আজ রবিবার, ১৯ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



রাতের শেষেই ঈদ , ঈদ মুবারক।

Published on 01 September 2017 | 5: 53 am

 সোনালী ডেস্ক:::::: ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা আগামীকাল শনিবার আমাদের দেশে উদযাপিত হবে। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে কোরবানির প্রচলন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে উৎসর্গ করতে উদ্যত হয়েছিলেন। এই অনন্য সাধারন ঘটনার স্মরণে কুরবানির রেওয়াজ চালু হয়।
ইসলামের পরিভাষায় কুরবানি হলো- নির্দিষ্ট পশুকে একমাত্র আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে তারই নামে উৎসর্গ (জবেহ) করা। পবিত্মর কোরআনের ভাষ্যমতে সৃষ্টিকর্তার দরবারে জবাই করা পশুর মাংস বা রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, কেবল নিয়ত ছাড়া। ঈদুল আজহার অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে, মনের পশু অর্থাৎ কুপ্রবৃত্তিকে শেষ করে দেয়া।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিবছর জিলহজ মাসের দশ তারিখে বিশ্ব মুসলিম ঈদুল আযহার  নামাজ আদায়ের পর যার যা সাধ্য ও পছন্দ অনুযায়ী পশু কুরবানি দিয়ে থাকেন। আরবি ‘আজহা’ এবং ‘কুরবান’ উভয় শব্দের অর্থই হচ্ছে উৎসর্গ। কুরবানি শব্দের উত্পত্তিগত অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ, আত্মোৎর্গ, নিজেকে বিসর্জন, নৈকট্য লাভের চেষ্টা ও অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া ইত্যাদি।
জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো একদিন কুরবানি করা যায়। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এসব শ্রেণির প্রাণী দ্বারা কুরবানি করা যায়। কুরবানিকৃত পশুর ৩ ভাগের ১ ভাগ গরীব-মিসকিন, একভাগ আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দেয়ার নিয়ম তবে আবশ্যিক নয়। চাইলে পুরোটাই বিলিয়ে দেয়া যায় কিংবা নিজেরা খেতে পারে পুরোটাই। ৯ জিলহজ ফজর নামাজের পর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর তাকবীরে তালবিয়া পাঠ করা ওয়াজিব। তালবিয়াহ হলো, ‘‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’’
প্রিয়নবী মুহাম্মদ (স:) বলেছেনঃ প্রত্যেক জাতির বাৎসরিক আনন্দ-ফুর্তির দিন আছে,আমাদের   আনন্ন্দদের জন্য দুই ঈদ  রয়েছে,ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এই দিনে ধনী-গরীব, বাদশা-ফকির নির্বিশেষে সব মুসলমান এক কাতারে ঈদের নামাজ আদায় করে,একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে।
অদ্য থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনদিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ঈদুল আজহার দিন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বেগম খালেদা জিয়া সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সকল উপদেস্টা ,পৃষ্ঠপোষক,শুভাকাংখি, লেখক,সাংবাদিক ও পাঠকদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সোনালী মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন্স এর প্রধান সম্পাদক কাজী মিনহাজ উদ্দিন রুদবী এবং সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন আশরাফ।

 

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সকল কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, ভবঘুরে কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম এবং শিশু ও মাতৃসদনে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হবে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন