কাজ হচ্ছে এখানে। কমানড্যান্ট হিসেবে আমি নিজে পৃথিবীর নানা দেশ যেমন, ফিলিপাইনের ম্যানিলা, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারতে বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিয়েছি।
উদ্দেশ্য একটাই। এসব সেমিনারে সমসাময়িক সমস্যা ও তার সমাধানে আলোকপাত করা। বিশেষ করে মিয়ানমানের সাথে রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আমরা আলাপ আলোচনা করেছি। এ বছরই আমরা ১৬টি সেমিনার করেছি দেশের বাইরে। আর দেশেই করেছি ৬টি। যেটা বাংলাদেশের কোন থিঙ্ক ট্যাংক করেছে কি’না-আমার জানা নেই। এর বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ বিভি্ন্ন বিষয়ে আমরা রিসার্চ ও গ্রুপ রিসার্চ করছি। সেই রিসার্চ ওয়ার্কগুলোর পেপার আমরা ক্যাবিনেটে পাঠাই। সেখানে তারা সেটা পর্যবেক্ষণ করে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি প্রণয়নে আমরা তার প্রতিফলনও দেখতে পাই। এভাবেই এনডিসি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। জানান-লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।
‘বাংলাদেশ সফররত বিভিন্ন দেশের প্রথিতযশা ব্যক্তিরা এখানে আসেন। তাদের সাথে আমাদের কোর্স মেম্বারদের মত বিনিময় হয়। কথাবার্তা হয়। দেশে স্থানীয় থিঙ্ক ট্যাংক যারা আছেন তাদের সাথে আমাদের কো অপারেশন আছে। বাংলাদেশের সমসাময়িক অর্থনীতি, গভার্ন্যান্স, সামাজিক অবস্থান নিয়ে আমরা ছুটে বেড়াই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উপজেলা, জেলা কিংবা বিভাগে। প্রশিক্ষণার্থীরা হাতে কলমে গিয়ে দেখে আসেন বাস্তব অবস্থা। সেসব স্থানেও সেমিনার হয়। আলোচনা হয়। এভাবেও বিশাল ভূমিকা পালন করছে এনডিসি।
 
আমাদের লক্ষ্যই থাকে সমন্বিত প্রয়াসকে কাজে লাগানো। প্রতিবছর আমরা ন্যাশনাল পলিসি পেপার তৈরি করি। আমাদের উদ্দেশ্যই থাকে রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর হয় এমন কোন কোন বিষয়ে নীতি পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যায়-সে ব্যাপারে উপস্থাপন করা। সেই পলিসি পেপারগুলো তৈরিতে ভূমিকা থাকে আমাদের সামরিক বেসামরিক আমলা, রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক অধ্যাপক, শিক্ষাবিদদের। -যোগ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।
 
তিনি বলেন, বর্তমানে এনডিসি কোর্সে ৮২ জন অংশ নিতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য, কোর্স মেম্বার সংখ্যাটা বাড়ানো। পরিকল্পনা রয়েছে, অচিরেই সংখ্যাটি একশ’ জনে উন্নীত করা।
 
আমরা কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল আর উন্নয়নেও সরকারের সঙ্গে কাজ করছি।
নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়িয়ে আমরা পরিবর্তন এনেছি বেশকিছু কোর্সে। যেমন ওয়ার কোর্সে আমরা আমূল পরিবর্তন করেছি। পার্শ্ববর্তী দেশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং তাদের সাথে সমসাময়িক কূটনৈতিক, সামরিক সম্পর্ক নিয়ে অনেক বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। বিশেষ পরিবর্তন এসেছে অনুশীলনেও। সেমিনারের সংখ্যাটাও আমরা বৃদ্ধি করেছি। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মিলিটারি-মিডিয়া রিলেশন্সের ওপর আমরা সেমিনার করেছি। যেটা বাংলাদেশের কোথাও কেউ করেনি।
 
এমন অনেক আকর্ষণীয় বিষয় নিয়েই বছরজুড়ে আমরা সেমিনার করে থাকি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)২০৪১ নিয়ে কেউ গবেষণা করেনি। আমরা করেছি। বছরে দু’বার এ নিয়ে আমরা আলোচনা ও সেমিনার করি।
 
আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে আমাদের সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হওয়ায় এখন আমরা দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারবো। উভয় দেশের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্যে এটাও বড় একটা সুযোগ। এভাবে কিন্তু আমরা বহু দূর এগিয়ে গেছি। আমাদের এখানে যে পরিমাণ গবেষণাধর্মী বইপত্র প্রকাশিত হয় তা বাংলাদেশের কম প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়।
 
বাংলাদেশ সফরে আসা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আমরা এখানে আমন্ত্রণ জানাই। প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের সান্নিধ্য পেয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ পায়। বড় কথা, এখানে আমরা মন খুলে কথা বলতে পারি। কোন বাধা নেই।
সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার হিসেবে মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, বীরবিক্রম, এনডিসি, পিএসসি দেশ বিদেশে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
 
১৯৭৯ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্ত মেজর জেনারেল হাসান বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনে ১টি পদাতিক ইউনিট, রাইফেলস ব্যাটালিয়ন ও পদাতিক ব্রিগেড কমান্ড করেন। দায়িত্ব পালন করেছেন পদাতিক ডিভিশনসহ সেনাসদরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ব্যাটালিয়ন কমান্ডার, বাংলাদেশ রাইফেলসের পরিচালক অপারেশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচালক সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সফলতা রয়েছে তার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন্স ট্টেনিং এবং ননকমিশন অফিসার্স একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রথম প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন তিনি।
সাক্ষাতকার দিচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। ছবি: বাংলানিউজ
জাতিসংঘ বিষয়ক প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য তিনি সুইজারল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং নেপালেও কাজ করেছেন প্রশিক্ষক হিসেবে। মোজাম্বিকে জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষক এবং সিয়েরালিওনে বাংলাদেশ কনটিনজেন্টে চিফ অব অপারেশন্স হিসেবে কাজ করেন তিনি। ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের ভাইস চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন তিনি।
 
ঢাকা লজিস্টিকস এরিয়ার কমান্ডার ছাড়াও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক থেকে নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং(জিওসি)হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে জিওসি হিসেবে যোগ দেন আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডে(আর্টডক)। কমান্ড্যান্ট হিসেবে ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি যোগ দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে।
 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সাব-রিজিওনাল ট্রানজিট; ইটস ম্যানেজমেন্ট, ইমপ্যাক্ট অন ডেভলপমেন্ট এন্ড সিকিউরিটি : অ্যাসেসমেন্ট এন্ড রিকোমেনডেশন’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী অর্জন করেন পিএইচডি ডিগ্রি।
 
এ ছাড়াও রাষ্ট্রবিজ্ঞান, প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান, ব্যবসা প্রশাসনে মাস্টার্স, এলএলবি ডিগ্রি এবং জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। সামরিক শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে এনডিসি, কমান্ড ও স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসান।
 
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তির প্রক্রিয়া শুরুতে তার ত্যাগ ও অবদানকে স্মরণ করে সেনাবাহিনী। অসীম সাহস, ত্যাগ ও বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ভূষিত হন ‘বীরবিক্রম’ উপাধিতে। ব্যক্তিজীবনেও অত্যন্ত সদালাপী, পড়াশুনা করতে এবং গলফ খেলতে পছন্দ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসান। স্ত্রী ফারজানা নিগার, কন্যা মারগুবা হাসান জারা ও পুত্র ফাইয়াজ হাসান চৌধুরীকে নিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসানের সাজানো সংসার।
 
গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস স্বীকৃতি অর্জনে লাখো কণ্ঠে গাওয়া জাতীয় সংগীতের আয়োজন, সাভারের তাজরীন গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ড, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় উদ্ধার ত‍ৎপরতায় প্রশংসা কুড়ান লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বীর বিক্রম।


Advertisement

আরও পড়ুন