আজ শনিবার, ১৮ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



নতুন ধারার রাজনীতি, অর্থনৈতিক বিপ্লবের রূপকল্প পেশ খালেদার

Published on 11 May 2017 | 3: 01 am

২০৩০ সালে দেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, ‘দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ’ ও ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য আনা’সহ ২৫৬ দফা সম্বলিত ‘ভিশন ২০৩০’ তুলে ধরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বুধবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে রাজনীতিতে নতুন ধারা ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি সম্বলিত এ রূপকল্প তুলে ধরেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণ সব উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। যেসব বাধা জনগণের মেধা, শ্রম, উদ্যোগ ও উৎসাহকে দমিয়ে দেয় সেগুলোকে দূর করে বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, আধুনিক ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি ‘ভিশন ২০৩০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিক ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে সক্রিয় সমর্থন জানাবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি কীভাবে দেশ গড়ে তুলতে চায়, কী কী বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে চায়- এর রোডম্যাপও রয়েছে এ ভিশনে। এই ভিশনটি বই আকারে প্রকাশ করা হয়। ৪১ পৃষ্টার এই ভিশন বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে।

যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভিশন-২০৩০ তে স্থান পেয়েছে সেগুলোর মধ্যে আছে- ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সব কালা কানুন বাতিল, সংবিধানের পঞ্চদশ ও ষোড়ষ  সংশোধনী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল, বিচারকদের অভিসংশসের ক্ষমতা সংসদের ওপর ন্যাস্তসহ কয়েককটি গণতান্ত্রিক বিধান পুনঃপরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার।

এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় ৫ হাজার মার্কিন ডলার, প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিট করার প্রতিশ্রুতি দেন খালেদা জিয়া।

এ লক্ষ্যে দেশের শিল্প বিকাশে, শিল্প পার্ক ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে শিল্প স্থাপনের জন্য বেসরকারি খাতকে নানা প্রণোদনা, স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান, সুলভ ও সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৫০ লাখ টন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণ, আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক হস্তপেক্ষ বন্ধ, রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকগুলো পরিচালনার ভার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ন্যাস্ত, স্বাস্থবীমা চালু ও গরীব মানুষের জন্য ৫০ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

ভিশন -২০৩০ তে মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক ঘোষণা ও জরিপের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঠিক তালিকা প্রনয়ণ, উচ্চ পর্যায়ের জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন,  মুক্তিযোদ্ধা ও উপজাতি ছাড়া সব কোটা বাতিল, শিক্ষা চ্যানেল চালু, সংসদের দুটি স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধীদলকে দেয়াসহ সংসদকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

গণমাধ্যমের নীতিমালার জন্য সাবেক একজন বিচাপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন এবং সাগর-রুনিসহ সাংবাদিকদের হত্যার বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন খালেদা জিয়া।

বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোয় প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি ‘স্বৈরচারী একনায়কতান্ত্রিক’ শাসনের জন্ম দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিদ্যমান অবস্থার অবসানকল্পে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, সংবিধানে গণভোট ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করা হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রতিশ্রুত দেন, তার দল রাষ্ট্রক্ষমতা পেলে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও কারা ব্যবস্থানায় সংস্কার আনার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করবে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংবিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠা করা হবে ন্যায়পালের পদ।

খালেদা জিয়া জন-আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে রাষ্ট্র পরিচালনা আশা প্রকাশ করে বলেন, সুশাসন, সুনীতি ও সু-সরকারের (থ্রি জি) সমন্বয় ও বৃহত্তর জনগণের সম্মিলনের মাধ্যমে ‘ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ গড়ে তোলা,  বিচার বিভাগের কার্য্কর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করে জনগণের জন্য ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।

অধস্তন আদালতকে নির্বাহী বিভাগের আওতামুক্ত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় স্থাপন, বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থান সংস্কারে একটি উচ্চ পর্যায়ের জুডিসিয়াল কমিশন গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।

খালেদা জিয়া তার ভিশনে আরও জানান, পুলিশের ওপর বিচার বিভাগের তদারিক নিশ্চিত করে জবাবদিহি ও কল্যাণমূলক জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। তথ্য প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করা হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি সৎ সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করবে। প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার জন্য মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ একটি নীতিমালা প্রণয়নে সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট নাগরিক, আইটি বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠন করা হবে।

সস্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে কোনোরকম সন্ত্রাসবাদী তৎপরতাকে বরদাশত করবে না এবং সন্ত্রাসবাদীকে আশ্রয়-প্রশয় দেবে না। একইসঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গঠন এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে উৎসাহিত করবে।

তিনি বলেন, বিএনপি অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি করবে না। একইভাবে তারা (বিএনপি) দৃঢ় অঙ্গীকার করছে যে, অন্য কোনো রাষ্ট্রও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করলে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তুলবে বিএনপি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন