আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সিনিয়র নেতা ড. মনমোহন সিং চা-চক্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে

Published on 29 November 2015 | 2: 59 am

 

ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সিনিয়র নেতা ড. মনমোহন সিং শুক্রবার রাতে এক চাচক্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করেছেন। ক্ষমতায় আসার ১৮ মাস পর এই প্রথম বিরোধী নেতৃত্বের মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু চাচক্রে উপস্থিত ছিলেন। মনে করা হচ্ছে, জিএসটি বিল নিয়ে জট কাটাতে চাপে পড়েই সোনিয়ামনমোহনকে ডাকতে হয়েছে নরেন্দ্র মোদিকে। খবর বাসসের।

চলতি শীত অধিবেশনেই পণ্যপরিষেবা করসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করাতে মরিয়া কেন্দ্র। তবে বিল পাশের বিরোধিতায় অনড় কংগ্রেস। এদিকে রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, কংগ্রেসের দেয়া শর্ত মানলে পণ্যপরিষেবা কর বিল পাসে তারা সাহায্য করবেন। এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু আশ্বাস দিয়েছেন, জিএসটি নিয়ে কংগ্রেসের দেয়া শর্ত বিবেচনা করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এনিয়ে জট কাটাতেই প্রধানমন্ত্রী সোনিয়ামনমোহনকে চাচক্রে আমন্ত্রণ করেছেন বলে জানান ভেঙ্কাইয়া নাইডু। মোদী ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস পর থেকেই কংগ্রেস অভিযোগ তুলে আসছে, বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন না। শুক্রবারের চাচক্রে ওই অপবাদ ঘোচানোর চেষ্টা শুরু হলেও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, সংসদে বিল পাশ করানোর দায়েই কি এই বদল? ভবিষ্যতেও কি তিনি সহমতের ভিত্তিতে চলবেন?আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, আমন্ত্রণ রাখবেন কি না এ নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের সঙ্গে পরামর্শ করার পরে, শেষ পর্যন্ত দু’জনেই যান প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাসভবনে।

মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মনমোহনের বাড়ি গিয়ে দেখা করেছিলেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর ছেড়ে যাওয়া ৭ নম্বর রেসকোর্স রোডের বাসভবনেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সোনিয়াকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ডাকেননি কখনও। তাই প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া কতটা ঠিক হবে,তা নিয়ে কংগ্রেসের ভিতরেও মতপার্থক্য ছিল। দলের অনেকেই বলেছেন, লোকসভা নির্বাচনে বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে আসার পর থেকে মোদী ঔদ্ধত্য ও অহঙ্কার দেখিয়ে এসেছেন। এখন বিহার নির্বাচনে ভরাডুবির পর তিনি নমনীয় ভাব দেখাচ্ছেন। এটিও তাঁর আসল চরিত্র নয়। ফলে তাঁদের ফাঁদে পা দেওয়া উচিত নয়। মনমোহনের সঙ্গে এ নিয়ে আলাদা বৈঠক করেন সোনিয়া। পরে অবশ্য মনমোহন বলেন, ‘কী বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জানি না। গিয়ে দেখব।’ সোনিয়ামনমোহনকে আমন্ত্রণ জানানোর সময় রাহুলকে ডাকা নিয়েও বিজেপির মধ্যে একটি ভাবনা ছিল। কিন্তু আপত্তি ওঠে, পরিবারতন্ত্রকে প্রশ্রয় দিয়ে লাভ নেই। বিজেপি মনে করছে, এ নিয়ে রাহুল ক্ষুব্ধ। মোদীর কাজের শৈলী নিয়ে রাহুলের মন্তব্যে তারই প্রকাশ ঘটেছে। জিএসটি বা অন্য বিল পাশের দায়ে সরকারের সুর বদলালেও বিজেপি যে রাজনীতির জমি আদৌ ছাড়ছে না,রাহুলকে না ডাকার মধ্যেই সেটি বেশ স্পষ্ট।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন