আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ধীরগতি থাকবে ৩ দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে কী হবে?

Published on 23 October 2017 | 3: 51 am

সংস্কার কাজের জন্য দেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল রোববার মধ্যরাত থেকে বুধবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ তিন দিন দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল দিয়ে ইন্টারটেন সেবা চালু রাখা হবে।

কিন্তু প্রথম সাবমেরিন কেবলের চেয়ে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের ইন্টারনেট সরবরাহ ক্ষমতা অনেক কম। ফলে এ তিন দিন দেশে ১০০ থেকে ১৫০ জিবিপিএস (গিজা বিট পার সেকেন্ডে) ডাটা ঘাটতি থাকবে। এজন্য ইন্টারনেট নিয়ে বেশ দুর্ভোগ থাকবে তিন দিন।

ইন্টারনেটের এ অবস্থার কারণে বাংলাদেশে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে- তা জানতে চাইলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েমন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)- এর সভাপতি এমএ হাকিম যুগান্তর অনলাইনকে বলেন, ইন্টারনেটের এ ধীর গতির কারণে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের খুব ভোগান্তির শিকার হতে হবে। শুধু ভোগান্তি না, ফ্রিল্যান্সাররা সময়মতো কাজ ডেলিভারি দিতে পারবে না। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার রয়েছে, যারা বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজ করে থাকে। ফ্রিল্যান্সারদের কাজের একমাত্র মাধ্যম ইন্টারনেট। চুক্তিবদ্ধ হওয়া কাজ সময়মতো ডেলিভারি দিতে না পারলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাংলাদেশের আউটসোর্সিংয়ে ইমেজ সংকটও সৃষ্টি হতে পারে।

আইএসপিএবি সভাপতি জানান, যারা সামাজিকমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসা করেন বা ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করেন তাদের আতংকের কিছু নেই। তাদের ইউজার দেশীয় হওয়ায় খুব একটা সমস্যা হবে না। এছাড়া যেসব ওয়েবসাইটের হোস্টিং দেশীয় তাদের জন্য কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। তবে যেসব ওয়েবসাইটের হোস্টিং বিদেশি তাদের সাইট স্লো বা ধীরগতি হয়ে যাবে।

জানা যায়, দেশে দৈনিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের চাহিদা ৪৫০ জিবিপিএস। এর মধ্যে প্রথম সাবমেরিন কেবল থেকে পাওয়া যায় ২৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। ভারত থেকে ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) কোম্পানির মাধ্যমে আমদানি করা হয় ১৫০-১৬০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ।

প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল (সিমিইউ-৪) রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আগামী ২৪-২৬ অক্টোবর ইন্টারনেটের ধীরগতি থাকতে পারে বলে গত রোববার জানিয়েছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

ওই দিন সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত থাকায় বিকল্প পদ্ধতিতে ইন্টারনেট সেবা দেয়া হবে।

তারানা হালিম বলেন, সিমিইউ-৪ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কাজ হবে। তা বন্ধ হয়ে গেলেও ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকব না। যেহেতু সিমিইউ-৫-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি, সে কারণে আমরা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হচ্ছি না, ওই সময়ে গতি স্লো হওয়ার আশংকা রয়েছে। তবে আমাদের আইটিসি লাইসেন্সধারীরা আছে, এতে খুব বেশি সমস্যা হবে না।

বাংলাদেশ ২০০৫ সালে প্রথম সাবমেরিন কেবলের (সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডিল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-৪) সঙ্গে যুক্ত হয়। পরের বছর চালুর পর এবারই প্রথম এ সাবমেরিন কেবল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে মেরামতকাজ করা হবে। গত মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫)। চলতি বছরেই এই কেবলের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৫০০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে।

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ও আইটিসির আমদানি করা ব্যান্ডউইথ দিয়ে ওই তিন দিনের ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনা করেছে বিএসসিসিএল কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে বর্তমানে ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা রয়েছে। শিগগিরই তা ২০০ জিবিপিএসে পৌঁছবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ওই সময় ব্যান্ডউইথ ঘাটতিতে দেশে ইন্টারনেট সেবা বিপর্যস্ত হওয়ার আশংকা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ওই তিন দিন ঘাটতির পরিমাণ চাহিদার চেয়ে ৫০ জিবিপিএস’র কম থাকবে বলছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিএসসিসিএল। আর ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, ওই সময়ে দেশে অন্তত ১৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ঘাটতি হতে পারে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন