আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রামে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কারা : ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি

Published on 16 September 2017 | 4: 38 am

সোনালী নিউজ ডেস্ক :: চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানিয় দৈনিক আজাদীর প্রথম পৃষ্ঠায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের আসন সমূহ হতে কারা কারা সম্ভাব্য প্রার্থী তার একটি তালিকা তুলে ধরা হয়েছে । “চট্টগ্রামে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কারা : ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি” শিরোনামে প্রকাশিত উক্ত সংবাদে সন্দ্বীপ বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা ও যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টন এর কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদটি প্রড়ে ইতিমধ্যে সন্দ্বীপের বিএনপি সমর্থক ও নেতারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন। কেউ কেউ বলছেন সংবাদটি ভিত্তিহীন ও মনগড়া । তাদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া পরে  সোনালী নিউজে তুলে ধরা হবে। সোনালী নিউজের পাঠকদের জন্য আজকের আজাদীতে প্রকাশিত সংবাদটি হবহু তুলে ধরা হল।

চট্টগ্রামে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কারা : ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি
আজাদী প্রতিবেদন ::
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবে কী না তা এখনো স্পষ্ট করেনি বিএনপি। অথচ ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েই এগুচ্ছে দলটি। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের তৃণমূল থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম সংগ্রহ করছে দলটির হাইকমান্ড। এ ত্রে প্রাথমিক তালিকায় প্রতিটি আসনে একাধিক জনের নাম সংগ্রহ করছে। মামলাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অগ্রাধিকার পাওয়ার প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে না পারলে সে ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। একইসঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে শরিক দলকে আসন ছেড়ে দেয়ার বিষয়টিও বিএনপির পরিকল্পনায় রয়েছে বলে দলটির ঘনিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে দলটির ‘ভিশন–২০৩০’ ঘোষণা করা হয়েছিল মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখেই। এর আগে গত বছর দলের কাউন্সিল এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটি পুর্নগঠনের মাধ্যমে দলের কর্মীদের চাঙ্গা করাও ছিল নির্বাচনকে সামনে রেখে। গত মে মাসে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের সফরও ছিল সেই একই উপলক্ষে।

জানতে চাইলে বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম দৈনিক আজাদীকে বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হলে এবং নির্দলীয় নিরপে তত্ত্বাবাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি অবশ্যই অংশ নেবে। তবে এখন নির্বাচন এবং আন্দোলন দুটো বিষয়কে টার্গেট করেই আমাদের প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত আছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রার্থীর বিষয়টি তো চূড়ান্ত করবেন দলীয় চেয়ারপারসন। মাঠ পর্যায়ে যাদের অবস্থান থাকবে এবং গ্রহণযোগ্যতা থাকবে তাদেরকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হবে।

চট্টগ্রামের সম্ভাব্য প্রার্থীরা : চট্টগ্রাম নগরীর দুটি আসনে বিএনপি একক প্রার্থী বাছাই করেছে। এরমধ্যে ডবলমুরিং, খুলশী, পাহাড়তলী, হালিশহর ও পাঁচলাইশ আংশিক আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান এবং বন্দর–পতেঙ্গা আসনে একক প্রার্থী হিসেবে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া নগরীর বাইরে বাঁশখালী আসনে একক প্রার্থী হিসেবে প্রায় চূড়ান্ত আছেন সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।

চান্দগাঁও–বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক : এ আসনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়াননের নাম শুনা যাচ্ছে।

কোতোয়ালী : নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে আছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী ও মহানগর বিএনপি নেতা সামশুল আলম।

সন্দ্বীপ: সন্দ্বীপে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা ও যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টন।

মীরসরাই : বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর এমডিএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) জেড এ খান, মীরসরাই বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন চৌধুরী, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা সাইদ চৌধুরী, তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ, মনিরুল ইসলাম ইউসুফের নাম শোনা যাচ্ছে।

সীতাকুণ্ড : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর এ আসনে মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত। তবে কোনো কারণে তিনি নির্বাচন করতে না পারলে সাবেক মন্ত্রী এল কে সিদ্দিকীর ভাই সাবেক আইজিপি ওয়াই বি সিদ্দিকীর নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাটহাজারী : বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করলে অসুস্থতার কারণে এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে সাবেক মন্ত্রী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন অথবা দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হকের। ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্ট্রার শাকিলা ফারজানাও আলোচনায় আছেন। যদি বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করে সে েতে্র ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম মনোনয়ন পেতে পারেন।

ফটিকছড়ি : এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী, বিএনপির শাসনামলে রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের প্রধান কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরী আরা ছাফা ও বিএনপি নেতা ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী আলোচনায় আছেন।

রাউজান : এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার আলোচনায় আছেন।

রাঙ্গুনিয়া : এ আসনে ফরহাত কাদের চৌধুরী অথবা তার পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।

পটিয়া : দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ–সভাপতি এনামুল হক এনাম ও ইদ্রিছ মিয়া আলোচনায় আছেন। তবে বর্তমানে দলের বাইরে থাকা (দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অব্যহতি দেয়া হয়েছিল) সাবেক সংসদ সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েলের অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার করা হলে তার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আনোয়ারা–কর্ণফুলী ও পশ্চিম পটিয়া : সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বার কাউন্সিলের সদস্য ও প্রবীণ আইনজীবী এডভোকেট কবির চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী আব্বাস এবং সৌদি আরব শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে।

চন্দনাইশ : দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবার ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মহসিন জিল্লুর ও বিএনপি নেতা মিজানুল হক চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে জোটগতভাবে নির্বাচন করলে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রমকে আসনটি ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি

সাতকানিয়া–লোহাগাড়া : বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ, দলের কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, সাতকানিয়া বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান ও নাজমুল মোস্তফা আমীন মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে বিএনপি জোটগতভাবে নির্বাচন করলে এবং জামায়াত ইসলামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পেলে জামায়াতকে আসনটি ছেড়ে দেয়া হতে পারে। জামায়াত নির্বাচনের সুযোগ না পেলে এলডিপিকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন