সংবাদকর্মী মুনসুর আমাানের অসহায় পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে আসুন

আমান

সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাব সভাপতির সাথে মরহুম সাংবদিক আল মুনছুর আমান।  সাম্প্রতিক এক বিকেলে রহমতপুর সাগর পাড়ে তোলা এই ছবিটি এখন কেবলি স্মৃতি- সোনালী নিউজ


 :: রহিম মোহাম্মদ ::


রাতে কেন জানি ভাত খাননি, সকালে নিজে খেতে গেলে ছেলেমেয়েদের পোষাবে না -এজন্য ভাইয়া সকালে ঘরে নাস্তা না করে অফিসের পথে বেরিয়ে যান! এরপর ফিরলেন লাশ হয়ে -কথাগুলো কোন উপন্যাস বা সিনেমার কাহিনী থেকে নয়, বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণকারী সংবাদকর্মী মুনসুর আমান সম্পর্কে এভাবে বললেন তার ছোট ভাই। বাবা মুনসুরের কাছে বাজার করার টাকা চাইলে সে আজ টাকা নেই,আগামীকাল ভাল করে কইরেন বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার কথা জানান।

শনিবার সকালে এম.হোসাইন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রয়াত মুনসুরের শোকার্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানাতে গেলে এরকম মর্মস্পর্শী ঘটনার কথা জানা যায়। আর্থিক দৈন্যতায় পারিবারিক জীবনে নানা সংকটের আবর্তে কেটেছে মুনসুরের জীবন কিন্তু সংবাদকর্মী হিসেবে কিংবা তার মূল পেশায় দায়িত্বপালনে কখনও একটু ব্যত্যয় ঘটেনি।

ছাত্রজীবন শেষে সাবেক এম.পি মুস্তাফিজুর রহমানের বিভিন্ন প্রোগ্রামের ছবি কাভার এবং পরবর্তীতে দৈনিক রুপালী’র সন্দ্বীপ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে করতে সংবাদ জগতের নেশা ধরে যায়। ফলে বি.এ পাশের যোগ্যতা থাকার পরও কোথাও আর তার চাকুরী করা হয়নি। এলাকার সমস্যা আর সংকটের কথা ভাবতে গিয়ে মনের অজান্তে নিজেই সমস্যার বেড়াজালে আবদ্ব হয়ে পড়ে। কারন মফস্বলের সংবাদকর্মীদের কোন আয়-রোজগার নেই, একান্তই নেশায় কারনে করা। সন্দ্বীপে এ মুহুর্তে সংবাদকর্মী হিসেবে সবচেয়ে পরিচিত ব্যক্তি সে।

পারিবারিক ও পেশাগত নানা সমস্যার মাঝেও সে ছিল হাস্যোজ্জ্বল, সদালাপি। মৃত্যুর আগের দিন দুপুরে উপজেলা সদরে এম.হোসাইন ফাউন্ডেশনের বৃত্তি বিতরন অনুষ্ঠান শেষে আনোয়ারা হোটেলে মুনসুর সহ অন্য ক’জন সংবাদকর্মীদের নিয়ে একসাথে আমরা খেলাম। এটিই ছিল তার জীবনের শেষ ভাত খাওয়া। খাবার শেষে সে আমার কাছে কিছু টাকা চেয়েছিল কিন্তু তার প্রত্যাশা অনুযায়ী টাকা দিইনি বলে আজ খারাপ লাগছে। তার তিন ছেলেমেয়ে ও স্ত্রী’র জন্য কিছুই রেখে যাবার চেষ্টার আগেই পরপারে চলে যেত হল মুনসুরকে। তাকে হারিয়ে আজ দিশেহারা তার পরিবার।

আমরা যারা কিছুটা স্বচ্ছল তারা যদি একটু এগিয়ে আসি তাহলে মুনসুরের অসহায় পরিবার ঘুরে দাঁড়াবার ঠিকানা খুঁজে পাবে।ইতোমধ্যে সন্দ্বীপ মিডিয়ার অন্যতম বন্দ্বু মিনহাজ উদ্দিন রুদবী ভাই ও আমাকে প্রধান করে সাংবাদিক মুনসুর আমান পারিবারিক সহায়তা তহবিলের একটি কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। লক্ষাধিক টাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন কেউ কেউ।

আপনি ব্যক্তিগতভাবেও তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আপনার বিবেক হোক জাগ্রত, মানবতায় হাত বাড়ান।


লেখক : সভাপতি, সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাব।

শাহাদাৎ আশরাফ শাহাদাৎ আশরাফ

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market