আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



শীঘ্রই উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে

Published on 17 May 2017 | 4: 12 am

 

কোন্দলের আগুনে পুড়লেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গাজী শাজাহান জুয়েল। কোন্দল নিরসনে ‘ব্যর্থ’ অভিযোগে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবুর রহমান শামীমও রক্ষা পাননি সেই আগুনের তাপ থেকে। গত ২ ও ৩ মে অনুষ্ঠিত দলীয় কর্মী সমাবেশে সংঘটিত মারামারির ঘটনায় এই তিনজনের বিরুদ্ধেই নেয়া হলো সাংগঠনিক ব্যবস্থা। এর মধ্যে কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান ও গাজী শাজাহান জুয়েলকে দল থেকে বহিষ্কার এবং মাহবুবুর রহমান শামীমকে শোকজ করা হয়েছে।

দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নির্দেশেই এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে দলটির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত সোমবার রাতে চট্টগ্রামের ১৫ জন নেতার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন খালেদা জিয়া। বৈঠকে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি শীঘ্রই উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান খালেদা জিয়া। এক্ষেত্রে তিনি নিজেই কমিটি ঘোষণা করবেন এবং নেতৃত্বে কারা আসবেন সেটাও ঠিক করে দেবেন বলে বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের জানান। বৈঠকে উপস্থিত দলটির একাধিক নেতা বিষয়টিকে মূল্যায়ন করছেন এভাবে, ‘দলের স্বার্থেই হার্ডলাইনে গেলেন চেয়ারপার্সন’। এদিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান  বলেন, এটা গুজব। আমাকে কোনো আনুষ্ঠানিক পত্র দেয়া হয়নি।

যোগাযোগ করা হলে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবুর রহমান শামীম জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে (গতকাল রাত ১০টা ১০ মিনিট) ম্যাডাম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে আছি। কোনো সিদ্ধান্ত হলে পরে জানাব। বহিষ্কার প্রসঙ্গে জানার জন্য দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাজাহান জুয়েলের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। গত ২ মে নগরীর নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল উত্তর জেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশ। সেই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশররফ হোসেন। সেদিন সমাবেশ শুরুর আগেই উত্তর জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে প্রায় পণ্ড হয় সমাবেশ। প্রধান অতিথি নেতাদের শান্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে শেষ করেন তার বক্তব্য। সেদিন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদেরের আস্থাভাজন উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসানের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়েছিল।

পরদিন ৩ মে ছিল দক্ষিণ জেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশ। সেদিন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাজাহান জুয়েল এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি এনামুল হক এনামের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে পণ্ড হয় কর্মী সমাবেশ। এতে আহত হন স্বয়ং এনামও।

উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশররফ হোসেন একটি প্রতিবেদন দেন দলীয় চেয়ারপার্সনকে। এর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের ১৫ জন নেতার সঙ্গে গত ১৫ মে বৈঠকে বসেন খালেদা জিয়া। বৈঠকে তিনি উত্তর ও দক্ষিণ জেলার সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনার জন্য দায়ীদের ভর্ৎসনা করেন। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত দেন, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি শীঘ্রই বিলুপ্ত করা হবে এবং তিনি নিজেই নেতৃত্ব বাছাই করবেন।

সোমবারের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, টিম লিডার ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশররফ হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে ম্যাডাম ঘটনার সঙ্গে ‘ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্টলি’ জড়িত সকলকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শীঘ্রই কমিটি ঘোষণা করা হবে। ম্যাডাম নিজেই এ কমিটি ঘোষণা করবেন।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, কোন্দলে জড়িত থাকার জন্য কয়েকজন নেতাকে বৈঠকে সতর্ক করে দেয়া হয়। আমাদের চেয়ারপারসন বলেছেন, তিনি আর কোনো গ্রুপিং দেখতে চান না। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। যারা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক নেতা বলেন, উত্তর জেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গ্রুপিংয়ের জন্য উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসানকে ভর্ৎসনা করেন খালেদা জিয়া। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাজাহান জুয়েলকে উদ্দেশ্যে করে খালেদা জিয়া বলেন, বছরের দশ মাস বিদেশ থাকেন। আবার দেশে এসে গ্রুপিং করেন। কই, আন্দোলনসংগ্রামে তো আপনাকে মাঠে দেখা যায়নি। একটা মামলাও তো খাননি আন্দোলন করতে গিয়ে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বলেন, দলের জন্য স্বামীসন্তানকে হারিয়েছেন উল্লেখ করে খালেদা জিয়া প্রশ্ন রাখেন, আপনারা দলের জন্য কী করেছেন? এখন থেকে চট্টগ্রামের উত্তরদক্ষিণের বিষয়টি আমি নিজেই দেখব। খালেদা জিয়া দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব শামীমের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলেও বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে খালেদা জিয়া এটাও বলেন, আমি খন্দকার মোশারফের প্রতিবেদন পেয়েছি। পাশাপাশি আমার মতো করে মাঠ পর্যায় থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার জন্য কারা জড়িত তা চিহ্নিত করেছি।

উল্লেখ্য, সোমবারের বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রামের নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাছির উদ্দিন, গিয়াস কাদের চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খন্দকার, এসএম ফজলুর হক, মহানগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, দক্ষিণের সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল, সহসভাপতি এনামুল হক এনাম, ?উত্তরের সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমসহ ১৫ জন সিনিয়র নেতা ছিলেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে আসলাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও কাজী আবদুল্লাহ হাসানের সদস্য সচিব করে ৭৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তার আগে উত্তরের কমিটির সভাপতি ছিলেন গিয়াস কাদের চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরী। ২০১১ সালে জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি ও গাজী শাজাহান জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন করা হয়েছিল দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি।

সুত্র : আজাদী


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন