আজ মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রামে বাড়ছে বাড়ি ভাড়া ও পানির দাম, অধিকাংশ বাড়ির মালিক ব্যাংকের মাধ্যমে ভাড়া নিচ্ছেন না

Published on 29 November 2015 | 10: 55 am

ভাড়াটিয়াদের জিম্মি করে বাড়ির মালিকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াচ্ছে
নতুন বছর শুরুর আগেই বাড়িভাড়া বাড়ানোর নোটিশ পাচ্ছেন ভাড়াটিয়ারা। পাশাপাশি জানুয়ারির প্রথম দিন থেকে পানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। বাড়িভাড়া ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আর ওয়াসার পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। একে তো নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি, তার ওপর নতুন করে পানি ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির এ খবরে চট্টগ্রামের নিু ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। পানির সরবরাহ না মিটিয়ে দাম বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্তকে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা বলে দাবি করেছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বছর বছর বাড়িভাড়া বৃদ্ধিতেও কোনো নীতিমালা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ ভাড়াটিয়া এবং ক্যাবের।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানির চাহিদা ৫০ কোটি লিটার। তবে ওয়াসা সবমিলে সরবরাহ করতে পারে ২১ কোটি লিটার- যা চাহিদার মাত্র ৪২ শতাংশ। চট্টগ্রাম ওয়াসায় ৬১ হাজার ৭১৭ আবাসিক গ্রাহক এবং ৭ হাজার ৩৮৭ বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছেন। চাহিদা আর সরবরাহের বিশাল এ ঘাটতির মধ্যে প্রতি দিনই নগরীতে চলছে পানির জন্য হাহাকার। সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে এখনও ১৩টি ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ দিতে পারেনি ওয়াসা। তবে উৎপাদন বাড়াতে না পারলেও গেল চার বছর ধরে পানির দাম বাড়িয়ে চলেছে সংস্থাটি। এ অবস্থায় আগামী জানুয়ারি থেকে আবারও ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়ানো হচ্ছে।

ওয়াসায় প্রতি হাজার লিটার পানিতে খরচ পড়ে ১৫ টাকা করে। বর্তমানে আবাসিকে প্রতি হাজার লিটার পানির দাম নেয়া হচ্ছে ৭ টাকা ২৫ পয়সা এবং বাণিজ্যিকে ২০ টাকা ৫৩ পয়সা। বর্ধিত মূল্য কার্যকর হলে প্রতি হাজার লিটার পানির জন্য আবাসিক গ্রাহককে ৭ টাকা ৬১ পয়সা ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের দিতে হবে ২১ টাকা ৫৬ পয়সা হারে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের ৩০তম সভায় পানির দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির উৎসের মধ্যে রয়েছে মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প ও ৯৫টি গভীর নলকূপ। গভীর নলকূপ থেকে মিলছে ১১ থেকে ১২ কোটি লিটার পানি। ১৯৮৭ সালে মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্পটি চালু করা হয়। ২৮ বছরেও ওয়াসা নতুন কোনো প্রকল্প চালু করতে পারেনি। এছাড়া বেশ ক’টি প্রকল্প ওয়াসা হাতে নিলেও তা নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে না পারায় নগরবাসীর পানি সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না।

বিবৃতি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্যাব। সংগঠনটির বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা চাহিদার মাত্র ৪২ শতাংশ পানি গ্রাহকদের দিতে পারছে। যে কারণে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পানির জন্য হাহাকার চলছে। ওয়াসা পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করে নতুন নতুন প্রকল্পের কথা বলে নগরবাসীকে বরাবরই বিভ্রান্ত করছে। মূল্য বৃদ্ধির কথা বলে ওয়াসার অভ্যন্তরে পানি চুরি ও মিটার রিডারদের অনিয়মকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, ক্যাব প্রতিনিয়তই দাবি জানিয়ে আসছে পানি অপচয় রোধ, চুরি বন্ধ, বিলিং ব্যবস্থার ত্র“টি দূর করা ও সিস্টেম লস বন্ধ করা। অথচ তা না করে উৎপাদন খরচ বাড়ার অজুহাতে ভোক্তাদের ওপর পানির মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ক্যাব সূত্র জানায়, ২৪ বছরে চট্টগ্রামে বাড়িভাড়া বেড়েছে সাড়ে ৩০০ শতাংশ। গেল বছর বাড়িভাড়া বেড়েছে ১৮ থেকে ২৫ শতাংশ। আগামী বছর ২০১৬ সালে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ হারে। ১৯৯১ সালে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন পাস করা হলেও এখনও এ আইনের কোনো বাস্তবায়ন নেই। ফলে ভাড়াটিয়াদের জিম্মি করে বাড়ির মালিকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াচ্ছে। ২০ হাজার টাকার ওপরে বাড়িভাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা থাকলেও চট্টগ্রামের অধিকাংশ বাড়ির মালিক ব্যাংকের মাধ্যমে ভাড়া নিচ্ছেন না।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ  জানান, ‘চট্টগ্রামে পানি সংকট দীর্ঘদিনের। ওয়াসা প্রতি মাসে প্রায় ৮০ লাখ টাকা করে লোকসান দিচ্ছে। ৫ শতাংশ দাম বাড়লে প্রায় ২০ লাখ টাকা ঘাটতি কমবে। শিগগিরই কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করছি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পানি সংকট অনেকাংশ কমে আসবে।’


Advertisement

আরও পড়ুন