আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ঈদে বাড়ী ফেরা : যাত্রা পথে ভোগান্তি

Published on 01 September 2017 | 6: 09 am

প্রাণের টানে বাড়ি ফিরছেন ঈদের ঘরমুখো মানুষ। বৃষ্টি, ভাঙাচোরা সড়ক, অপ্রতুল গণপরিবহন, যানজট ও সড়কে ধীর গতির কারণে পথে পথে ভোগান্তিতে  পড়েছেন এসব মানুষ।

পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে ১০ কিলোমিটারজুড়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। নাব্যতা সঙ্কটের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরার মানুষের চাপ বাড়তে দেখা গেছে।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গাড়ির প্রচণ্ড চাপে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে গাড়ির লাইন ১০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। এতে ভোগন্তিতে পড়তে হচ্ছে ঘরমুখো যাত্রীদের।
শুক্রবার ভোর থেকে ক্রমশ বাড়তে থাকে গাড়ির লাইন। পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী কোচ সারি ১০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। অপরদিকে ছোট গাড়িরও রয়েছে ৫ কিলোমিটার বেশি সারি।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপ-সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বানিজ্য) জিল্লুর রহমান জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ঈদকে সামনে রেখে নয়টি রো-রো, ছয়টি ইউটিলিটি ও তিনটি কেটাইপ ফেরি চলাচল করছে। শুক্রবার সকালে অতিরিক্ত গাড়ির চাপে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
পর্যাপ্ত ফেরি থাকায় দুপুরের মধ্যে গাড়ির চাপ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নাব্যতা সঙ্কটের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় সহস্রাধিক যানবাহন।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে পদ্মার পানি হঠাৎ হ্রাস পেলে এ রুটে ফেরি চলাচলে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থায় শুক্রবার সকাল থেকে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরে বেলা ১১টার দিকে এ রুটে ফেরি পারাপার বন্ধ হয়ে যায়।
মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) গিয়াসউদ্দিন পাটুয়ারি জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে পদ্মার পানি প্রায় ২ হাত কমে যাওয়ায় লৌহজং চ্যানেলে রায়পুরা ও শাহ পরান ফেরি আটকে যায়। তবে আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়েছে। ফেরিগুলো উদ্ধারের কাজ চলছে।
এ রুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। পানি কমে যাওয়ার ফেরিগুলোতে স্বল্প সংখ্যক যানবাহন পারাপার করতে হচ্ছে। ফলে ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ রয়েছে বলে তিনি জানান।
মাওয়া-কাওরাকান্দি ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. সিদ্দিক জানান, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে, সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।
গাজীপুর ও মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। কখনো কখনো একেবারেই থেমে যাচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানবাহনের ধীর গতি থাকলেও গাজীপুরের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ক্যাডেট কলেজ এলাকা থেকে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এতে রাত থেকেই যানজটের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকাল থেকে যানবাহনের চাপ কমতে থাকায় চন্দ্রা ও এর আশপাশ এলাকায় যানজট নেই। তবে যানবাহন চলাচল করছে ধীর গতিতে।
কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ওসি হোসেন সরকার জানান, চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় ধীর গতিতে যানবাহন চলাচল করছে। তবে যানজট নেই বললেই চলে।
মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার এসআই গোলাম কিবরিয়া জানান, চালকেরা নিয়ম না মেনে যান চালানোয় সামাল দিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে মির্জাপুরের সীমানায় যানবাহনের গতি স্বাভাবিক রয়েছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন