আজ শনিবার, ১৮ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



এমপির বক্তব্যে সাভারজুড়ে তোলপাড় ৫ জনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি, ১৪ জনের লিস্ট করেছি

Published on 20 July 2017 | 5: 20 am

ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. এনামুর রহমানের দেয়া বক্তব্য নিয়ে সাভারজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এমপির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বুধবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘সাভারে অনেক ক্যাডার আর মাস্তান ছিল। এখন সব পানি হয়ে গেছে। কারও টুঁ শব্দ করার সাহস নেই। ৫ জনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি, আরও ১৪ জনের লিস্ট করেছি।’

বুধবার সকালে এমপি এনামুর রহমান দাবি করেছেন, তার বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে অতিরঞ্জিত করে ছাপানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমি যে বিষয়ে আলোকপাত করতে চেয়েছিলাম তা যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে না পারায় বক্তব্যের রূপটি বিকৃত হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করেছে। যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।

তবে এ ব্যাপারে বুধবার রাতে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা দৌলা মুঠোফোনে বলেন, ‘সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমানের দেয়া বক্তব্য সঠিক। এমপির সম্মতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ কাজ করেছে। বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদদের ঘায়েল করার জন্য নয়, সন্ত্রাস দমনের জন্যই তার সম্মতিতে ৫ জনকে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে। একজন এমপি এ ধরনের নির্দেশ দিতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তিনি পারেন না। এটা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তেই হওয়া উচিত।’

জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভিন্ন কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান। তার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন সাভারে বিএনপি থেকে তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন। অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একটু ভিন্নভাবে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, ডা. এনামুর রহমানের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে দলের (আওয়ামী লীগ) একাধিক নেতার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ঈর্ষান্বিত হয়ে ডা. এনামুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় নেতা। অনেকেই আগামী সংসদ নির্বাচনে সাভারের এ আসন থেকে সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। অতীতে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেও যারা দলকে কিছু দিতে পারেননি তারা রয়েছেন এ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাতারে।

এ ব্যাপারে ডা. এনামুর রহমান আরও বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। সন্ত্রাসের প্রশ্নে নিজ দল কিংবা অন্য দলের কাউকে ছাড় বা সমর্থন দেই না। অপরাধে জড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতা বা যেই হোক না কেন কোনো ধরনের সহযোগিতা বা তদবিরও করি না।’


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন