আজ বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



প্রধানমন্ত্রীর ৭১তম জন্মদিন আজ

Published on 28 September 2017 | 2: 18 am

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন আজ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাসায় তিনি এবারের জন্মদিন অনাড়ম্বরভাবে উদযাপন করবেন।

এবার এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন হচ্ছে। নির্যাতিত-অত্যাচারিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগারিকদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে কোনো ধরনের বড় আয়োজন ছাড়াই দিনটি পালন করা হবে।

তবে দলের সভাপতির জন্মদিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার মেরুল বাড্ডা ও সকাল সাড়ে ১০টায় খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) ওয়াইএমসিএ চ্যাপেল, ২৯ সেনপাড়া, মিরপুর-১০ এবং সুবিধাজনক সময়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকে প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি লাভকারী শেখ হাসিনা তৎকালীন ছাত্রলীগের অন্যতম নেত্রী ছিলেন।

১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর থেকে ৩৪ বছর ধরে নিজ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আপসহীন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল স্রোতধারার প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং অন্য রাজনৈতিক জোট ও দলগুলো ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিজয়ী হয়।

১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে প্রথমে ১৪ দলীয় জোট এবং পরে মহাজোট গড়ে ওঠে।

১৪ দল ও মহাজোটের তীব্র আন্দোলনের মুখে অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার একতরফা নির্বাচনের আয়োজন করেও ব্যর্থ হয়।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির মধ্য দিয়ে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ১৬ জুলাই চাঁদাবাজিসহ দুর্নীতির মিথ্যা মামলায় শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সংসদ ভবন চত্বরের বিশেষ কারাগারে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস বন্দি ছিলেন তিনি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে এর আগেও কয়েক দফা গৃহবন্দিত্ব জীবন কাটাতে হয় তাকে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত তিন মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি। ওই বছরের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে ২৩ জুন সরকার গঠন করে তারা।

এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে চার-তৃতীয়াংশ আসনে বিশাল বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠিত হয়। দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্বিতীয় মেয়াদের মহাজোট সরকার গঠন করে। এছাড়া ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে অর্থাৎ মোট তিন দফা বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

গণতন্ত্র এবং দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ব্যাপক সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ১৯৯৬-০১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি তার নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও উদ্যোগের কারণেই বাংলা আজ বিশ্ব মাতৃভাষা। আর ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল বিনিময় করে তিনি পুরো বিশ্বে শান্তিকামী এবং চৌকস রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ভারত ও মিয়ানমারের কাছ থেকে সমুদ্রসীমার ন্যায্য হিস্যা আদায় করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ দিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শুরু ও তা বস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তার আরেক সাফল্য।

পরিবেশসহ বিশ্বের নানা সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে জোরালো কথা বলে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। সর্বশেষ মিয়ানমার থেকে হত্যা-নির্যাতনের মুখে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে তিনি বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ভূষিত হয়েছেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বিশেষণে।

বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ও মধ্যম আয়ের আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে নিয়োজিত আছে।
এই অঞ্চলে গণতন্ত্র, শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী শিক্ষার বিস্তার, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস ও দারিদ্র্য বিমোচনের সংগ্রামে অসামান্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কার-২০১৪, শান্তি বৃক্ষ-২০১৪, জাতিসংঘ পুরস্কার-২০১৩ ও ২০১০, রোটারি শান্তি পুরস্কার-২০১৩, গোভি পুরস্কার-২০১২, সাউথ-সাউথ পুরস্কার-২০১১, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০১০, পার্ল এস. বার্ক পুরস্কার-২০০০, সিইআরইএস মেডাল-১৯৯৯, এম কে গান্ধী পুরস্কার-১৯৯৮, মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮, ইউনেস্কোর ফেলিক্স হোফুয়েট-বোয়েগনি শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮ উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৫ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।

গত সাত বছরের মতো এবারের জন্মদিনেও দেশের বাইরে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগদান শেষে বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ছেলের বাসায় অবস্থান করছেন। আগামী ২ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শরীরে অস্ত্রোপচারের কারণে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা পিছিয়ে ৫ অক্টোবর করা হয়েছে।

বিভিন্ন দল ও সংগঠন সীমিত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, প্রার্থনা সভা প্রভৃতি।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে নিউইয়র্ক অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে আজ জন্মদিনের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হবে। ঢাকা থেকেও টেলিফোনে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন এতিমখানাসহ দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে। আর তার জন্মদিন আয়োজনে যারা অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলেন তাদের সেই খরচের টাকা রোহিঙ্গাদের জন্য দান করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এছাড়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃৃতিক জোট, শেখ রাসেল জাতীয় শিশুকিশোর পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলা, আওয়ামী সাংস্কৃৃতিক ফোরাম, আওয়ামী মোটর চালক লীগ ও প্রজন্ম সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রিয় নেত্রীর জন্মদিন উদযাপন করবে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন