এখন থেকে ভাসানচর নামেই পরিচিতি পাবে ঠেঙ্গারচর: ত্রাণ সচিব

[অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউন-এ সংবাদটি  প্রকাশিত হয় গত ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, (লিংক সংযুক্ত)]


:: শফিকুল ইসলাম ::

নোয়াখালীর হাতিয়ার নিকটবর্তী সাগরের ‍বুক থেকে জেগে ওঠা ঠেঙ্গারচরের নাম প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহেই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ্ কামাল। তিনি বলেন, ‘এখন এই চরটি ঠেঙ্গারচর নয়, ভাসানচর নামেই পরিচিতি পাবে। প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহেই এই নামকরণ করা হয়েছে।’ সোমবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব বলেন, ‘আগে থেকেই বার বার বলা হয়েছে, প্রয়োজনে স্থায়ীভাবে রোহিঙ্গাদের একসঙ্গে ঠেঙ্গারচরে রাখার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে সরকার। বর্তমানে নৌবাহিনী সেখানে ভূমি উন্নয়নসহ বহুমুখী উন্নয়ন কাজ করছে। ঠেঙ্গারচর নামটি শুনতে ভালো লাগে না। এছাড়া চরটির আরও নাম রয়েছে। যার মধ্যে ভাসানচর একটি নাম। পুরো চরটিতে ঠেঙ্গারচর ও ভাসানচর নামে দু’টি মৌজাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের কারণেই ঠেঙ্গারচরের নাম পরিবর্তন করে ভাসানচর নামকরণ করা হয়েছে। এখানে একটিই চর। তাই ভাসানচর নাম নিয়ে এখন থেকে কারও মনে কোনও বিভ্রান্তি থাকার কথা নয়। তাই আমরাও এখন ওই চরটিকে ভাসানচর নামে উল্লেখ করছি।’

উল্লেখ্য, জানা গেছে, ঠেঙ্গারচরকে হাতিয়ার একটি চর হিসেবে তুলে ধরা হলেও এটা হাতিয়া দ্বীপ থেকে আরও খানিকটা দূরে।  হাতিয়া ও সন্দ্বীপের মাঝামাঝি স্থানে জেগে উঠেছে এই ঠেঙ্গারচর বা ভাসনচর। হাতিয়া নোয়াখালী জেলার একটি উপজেলা হলেও জেলা সদর থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থা উন্নত নয়। নোয়াখালী সদর থেকে হাতিয়া যাতায়াতের একমাত্র বাহন সি-ট্রাক। হাতিয়া দ্বীপ থেকে নৌপথে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঠেঙ্গারচর যাওয়া-আসা এখনও অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত সন্দ্বীপ নোয়াখালীর একটি অংশ হলেও এখন এটি চট্টগ্রাম জেলার একটি উপজেলা। সেই সন্দ্বীপ থেকে পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ দিকে সাগরের মধ্যে যে চর জেগে উঠেছে সেই চরটিই এখন ঠেঙ্গারচর নামে পরিচিত। যা ভাসানচর নামে পরিচিত। বিশাল মেঘনা নদীর মোহনায় এর অবস্থান বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে। এর আয়তন কমবেশি ১৫ বর্গমাইল বা ১০ হাজার একর। ২০১০-১১ সালে এই চরে সরকার বনায়ন শুরু করে এবং ২০১৩ সালে গেজেটের মাধ্যমে ঠেঙ্গারচরকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। চার হাজার ৮০০ একরের এই বনে বর্তমানে এখানে চার থেকে ৮ ফুট দীর্ঘ কেওড়া গাছ রয়েছে। আর এখানেই রোহিঙ্গাদের জন্য আবাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদীন  ইতোমধ্যেই ঠেঙ্গারচর পরিদর্শন করেছেন। এরপর থেকেই সেখানকার বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূখী কার্যক্রম চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠেঙ্গারচরে বর্তমানে কোনও জনবসতি নেই। হাতিয়া, সন্দ্বীপ ও ঢালচরের মৎস্যজীবীরা ঠেঙ্গারচরের আশপাশে মাছ ধরেন। মাঝে মাঝে এই চরে এসে বিশ্রাম নেন। চরটিতে বর্তমানে তৃণভূমি রয়েছে, যেখানে আশপাশের এলাকার জনগণের গরু-মহিষ বিচরণ করে। সেখানে আছে নানা প্রজাতির পাখি। তবে এখনও ঠেঙ্গারচর নিচু এবং জোয়ারের পানিতে এর অনেক স্থান ডুবে যায়। ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে প্রবল জোয়ারের সময় চরটির পুরোটাই প্লাবিত হয়। তাই জনবসতি গড়ে তোলার আগেই সে চরের চার পাশে উঁচু বেড়িবাঁধ দেওয়ার কাজও চলছে বলেও জানা গেছে।

শাহাদাৎ আশরাফ শাহাদাৎ আশরাফ

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market