আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে চারদিনে ৯ শিশুর মৃত্যু

Published on 13 July 2017 | 4: 32 am

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে ত্রিপুরা পল্লীর ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত আরও ৪৬ শিশুকে ফৌজদারহাট বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেক্সাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিনদিনে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বারআউলিয়া পাহাড়ে অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লীতে এ ৯ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এদের সবার বয়স ২ বছর থেকে ১০ বছরের মধ্যে।

শিশুদের মৃত্যুতে ক্ষু-নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে ওই ক্ষু-নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী পল্লীতে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত যে ৪৬ জনকে বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাদের মধ্যে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশংকাজনক।

অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে চারজন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বুধবার জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থল সোনাইছড়ির ক্ষু-নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী পল্লীতে ছুটে যান। সেখানে তারা আক্রান্ত কয়েকজন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন।

এ অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর,শ্বাসকষ্ট, পাতলা পায়খানা ও পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, খিঁচুনি ও বমির লক্ষণ দেখা যায়। এর কিছুক্ষণের তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বুধবার সন্ধ্যায় জানান, অজ্ঞাত ভাইরাসজনিত রোগে এসব শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ৪৬ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, আর কোনো শিশুর যাতে মৃত্যু না হয়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রোগের কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা হচ্ছে।

ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, মারা যাওয়া শিশুরা যেসব স্কুলে পড়ত, ওইসব স্কুলে অন্য কোনো বাচ্চার মধ্যে এ ধরনের ভাইরাসের লক্ষণ আছে কিনা তাও তারা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় মনিটরিং করছে এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের একটি বিশেষজ্ঞ টিমও ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানান সিভিল সার্জন।

অজ্ঞাত রোগে বুধবার সকাল ১১টার দিকে সোনাইছড়ির ত্রিপুরা পল্লীতে যে চার শিশুর মৃত্যু হয় তারা হলো- কুম্বুর ছেলে হৃদয় (৮), সুমনের ছেলে রূপালী (৩), বিমলের ছেলে শিমুল (২), শ্যাম চন্দের ছেলে কসম রায় (২)।

এর আগের দিন মঙ্গলবার দুই শিশুর মৃত্যু হয়। তারা হলো- শান্ত কুমারের ছেলে প্রকাটি (৬) ও পদ্ম কুমারের ছেলে তাকি (২)।

এছাড়া গত সোমবার তিন শিশুর মৃত্যু হয়। তারা হলো- পক্ষ্মি চরনের মেয়ে রুমা প্রতি (৯), একই পরিবারের কানা (২) ও সুজনের মেয়ে জানিয়া (৪)।

ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দা নিরাবালা জানান, গত সপ্তাহে শিশুদের জ্বর দেখা দেয়। এরপর জ্বরের সঙ্গে  কাশিও শুরু হয়। এই সপ্তাহের শুরুতে আক্রান্ত শিশুদের পুরো শরীরে ছোট ছোট বিচির মত উঠতে থাকে। ডাক্তারের কাছে নিলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে পেট ফোলে শরীর টান টান হয়ে খিঁচুনি দিয়ে শিশুদের মৃত্যু হয়।

৯ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা নুরুল করিম রাশেদ জানান, ‘এটি একটি অজ্ঞাত ভাইরাস জনিত রোগ। তাদের শরীরের রক্ত পরীক্ষা করে ভাইরাস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত ৪৬ জনকে উদ্ধার করে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে গুরুতর অসুস্থ দুই জনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, বুধবার ত্রিপুরা পল্লী থেকে অজ্ঞাত ভাইরাসে আক্রাত ৪৬ শিশুকে উদ্ধার করে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ঘরে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে  হচ্ছে আর কেউ আক্রান্ত আছে কিনা।

সংশ্লিষ্ট দফতরের লোকজন মৃত্যুর কারণ সর্ম্পকে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।

এদিকে বুধবার বিকালে রাঙ্গামাটি থেকে জ্বরে আক্রান্ত ৯ শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

তারাও সোনাইছড়িতে আক্রান্ত শিশুদের মতো অজ্ঞাত ভাইরাসে আক্রান্ত নাকি অন্য কোনো নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত সে বিষয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে বলে চমেক সূত্র জানিয়েছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন