আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আজো বুকে ব্যথা    – হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টু

Published on 29 November 2015 | 10: 41 am

আজো মনে পড়ে সে দ্বীপের কথা ,
যে মাটিতে ভূমিষ্ট হয়ে প্রথম দেখেছিলাম পৃথিবীর মুখ,
শৈশবের কত স্মৃতি মাখা আমার জন্মভুমি সোনার দ্বীপ,
সুখে দুখে স্বজন পরিচিত অপরিচিত কত লোক,
কেউ আজো বেচেঁ আছে কেউ চলে গেছে না ফিরার দেশে,
মেঘনার  কড়াল গ্রাসে হারিয়ে ভিঠে মাটি,
আজ আমি পর বাসে কাটি,ইচ্ছে করে কেউ কি ছেড়ে আসে মাতৃভুমি।
নারীর টানে আজো আমাকে স্বপনেনিয়ে যায় অতীতের সে সকল স্মৃতি,
টাউন পাঠশালার হেডস্যার আলি আহমেদ আর কার্গিল এর কত গুলি বছর,
আদালতের মাঠে ফুটবল খেলে, কোট কাছারির কত গ্লাস চুরমার করেছি অবিরত,
বড় হয়ে ভলিবল এজলাসে উঠায় বলকে হাজতে দেওয়া কোথায়
সেই রাগ ভারি মল্লিক মনসুর আহমেদ সাহেব,
যাকে দেখলে সবাই ভয়ে নত জানু হয়ে যেতাম,ছোট বেলার সাথি,
শাহনেওয়াজ/কামরুল/জাহেদ/বলাই,
সবাই চলতাম এক সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে,
প্রিয়লালের জ্যোতিদা আজো যেন বসে আছে রসগোল্লা,
লালমোহন আর বড় বড় জিলাফি নিয়ে,
মায়ের কাছ থেকে দুই আনা নিয়ে জিলাফি আনতাম দৌড়ে গিয়ে।
পর্তুগীজ আমলের কোট কাছারি ভবন আর চারি পাড়ে সান বাধানো দিঘীর ঘাট,
আজো মনে পড়ে ফুল বিবি সাহেবানি মসজিদের সুন্দর কারু কাজ,
স্বপ্ন ঘিরা সুন্দর সাজানো পরি পাঠি আমার দ্বীপের শহর
মেঘনা নিয়েছে থাবা দিয়ে তার পেটের ভিতর।
শুনেছি উঠেছে জেগে আমার সে সোনার শহর, যার বুকে আমি কাটিয়েছিলাম ৫০টি বছর।
পাবলিক লাইব্রেরী আর কলা ভবন কোথায় গেল সেই কার্গিল মাঠ,
বিকালে হাজারো মানুষের পদ চারনায় মুখরিত আবাহনি আর মোহামেডারে খেলায়,
কলাভবনে নাচ,গান,আবৃত্তি,
নাটকে মানুষের করতালিতে কেটে যেত সারা রাত।
ইতিহাস লিখা হয়েছে অনেক লেখকের লিখায়,
শুধু গুন গান লিখেছেন নিজ নিজ এলাকার,
হাজারো বছরের হরিশপুর শহরের ইতিহাস লিখা হলোনা কোন লিখায়,
যদি সুযোগ পাই লিখবো এবার সে লিখা।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন